০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
কাগুজে সম্পদের উল্লম্ফন: বিশ্বের সম্পদ কি বাস্তব অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে? মুম্বাইয়ে জেন-জির মুখোমুখি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, ছাত্র বিক্ষোভের পর বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সুপারমার্কেটে বিস্ফোরণ: ধর্মীয় আলেম নিহত, লক্ষ্য করেই বোমা পাতা হয়েছিল সন্দেহ জেন জি বিক্ষোভের রেশের মধ্যেই ব্যাংকিপুর-১৫৬ আসনে প্রশান্ত কিশোরের জয়, তিন উপনির্বাচনে দুই ধাক্কা বিজেপির রূপপুর প্রকল্পের আবাসিকে দুই রুশ নাগরিকের সংঘর্ষ, নিহত ১ রাজবাড়ীতে বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, একই পরিবারের চার সদস্যসহ আহত ৮ শেখ হাসিনা ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে: এনসিপির নাহিদ ইসলামের বক্তব্য গ্যাস সংকট তীব্র: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, রপ্তানি ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে নগরজীবন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় ইতিবাচক বাংলাদেশ, সব সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় স্বার্থে

গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া তিন বছরের শিশু মেজবাহ আর বেঁচে নেই। উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

ঘটনার সময় ও উদ্ধার কার্যক্রম
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জয়নগর বড়ুয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রামে শিশুটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত সোয়া আটটার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়।

গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের ঘোষণা
উদ্ধারের পরপরই মেজবাহকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ ও গর্তের পটভূমি
শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের গর্তটি তিন বছর আগে একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় টিউবওয়েল পাইপ স্থাপনের জন্য খোঁড়া হয়েছিল। কাজ শেষ হলেও গর্তটি নিরাপদভাবে ভরাট করা হয়নি।

মেজবাহর মা রাশেদা বেগম বলেন, তাদের ঘরের পাশের ঢালু স্থানে ওই গর্তটি করা হয়েছিল। পরে খড়কুটো ফেলে ভরাটের চেষ্টা করা হলেও সেটি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বুধবার বিকেলে তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর শিশুটি পাশে খেলছিল। কখন যে গর্তে পড়ে যায়, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পরে কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখেন, গর্তের ভেতর থেকে ‘আম্মু, আম্মু’ বলে চিৎকার করছে তার ছেলে।

গভীর নলকূপের গর্তে পড়া শিশুটি মারা গেছে

পুলিশের বক্তব্য
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সরকারি প্রকল্পের কাজের জন্যই ওই গর্তটি করা হয়েছিল। উদ্ধার শেষে শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত প্রকল্পের গর্ত ও অবকাঠামো দ্রুত নিরাপদ করার দাবি উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাগুজে সম্পদের উল্লম্ফন: বিশ্বের সম্পদ কি বাস্তব অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে?

গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

০১:০০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া তিন বছরের শিশু মেজবাহ আর বেঁচে নেই। উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

ঘটনার সময় ও উদ্ধার কার্যক্রম
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জয়নগর বড়ুয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রামে শিশুটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত সোয়া আটটার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়।

গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকের ঘোষণা
উদ্ধারের পরপরই মেজবাহকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ ও গর্তের পটভূমি
শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের গর্তটি তিন বছর আগে একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় টিউবওয়েল পাইপ স্থাপনের জন্য খোঁড়া হয়েছিল। কাজ শেষ হলেও গর্তটি নিরাপদভাবে ভরাট করা হয়নি।

মেজবাহর মা রাশেদা বেগম বলেন, তাদের ঘরের পাশের ঢালু স্থানে ওই গর্তটি করা হয়েছিল। পরে খড়কুটো ফেলে ভরাটের চেষ্টা করা হলেও সেটি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বুধবার বিকেলে তিনি ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর শিশুটি পাশে খেলছিল। কখন যে গর্তে পড়ে যায়, তা তিনি বুঝতে পারেননি। পরে কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখেন, গর্তের ভেতর থেকে ‘আম্মু, আম্মু’ বলে চিৎকার করছে তার ছেলে।

গভীর নলকূপের গর্তে পড়া শিশুটি মারা গেছে

পুলিশের বক্তব্য
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সরকারি প্রকল্পের কাজের জন্যই ওই গর্তটি করা হয়েছিল। উদ্ধার শেষে শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত প্রকল্পের গর্ত ও অবকাঠামো দ্রুত নিরাপদ করার দাবি উঠেছে।