০২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে যুক্তরাজ্যের সতর্কতা একদিনেই বড় উল্লম্ফন, দেশে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ব্যবহার, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে ঘিরে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন গোপালগঞ্জে জেলা জজের বাসভবনে ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ জড়ো; ঘরে ঘরে ক্ষোভে চাপে অভিবাসন নীতি স্বর্ণে ইতিহাস, প্রথমবার ছাড়াল পাঁচ হাজার তিনশ ডলার ওসাকার খাদ্যনগরীতে নীরব বিস্ময়, এক্সপো পেরিয়েও আলোচনায় আমিরাতি রেস্তোরাঁ জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সংযুক্ত আরব আমিরাত-পাকিস্তান কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের

গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া তিন বছরের শিশু মেজবাহ আর বেঁচে নেই। উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

ঘটনার সময় ও উদ্ধার কার্যক্রম
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জয়নগর বড়ুয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রামে শিশুটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত সোয়া আটটার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়।

গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের ঘোষণা
উদ্ধারের পরপরই মেজবাহকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ ও গর্তের পটভূমি
শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের গর্তটি তিন বছর আগে একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় টিউবওয়েল পাইপ স্থাপনের জন্য খোঁড়া হয়েছিল। কাজ শেষ হলেও গর্তটি নিরাপদভাবে ভরাট করা হয়নি।

মেজবাহর মা রাশেদা বেগম বলেন, তাদের ঘরের পাশের ঢালু স্থানে ওই গর্তটি করা হয়েছিল। পরে খড়কুটো ফেলে ভরাটের চেষ্টা করা হলেও সেটি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বুধবার বিকেলে তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর শিশুটি পাশে খেলছিল। কখন যে গর্তে পড়ে যায়, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পরে কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখেন, গর্তের ভেতর থেকে ‘আম্মু, আম্মু’ বলে চিৎকার করছে তার ছেলে।

গভীর নলকূপের গর্তে পড়া শিশুটি মারা গেছে

পুলিশের বক্তব্য
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সরকারি প্রকল্পের কাজের জন্যই ওই গর্তটি করা হয়েছিল। উদ্ধার শেষে শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত প্রকল্পের গর্ত ও অবকাঠামো দ্রুত নিরাপদ করার দাবি উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে যুক্তরাজ্যের সতর্কতা

গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

০১:০০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া তিন বছরের শিশু মেজবাহ আর বেঁচে নেই। উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

ঘটনার সময় ও উদ্ধার কার্যক্রম
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জয়নগর বড়ুয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রামে শিশুটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত সোয়া আটটার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়।

গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের ঘোষণা
উদ্ধারের পরপরই মেজবাহকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ ও গর্তের পটভূমি
শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের গর্তটি তিন বছর আগে একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় টিউবওয়েল পাইপ স্থাপনের জন্য খোঁড়া হয়েছিল। কাজ শেষ হলেও গর্তটি নিরাপদভাবে ভরাট করা হয়নি।

মেজবাহর মা রাশেদা বেগম বলেন, তাদের ঘরের পাশের ঢালু স্থানে ওই গর্তটি করা হয়েছিল। পরে খড়কুটো ফেলে ভরাটের চেষ্টা করা হলেও সেটি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বুধবার বিকেলে তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর শিশুটি পাশে খেলছিল। কখন যে গর্তে পড়ে যায়, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পরে কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখেন, গর্তের ভেতর থেকে ‘আম্মু, আম্মু’ বলে চিৎকার করছে তার ছেলে।

গভীর নলকূপের গর্তে পড়া শিশুটি মারা গেছে

পুলিশের বক্তব্য
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সরকারি প্রকল্পের কাজের জন্যই ওই গর্তটি করা হয়েছিল। উদ্ধার শেষে শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত প্রকল্পের গর্ত ও অবকাঠামো দ্রুত নিরাপদ করার দাবি উঠেছে।