মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ায় বিশ্ব তেলের সরবরাহ বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে তেল মজুত ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান ও জার্মানি।
হরমুজ প্রণালিতে সংকট
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সামরিক তৎপরতার কারণে এ পথ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা।
জাহাজে হামলার ঘটনা
ব্রিটিশ এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ভেতরে বা আশপাশে তিনটি জাহাজ অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের প্রভাব
হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। যুদ্ধের কারণে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বহু দেশের উদ্বেগ বাড়ছে।
তেল ছাড়ার প্রস্তুতি জাপান ও জার্মানির
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপান ও জার্মানি তাদের কৌশলগত তেল মজুত থেকে তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের সময় বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গভীরভাবে অনুভূত হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















