যুক্তরাষ্ট্র চলতি মাসে জব্দ করা একটি তেলবাহী ট্যাংকার ভেনেজুয়েলার কাছে হস্তান্তর করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত তেল পরিবহনের জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন। সেই প্রেক্ষাপটে এই হস্তান্তরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
কোন জাহাজটি ফেরত যাচ্ছে
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পানামা পতাকাবাহী সুপার ট্যাংকার এম টি সোফিয়া ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া হচ্ছে। কেন এই জাহাজ ফেরত দেওয়া হলো, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। জাহাজটি চলতি জানুয়ারিতে পুয়ের্তো রিকোর উপকূলে নোঙর করা অবস্থায় ছিল।

কীভাবে জব্দ হয়েছিল সোফিয়া
চলতি বছরের সাত জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী যৌথভাবে সোফিয়াকে আটক করে। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এই জাহাজটি রাষ্ট্রহীন এবং তথাকথিত অন্ধকার বহরের অংশ। আটক হওয়ার সময় জাহাজটিতে তেল ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ অভিযান
গত বছরের শেষ দিক থেকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত তেল ট্যাংকার জব্দে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। এসব জাহাজের বেশিরভাগই বিশ বছরের বেশি পুরোনো, যেগুলোর নিরাপত্তা সনদ ও পর্যাপ্ত বিমা নেই বলে জানিয়েছেন শিপিং বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পুরোনো ট্যাংকার সংঘর্ষ বা তেল ছড়িয়ে পড়ার মতো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। যথাযথ বিমা না থাকায় ক্ষতিপূরণ আদায় বা দায় নির্ধারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণেই এসব জাহাজ আন্তর্জাতিক নৌপথে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের কৌশল
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেন। পরে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে জানুয়ারির শুরুতে নাটকীয় সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন তিনি। এরপর ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে বলেন ট্রাম্প।

নীরবতা দুই পক্ষেই
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড কিংবা ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে ট্যাংকার ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















