মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, এখনই আলোচনায় না এলে ইরানকে সামরিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের দিকে আরও মার্কিন নৌবহর এগিয়ে যাওয়ার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি। এই বক্তব্যের পাল্টা জবাবে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, আক্রমণ হলে তার জবাব হবে আগে কখনও দেখা না যাওয়ার মতো।

উপসাগরে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
বুধবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি ন্যায্য চুক্তিতে আসতে হবে। তাঁর দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা অমূলক নয়, এই কর্মসূচির লক্ষ্য পরমাণু অস্ত্র। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আর দেরি করার সুযোগ নেই, সময়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগের হামলার চেয়ে পরবর্তী হামলা আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আরেকটি বিশাল মার্কিন নৌবহর দ্রুত ইরানের দিকে এগোচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন।
প্রতিবাদ, প্রাণহানি আর কড়া ভাষা
ইরানে গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জানুয়ারির শুরুতে চরম আকার নেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, দমন অভিযানে ছয় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক মার্কো রুবিও মন্তব্য করেন, ইরানি নেতৃত্ব ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মারৎসও বলেন, সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দিন গোনা শুরু হয়ে গেছে।

জাতিসংঘে ইরানের বার্তা
ট্রাম্পের হুমকির পর জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা বলে, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় প্রস্তুত ইরান, তবে চাপ প্রয়োগ করা হলে দেশটি আত্মরক্ষা করবে এবং জবাব হবে নজিরবিহীন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যুতে অস্বস্তি
এই বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই নিজ দেশেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছেন ট্রাম্প। কঠোর অভিবাসন নীতি, যা তাঁকে আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরতে সহায়তা করেছিল, এখন উল্টো বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন ইস্যুতে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বিশেষ করে মিনেসোটায় অভিযানের সময় বিক্ষোভে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

দলীয় বিভাজন আর নির্বাচনী শঙ্কা
যদিও রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশ এখনো গণহারে বহিষ্কারের নীতির পক্ষে, দলের ভেতরেই একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করছে, ফেডারেল বাহিনীর কৌশল মাত্রাতিরিক্ত কঠোর। মাঝারি ও নিরপেক্ষ ভোটাররা এতে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন, এমন আশঙ্কা করছেন কৌশলবিদরা। হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, জনগণের নিরাপত্তাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য এবং বিপজ্জনক অপরাধীদের সরানোই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
নীতিতে সামান্য নমনীয়তার ইঙ্গিত
চাপ সামাল দিতে মিনেসোটায় অভিযানের তদারকিতে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সেখানে মোতায়েন বাহিনীর সংখ্যা কমানো এবং অভিযানকে সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ঝুঁকি বুঝে নেওয়ার ফল, নাকি কেবল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















