জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের এক শীর্ষ কমান্ডার। শুক্রবার দুপুরে ঘিরে ফেলার পর বাঁচতে গিয়ে সে এক পরিবারের সদস্যদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশলী অভিযানে পরিবারটি উদ্ধার হয় এবং ঘটনাস্থলেই জঙ্গিটির মৃত্যু হয়।
ঘরের ভেতর জিম্মি নাটক
নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জঙ্গি উসমান যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল, সেখানে থাকা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ও সুনিপুণ পদক্ষেপ নেন। কাঠুয়ার পুলিশ সুপার মোহিতা শর্মা জানান, জিম্মিদের নিরাপদে উদ্ধার করে জঙ্গিটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বনে-পর্বতে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক
২০২৪ সালে ভারতে অনুপ্রবেশ করা উসমান দীর্ঘদিন ধরে বানি ও ভিল্লাওয়ার এলাকার ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ে লুকিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল। প্রাকৃতিক গুহাকে আশ্রয় বানিয়ে সে হামলার পরিকল্পনা করত। তার জড়িত ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ একাধিক প্রাণহানি ঘটে।
গোপন ঘাঁটি ধ্বংসের পর গ্রামে আশ্রয়
টানা কয়েক দিন ধরে চলা তল্লাশি অভিযানে জানুয়ারির সাত তারিখে ভিল্লাওয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে তার তিনটি গোপন আস্তানা ভেঙে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সেই ধাক্কাতেই উসমান গ্রামবাসীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, যা আগে সে এড়িয়ে চলত।

ভানেতার গ্রামে শেষ অভিযান
শুক্রবার দুপুরে ভানেতার গ্রামে একটি বাড়িতে তার উপস্থিতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনী এগোতেই উসমান গুলি চালায় এবং পরিবারটিকে জিম্মি করে। অল্পসংখ্যক সদস্য সাহসিকতার সঙ্গে বাড়িতে ঢুকে তার অস্ত্র কেড়ে নেন, পরিবারটিকে উদ্ধার করেন এবং সন্ত্রাসের অবসান ঘটান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















