যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার কাছে ফুলটন কাউন্টির একটি নির্বাচনী দপ্তরে বুধবার তল্লাশি চালিয়েছে ফেডারেল তদন্ত সংস্থা। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ব্যাপক জালিয়াতির যে দাবি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করে আসছেন, সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান বলে জানানো হয়েছে।
ফেডারেল তদন্ত সংস্থার সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনিয়ন সিটিতে অবস্থিত ফুলটন কাউন্টি ইলেকশন হাব ও অপারেশন সেন্টারে আদালতের অনুমোদিত আইনি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তল্লাশি চালানো হয়েছে। বিশাল গুদামঘর সদৃশ এই কেন্দ্রটি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য সরকার ২০২৩ সালে চালু করে। রাতেই তল্লাশি কার্যক্রম শেষ হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান।

কী খুঁজছে তদন্ত সংস্থা
ফুলটন কাউন্টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২০ সালের নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি জব্দের লক্ষ্যেই এই তল্লাশি। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ওই কেন্দ্রে থাকা কম্পিউটার ও ব্যালট জব্দের চেষ্টা করা হয়। সম্ভাব্য নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন জর্জিয়ায় অল্প ব্যবধানে জয় পান। রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প তখন পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবার প্রেসিডেন্ট হন।
স্থানীয় প্রশাসনে ক্ষোভ
ফুলটন কাউন্টির কমিশনার মো আইভরি নিশ্চিত করেন, ফেডারেল কর্মকর্তারা একটি নিরাপদ স্থান থেকে প্রায় সাতশ বাক্স ব্যালট সংগ্রহ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের সুবিধা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে গিয়ে আইভরি এই তল্লাশিকে ভোটারদের ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ফেডারেল হস্তক্ষেপ ঠেকাতে কী ধরনের আইনি পথ নেওয়া যায়, তা নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তারা ভাবছেন।

ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তল্লাশির সময় জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ঘরোয়া আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে তার উপস্থিতিকে সাবেক কর্মকর্তারা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। জানা গেছে, ট্রাম্পের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে ফেডারেল বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি উদ্যোগে তিনি জড়িত ছিলেন।
এই তল্লাশি এমন সময় হলো, যখন ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আবারও দাবি করেন যে ২০২০ সালের নির্বাচন ছিল সাজানো। সেখানে তিনি বলেন, যারা এতে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যালট নিয়ে আইনি লড়াই
গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন আলাদাভাবে ফুলটন কাউন্টির ২০২০ সালের ব্যালট দখলের জন্য মামলা করে। সেই মামলায় ফেডারেল আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে আদালতের ক্লার্ককে ব্যালট ও সংশ্লিষ্ট নথি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ক্লার্ক আদালতে জানিয়েছেন, এসব ব্যালট অঙ্গরাজ্যের আইনে সিলগালা করা এবং তা খোলার সিদ্ধান্ত কেবল অঙ্গরাজ্য আদালতই নিতে পারে।
পুরোনো চাপ ও নতুন মামলা
২০২০ সালের ফল পাল্টাতে ট্রাম্প জর্জিয়ার শীর্ষ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিয়েছিলেন বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। একাধিক পুনর্গণনা ও হাতে করা নিরীক্ষায় বাইডেনের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ মাসেই ট্রাম্প অঙ্গরাজ্যের আদালতে আরেকটি আবেদন করে দাবি করেন, নির্বাচনী হস্তক্ষেপ মামলায় লড়তে তার ছয় দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এবং সেই অর্থ ফেরত চান।
বিচার বিভাগ নিয়ে বিতর্ক
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিচার বিভাগ জর্জিয়া ছাড়াও একাধিক অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে ভোটার তথ্য চেয়ে মামলা করেছে। অঙ্গরাজ্যগুলো এটিকে অসাংবিধানিক বলে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি আদালত এসব মামলা খারিজ করে দিয়েছে। গত এক বছরে ট্রাম্পের সমালোচক বা তার কর্মসূচির বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের অভিযোগ ও জোরালো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















