০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়, মধ্যবিত্তের ভঙ্গুর ভবিষ্যতেরও প্রতিচ্ছবি বৈদেশিক ঋণের চাপে বাংলাদেশ চরাচর মহানন্দা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ পুলিশের গাজীপুরে ২০ কিলোমিটার যানজট, ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি ঈদযাত্রায় বাড়তে পারে হামের সংক্রমণ, সতর্ক করলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ‘দ্য জাপানিজ ওয়ে অব প্যারেন্টিং’ বইয়ে জাপানি মাতৃত্বের অদৃশ্য শ্রম ও আধুনিক পরিবারের নতুন প্রশ্ন স্টার ওয়ার্সের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন, ডিজনির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নিখোঁজ বৃদ্ধদের অদৃশ্য ট্র্যাজেডি: বার্ধক্য, ডিমেনশিয়া ও সমাজের ব্যর্থতা ই-কমার্স আইনে রাইড-হেইলিং অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ায়

এই চিঠির স্থান কোন জাদুঘরে হবে শাওনের প্রশ্নে কারা ফটকের কান্না

“কোনো জাদুঘরে কি এই চিঠির স্থান হবে মাননীয় উপদেষ্টাদের দলের?”—কারাগারে বসে লেখা একটি চিঠিকে সামনে রেখে এই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে নয় মাস বয়সী মৃত সন্তানকে কোলে নেওয়ার সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্তের বর্ণনা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে তিনি তুলে ধরেন এক নির্মম বাস্তবতার ছবি।

শাওন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন লেখা প্রকাশ করেন। পোস্টটির সঙ্গে যুক্ত করেন কারাবন্দি অবস্থায় লেখা জুয়েল হাসান সাদ্দামের একটি চিঠির ছবি। চিঠির শেষ দুই লাইনে লেখা ছিল, “মায়ের দিকে খেয়াল রাখিস। আমার ছেলেটাকে কোলে নিতে পারলাম না—এইটাই কষ্ট।”

শাওন লেখেন, ছেলেটা আজ তার বাবার কোলে উঠেছে। তবে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজেই সংশোধন করেন—কারা ফটকে সাদ্দাম আজ তার নয় মাস বয়সী ‘মৃত’ ছেলেটাকেই প্রথমবারের মতো কোলে নিয়েছেন।

সাদ্দাম আপনি কাঁদেন, অনেক কাঁদেন': শাওন

পোস্টে আরও বলা হয়, সংবাদে দেখা গেছে—মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে সাদ্দাম তার স্ত্রীর মরদেহ স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই দৃশ্য ছিল অসহনীয়, নির্বাক করে দেওয়ার মতো।

সাদ্দামের উদ্দেশে শাওন লেখেন, “সাদ্দাম, আপনি কাঁদেন, অনেক কাঁদেন, চিৎকার করে কাঁদেন। তারপর অভিশাপ দেন সেই মানুষরূপী অমানুষগুলোকে, যাদের কারণে আজ আপনার এই দিন দেখতে হলো।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি আবারও প্রশ্ন তোলেন—কোনো জাদুঘরে কি এই চিঠির স্থান হবে মাননীয় উপদেষ্টাদের দলের?

উল্লেখ্য, স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিমের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না পাওয়ায় বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকেই শেষবারের মতো তাদের মরদেহ দেখেন। শনিবার সন্ধ্যায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারা ফটকে পৌঁছালে কারা কর্তৃপক্ষ পাঁচ মিনিটের জন্য ছয়জন স্বজনসহ সাদ্দামকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়।

পুলিশ জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ ও তার শিশুসন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে হতাশাজনিত কারণে সন্তান হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি থাকায় সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নাকচ হলে মরদেহ কারা ফটকে আনার ব্যবস্থা করা হয় বলে স্বজনেরা জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুপিয়ার দুর্বলতা শুধু মুদ্রাবাজারের সংকট নয়, মধ্যবিত্তের ভঙ্গুর ভবিষ্যতেরও প্রতিচ্ছবি

এই চিঠির স্থান কোন জাদুঘরে হবে শাওনের প্রশ্নে কারা ফটকের কান্না

১১:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

“কোনো জাদুঘরে কি এই চিঠির স্থান হবে মাননীয় উপদেষ্টাদের দলের?”—কারাগারে বসে লেখা একটি চিঠিকে সামনে রেখে এই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে নয় মাস বয়সী মৃত সন্তানকে কোলে নেওয়ার সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্তের বর্ণনা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে তিনি তুলে ধরেন এক নির্মম বাস্তবতার ছবি।

শাওন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন লেখা প্রকাশ করেন। পোস্টটির সঙ্গে যুক্ত করেন কারাবন্দি অবস্থায় লেখা জুয়েল হাসান সাদ্দামের একটি চিঠির ছবি। চিঠির শেষ দুই লাইনে লেখা ছিল, “মায়ের দিকে খেয়াল রাখিস। আমার ছেলেটাকে কোলে নিতে পারলাম না—এইটাই কষ্ট।”

শাওন লেখেন, ছেলেটা আজ তার বাবার কোলে উঠেছে। তবে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজেই সংশোধন করেন—কারা ফটকে সাদ্দাম আজ তার নয় মাস বয়সী ‘মৃত’ ছেলেটাকেই প্রথমবারের মতো কোলে নিয়েছেন।

সাদ্দাম আপনি কাঁদেন, অনেক কাঁদেন': শাওন

পোস্টে আরও বলা হয়, সংবাদে দেখা গেছে—মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে সাদ্দাম তার স্ত্রীর মরদেহ স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই দৃশ্য ছিল অসহনীয়, নির্বাক করে দেওয়ার মতো।

সাদ্দামের উদ্দেশে শাওন লেখেন, “সাদ্দাম, আপনি কাঁদেন, অনেক কাঁদেন, চিৎকার করে কাঁদেন। তারপর অভিশাপ দেন সেই মানুষরূপী অমানুষগুলোকে, যাদের কারণে আজ আপনার এই দিন দেখতে হলো।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি আবারও প্রশ্ন তোলেন—কোনো জাদুঘরে কি এই চিঠির স্থান হবে মাননীয় উপদেষ্টাদের দলের?

উল্লেখ্য, স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিমের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না পাওয়ায় বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকেই শেষবারের মতো তাদের মরদেহ দেখেন। শনিবার সন্ধ্যায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারা ফটকে পৌঁছালে কারা কর্তৃপক্ষ পাঁচ মিনিটের জন্য ছয়জন স্বজনসহ সাদ্দামকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়।

পুলিশ জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ ও তার শিশুসন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে হতাশাজনিত কারণে সন্তান হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি থাকায় সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নাকচ হলে মরদেহ কারা ফটকে আনার ব্যবস্থা করা হয় বলে স্বজনেরা জানান।