বিশ্বের শীর্ষ জীবনধারা ও বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে দুবাইয়ের আবেদন দিন দিন বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় ব্র্যান্ডেড আবাসনের ক্ষেত্রেও শহরটি এখন বিশ্বনেতা। গত বছরে একের পর এক নতুন প্রকল্প ঘোষণার পাশাপাশি মিলিয়নিয়ার ক্রেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দুবাইকে এই খাতে আরও এগিয়ে দিয়েছে।
স্যাভিলসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই হাজার পঁচিশ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ডেড আবাসন প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়শ দশে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় উনিশ শতাংশ বেশি। শুধু এক বছরেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে দুই শতাধিক প্রকল্প। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে গত পাঁচ বছরে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় একশ সাতাশি শতাংশ, যার বড় চালিকাশক্তি দুবাই ও উপসাগরীয় অঞ্চল।

অঞ্চলভিত্তিক চিত্রে দুবাই একাই সম্পন্ন করেছে চৌষট্টি প্রকল্প এবং নির্মাণাধীন রয়েছে আরও সাতাশি। দক্ষিণ ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্ক থাকলেও ব্যবধান স্পষ্ট। স্যাভিলসের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্র্যান্ডেড আবাসনের সংখ্যায় দুবাই শীর্ষে, এরপর মিয়ামি, নিউইয়র্ক, সাও পাওলো, লন্ডনসহ অন্যান্য বড় শহর।
করব্যবস্থা ও মূলধনের নিরাপত্তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। দুবাইয়ের করসুবিধা ও আর্থিক দক্ষতা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিলাসবহুল পণ্যের বৈচিত্র্য এবং নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ এই আগ্রহ ধরে রাখছে।

নতুন প্রকল্প ও বাজারের বিস্তার
সম্প্রতি স্থানীয় ডেভেলপার বিংহাত্তি প্রায় ত্রিশ বিলিয়ন দিরহাম মূল্যের বহুতল মার্সিডিজ বেঞ্জ প্লেসেস প্রকল্প চালু করেছে, যা বাজারে হাজারো নতুন ইউনিট যোগ করেছে। একই সময়ে জেডব্লিউ ম্যারিয়ট রেসিডেন্সেসও দুবাইয়ে ব্র্যান্ডেড আবাসন চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বর্তমানে শহরটিতে সক্রিয় ব্র্যান্ডেড আবাসন প্রকল্পের সংখ্যা প্রায় একশ পঞ্চাশ।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নতুন গন্তব্য
রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই হাজার ত্রিশ সালের মধ্যে দুবাইয়ে ব্র্যান্ডেড আবাসনের সংখ্যা প্রায় আশি শতাংশ বেড়ে আড়াইশতে পৌঁছাতে পারে। এই ধরনের আবাসন শুধু বিলাস নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট জীবনধারায় বিনিয়োগের প্রতীক। পাশাপাশি রাস আল খাইমাহ ও আবুধাবির মতো উদীয়মান গন্তব্যও বিনিয়োগকারীদের নজরে আসছে। প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাস আল খাইমাহতেই নির্মাণাধীন রয়েছে চব্বিশটি প্রকল্প।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















