চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক চাপের মুখে ইউরোপ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে প্রস্তুত হচ্ছে। দিল্লিতে আসন্ন শীর্ষ বৈঠকে দুই পক্ষ যে বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, তাকে ইতোমধ্যেই ‘সব চুক্তির জননী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
ঐতিহাসিক সমঝোতার দোরগোড়ায়
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, ইউরোপ ও ভারত একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকেই চুক্তির কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত হাত মেলানোর আশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সফরে উরসুলার দিল্লি আগমন
শনিবার রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছান উরসুলা ফন ডার লেয়েন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাণিজ্য ও শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে ভারত ও ইউরোপের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করাই এই সফরের লক্ষ্য।
বাণিজ্যের বাইরে নিরাপত্তা ও কৌশলগত বার্তা
এই সমঝোতা কেবল বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে স্পষ্ট করেছে দুই পক্ষ। ইউরোপীয় পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির শীর্ষ প্রতিনিধি কাজা কালাস বলেছেন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিভাজন ও বলপ্রয়োগে বিধ্বস্ত বিশ্ব ব্যবস্থার সময়ে ভারত ও ইউরোপ আরও কাছাকাছি আসছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার সুরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে যৌথ সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
)
চলাচল চুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
প্রস্তাবিত চুক্তিতে মৌসুমি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও উচ্চ দক্ষ পেশাজীবীদের চলাচল সহজ করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তিকে ভবিষ্যতে যৌথ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ভারত সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে, একই পথে হাঁটছে ইউরোপও।
বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির ফলে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। একদিকে ইউরোপ ভারতের বিশাল বাজারের দিকে তাকিয়ে, অন্যদিকে ভারত বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে অংশীদারিত্ব বিস্তারে আগ্রহী। বর্তমানে বিশ্ব জনসংখ্যা ও মোট উৎপাদনের প্রায় এক চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করে ভারত ও ইউরোপ।

বাণিজ্যে বড় অঙ্কের লেনদেন
দুই পক্ষের মধ্যে পণ্যের বাণিজ্য ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ইউরোপের হিসাব অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পণ্য ও সেবা খাতে লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবু উভয় পক্ষই মনে করছে, সম্ভাবনার তুলনায় এই পরিমাণ এখনও কম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















