নির্বাচন কমিশনের ব্যয় অনুমান
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একটি গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বুধবার নির্বাচন কমিশন এই বাজেট অনুমোদন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাব
মোট বরাদ্দের মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া গণভোট, ডাকযোগে ভোট প্রদান এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে আরও ৫০০ কোটি টাকা।

ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এই বরাদ্দ আরও বাড়তে পারে। অতীতে ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় ছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।
ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের ব্যয় বৃদ্ধি স্বাভাবিক। কারণ এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে প্রচলিত ব্যালটের পাশাপাশি ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। তার মতে, একাধিক ভোট প্রক্রিয়া একসঙ্গে পরিচালনা করায় খরচ আগের তুলনায় বেশি হওয়াই প্রত্যাশিত।
নির্বাচন ও গণভোটের সময়সূচি
গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বা সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ সংক্রান্ত গণভোট।

নতুন ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি-সমর্থিত হাইব্রিড ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থা চালু করেছে। ডিজিটাল নিবন্ধন ও ম্যানুয়াল ব্যালটের সমন্বয়ে এই পদ্ধতিতে ১২০টিরও বেশি দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ভোট দিতে পারবেন।
দেশের ভেতরে প্রয়োগ
এছাড়া দেশের ভেতরে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনগত হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই নতুন ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থার প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















