একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম. সায়েদ আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই দুই নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং তা ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন দৃষ্টান্ত
সিনিয়র সচিবের মতে, ই-রিটার্ন ব্যবস্থা শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্পষ্ট প্রতিফলন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি শক্ত উদাহরণ তৈরি হয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ফলে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

লার্নিং সেশনে মূল বক্তব্য
রবিবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মরত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ব্যক্তি করদাতাগণের ইলেকট্রনিক মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল’ বিষয়ক লার্নিং সেশনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লার্নিং সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের সহকারী কমিশনার এ কে এম মনিরুজ্জামান।
সরকারি কর্মচারীর নৈতিক দায়
সিনিয়র সচিব বলেন, সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। তাঁদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও। সরকারি কর্মচারীদের জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এতে সাধারণ জনগণের মধ্যেও কর প্রদানের আগ্রহ ও আস্থা বাড়বে। কারণ, যাঁরা নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরাই যখন কর প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তখন সমাজে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে যায়।

কর ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ই-রিটার্ন দাখিল অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে, যা পুরো কর ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য এই শৃঙ্খলা অপরিহার্য এবং এ বিষয়ে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। ই-রিটার্ন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুফল হলো স্বচ্ছতা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দাখিল করা তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা প্রয়োজনে সহজেই যাচাই করা সম্ভব।
সভায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ. জে. এম. সালাহউদ্দিন নাগরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল আইন ও অধ্যাদেশ একত্রে সংকলন বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















