১০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

চীনের সঙ্গে চুক্তি করলে কানাডার ওপর শতভাগ শুল্ক বসবে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি বাস্তবায়ন করলে কানাডার ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে কানাডার অর্থনীতি ও সার্বভৌম স্বার্থ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, চীন কানাডাকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য ঢোকানোর চেষ্টা করবে এবং এতে কানাডার ব্যবসা, সামাজিক কাঠামো ও জীবনধারা ধ্বংসের দিকে যাবে। তাঁর ভাষায়, চীন কানাডাকে পুরোপুরি গ্রাস করবে—এটি যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হতে দেবে না।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলো, যখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি চীন সফর করে দুই দেশের টানাপোড়েন কমাতে উদ্যোগ নেন এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান।

Trump threatens Canada with 100% tariff over pending trade deal with China  - The Korea Times

কানাডার অবস্থান ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কার্নি কানাডার নাগরিকদের দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদেশি চাপের মুখে কানাডাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোতেই মনোযোগ দিতে হবে। অন্য দেশ কী করবে তা তাদের হাতে নেই, তবে কানাডিয়ানরা নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হতে পারে।

কানাডা সরকারও স্পষ্ট করেছে, চীনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে হাঁটার প্রশ্ন নেই। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে কয়েকটি জটিল শুল্ক ইস্যুর সমাধান হয়েছে মাত্র।

Trump threatens Canada with 100% tariffs over China trade deal : NPR

চীনের প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক বার্তা
কানাডায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে কানাডার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং। এই বার্তার মধ্যেও ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থান দুই মিত্র দেশের সম্পর্কে চাপ বাড়াচ্ছে।

শিল্পখাতে বাড়তি চাপের আশঙ্কা
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি বাস্তবে রূপ নিলে কানাডার শিল্পখাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষ করে ধাতু উৎপাদন, গাড়ি শিল্প ও যন্ত্রপাতি খাত যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের সরাসরি প্রভাব অনুভব করবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, কানাডাকে ব্যবহার করে চীন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়িয়ে পণ্য পাঠাতে চাইলে তা কঠোরভাবে ঠেকানো হবে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রশ্ন
সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার যুগ শেষের পথে এবং মাঝারি শক্তির দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, না হলে বড় শক্তির আধিপত্যের শিকার হতে হবে।

এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারত না। তবে কার্নি এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, নিজেদের পরিচয় ও সক্ষমতার কারণেই সমৃদ্ধ।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধীদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

সম্পর্কের অবনতি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
একসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ট্রাম্প-কানাডা সম্পর্ক দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য চুক্তিকেও ট্রাম্প গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও অতীতে একাধিক শুল্ক হুমকি আলোচনার মাধ্যমে স্থগিত বা প্রত্যাহার করেছেন তিনি।

কানাডার ব্যবসায়ীরা দ্রুত সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা সরাসরি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

চীনের সঙ্গে চুক্তি করলে কানাডার ওপর শতভাগ শুল্ক বসবে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

১২:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি বাস্তবায়ন করলে কানাডার ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে কানাডার অর্থনীতি ও সার্বভৌম স্বার্থ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, চীন কানাডাকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য ঢোকানোর চেষ্টা করবে এবং এতে কানাডার ব্যবসা, সামাজিক কাঠামো ও জীবনধারা ধ্বংসের দিকে যাবে। তাঁর ভাষায়, চীন কানাডাকে পুরোপুরি গ্রাস করবে—এটি যুক্তরাষ্ট্র কখনোই হতে দেবে না।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলো, যখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি চীন সফর করে দুই দেশের টানাপোড়েন কমাতে উদ্যোগ নেন এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান।

Trump threatens Canada with 100% tariff over pending trade deal with China  - The Korea Times

কানাডার অবস্থান ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কার্নি কানাডার নাগরিকদের দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদেশি চাপের মুখে কানাডাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোতেই মনোযোগ দিতে হবে। অন্য দেশ কী করবে তা তাদের হাতে নেই, তবে কানাডিয়ানরা নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হতে পারে।

কানাডা সরকারও স্পষ্ট করেছে, চীনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে হাঁটার প্রশ্ন নেই। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে কয়েকটি জটিল শুল্ক ইস্যুর সমাধান হয়েছে মাত্র।

Trump threatens Canada with 100% tariffs over China trade deal : NPR

চীনের প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক বার্তা
কানাডায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে কানাডার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং। এই বার্তার মধ্যেও ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থান দুই মিত্র দেশের সম্পর্কে চাপ বাড়াচ্ছে।

শিল্পখাতে বাড়তি চাপের আশঙ্কা
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি বাস্তবে রূপ নিলে কানাডার শিল্পখাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষ করে ধাতু উৎপাদন, গাড়ি শিল্প ও যন্ত্রপাতি খাত যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের সরাসরি প্রভাব অনুভব করবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, কানাডাকে ব্যবহার করে চীন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়িয়ে পণ্য পাঠাতে চাইলে তা কঠোরভাবে ঠেকানো হবে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রশ্ন
সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার যুগ শেষের পথে এবং মাঝারি শক্তির দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, না হলে বড় শক্তির আধিপত্যের শিকার হতে হবে।

এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারত না। তবে কার্নি এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, নিজেদের পরিচয় ও সক্ষমতার কারণেই সমৃদ্ধ।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধীদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

সম্পর্কের অবনতি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
একসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ট্রাম্প-কানাডা সম্পর্ক দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য চুক্তিকেও ট্রাম্প গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও অতীতে একাধিক শুল্ক হুমকি আলোচনার মাধ্যমে স্থগিত বা প্রত্যাহার করেছেন তিনি।

কানাডার ব্যবসায়ীরা দ্রুত সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা সরাসরি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।