মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন রণতরীবহর মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যেতে রাজি নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে পর্দার আড়ালে একাধিক আরব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে তেহরান। সামরিক চাপ দিয়ে কূটনীতি কার্যকর হয় না—এই বার্তাই বারবার তুলে ধরছেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব।
সামরিক চাপের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বীকৃতি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সামরিক হুমকির মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে না। তাঁর ভাষায়, আলোচনা চাইলে হুমকি, অযৌক্তিক দাবি ও অস্বাভাবিক শর্ত থেকে সরে আসতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূতের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং ইরান নিজে থেকে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরীর বহর
মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, একটি বিমানবাহী রণতরী নেতৃত্বাধীন নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন সামরিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ হামলার সম্ভাবনাও উসকে দিচ্ছে।
আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের যোগাযোগ
এই পরিস্থিতিতে ইরান সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ একাধিক আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ফোনালাপের পর কাতার ও মিসরের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। কাতার জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মিসরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ ফের শুরু করার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

বিক্ষোভ দমন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। একটি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যাদের বড় অংশই বিক্ষোভকারী। গ্রেপ্তার হয়েছে চল্লিশ হাজারের বেশি মানুষ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ড ও বাড়তে থাকা উদ্বেগ
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, বিক্ষোভে জড়িতদের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের পথ খুলে যেতে পারে। বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়তে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের এই সমান্তরাল বাস্তবতা অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















