০৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সামরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক জোরদারে বার্তা মামলা দিয়ে বাণিজ্য, ভোটে এসে প্রত্যাহারের লোভ দেখানো হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম ম্যালেরিয়া টিকায় ঘানায় শিশু মৃত্যু প্রায় শূন্যে, কিন্তু বিদেশি সহায়তা কমায় নতুন আশঙ্কা চীনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, স্টারমার ও শি বৈঠকে অর্থনৈতিক জোটের বার্তা রিটেইল খাতে ২ হাজার তরুণের কর্মসংস্থান, ২০ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্র্যাকের সমঝোতা পল্লবীতে ভোরের সন্ত্রাস, দোকান মালিককে গুলি করে টাকা ছিনতাই শেরপুরের সংঘর্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি বিএনপির ভারত থেকে ফিরলেন ১২৮ বাংলাদেশি জেলে, সমুদ্রসীমায় সম্পন্ন পারস্পরিক প্রত্যাবাসন ডিম হামলা, হাতাহাতি, ভাঙচুর; ভোটের মাঠে কথার লড়াই কি সংঘাতে গড়াচ্ছে? জব্দ ট্যাংকার ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন সমীকরণ

শেরপুরের সংঘর্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি বিএনপির

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, এই ঘটনা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন বলেন, শেরপুরে যে কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ হয়েছে, সেটি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত ছিল। সেখানে প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ ছিল। তা সত্ত্বেও কেন একটি দল নির্ধারিত সময়ের আগেই সব চেয়ার দখল করল, কেন সেখানে লাঠিসোঁটা আনা হলো এবং কেন বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হলো—এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।

আসন দখল নিয়ে অভিযোগ

মাহদি আমিন অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীরা সব চেয়ার দখল করে নেন এবং প্রশাসনের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্ধারিত আসনে বসতে দেননি। তিনি বলেন, বসার মতো সামান্য একটি বিষয় নিয়ে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিল, সহিংসতা নয়।

এড়ানো যেত কি না সেই প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই সংঘর্ষ আদৌ এড়ানো যেত কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

ভিডিওতে উঠে আসা চিত্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে মাহদি আমিন বলেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশ, প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতারাও জামায়াত প্রার্থীকে একটি নির্দিষ্ট পথে না যেতে বারবার অনুরোধ করছেন। কিন্তু সব অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি সেই পথেই এগিয়ে যান এবং বারবার বলতে শোনা যায়, প্রয়োজনে প্রাণ গেলেও যাবে।

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

হতাহত নিয়ে শোক ও উদ্বেগ

এই সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু গভীরভাবে দুঃখজনক উল্লেখ করে মাহদি আমিন বলেন, নিহত ব্যক্তি যে দলেরই হোন না কেন, প্রাণহানি কখনোই কাম্য নয়। তিনি জানান, এই ঘটনায় বিএনপির অন্তত চল্লিশ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ই লক্ষ্য

নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে দলটি ক্ষমতায় আসবে—এমন বিশ্বাস মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে রয়েছে। তবে বিএনপির প্রধান লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, বরং একটি শান্তিপূর্ণ ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে কেউ নির্বাচনকে ঘিরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে। এটা শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের জন্য ও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান

মাহদি আমিন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। একই সঙ্গে তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি উসকানিতে না জড়িয়ে শান্ত ও সম্মানজনক প্রচার চালানোর অনুরোধ জানান।

দায়িত্বশীল রাজনীতির আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক একটি মিছিল ও বিএনপিকে ঘিরে প্রচারণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন ও ছোট ঘটনাকে বড় করে তুলে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি দোষারোপের রাজনীতি নয়, ইতিবাচক রাজনীতি চায়।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিএনপি স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছে, যেন দেশের কোথাও এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। মানুষ প্রত্যাশা করে সব রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ করবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় থাকলে সবাই মিলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সামরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক জোরদারে বার্তা

শেরপুরের সংঘর্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি বিএনপির

০৫:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, এই ঘটনা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন বলেন, শেরপুরে যে কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ হয়েছে, সেটি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত ছিল। সেখানে প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ ছিল। তা সত্ত্বেও কেন একটি দল নির্ধারিত সময়ের আগেই সব চেয়ার দখল করল, কেন সেখানে লাঠিসোঁটা আনা হলো এবং কেন বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হলো—এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।

আসন দখল নিয়ে অভিযোগ

মাহদি আমিন অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীরা সব চেয়ার দখল করে নেন এবং প্রশাসনের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্ধারিত আসনে বসতে দেননি। তিনি বলেন, বসার মতো সামান্য একটি বিষয় নিয়ে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিল, সহিংসতা নয়।

এড়ানো যেত কি না সেই প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই সংঘর্ষ আদৌ এড়ানো যেত কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

ভিডিওতে উঠে আসা চিত্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে মাহদি আমিন বলেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশ, প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতারাও জামায়াত প্রার্থীকে একটি নির্দিষ্ট পথে না যেতে বারবার অনুরোধ করছেন। কিন্তু সব অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি সেই পথেই এগিয়ে যান এবং বারবার বলতে শোনা যায়, প্রয়োজনে প্রাণ গেলেও যাবে।

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

হতাহত নিয়ে শোক ও উদ্বেগ

এই সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু গভীরভাবে দুঃখজনক উল্লেখ করে মাহদি আমিন বলেন, নিহত ব্যক্তি যে দলেরই হোন না কেন, প্রাণহানি কখনোই কাম্য নয়। তিনি জানান, এই ঘটনায় বিএনপির অন্তত চল্লিশ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ই লক্ষ্য

নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে দলটি ক্ষমতায় আসবে—এমন বিশ্বাস মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে রয়েছে। তবে বিএনপির প্রধান লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, বরং একটি শান্তিপূর্ণ ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে কেউ নির্বাচনকে ঘিরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে। এটা শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের জন্য ও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান

মাহদি আমিন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। একই সঙ্গে তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি উসকানিতে না জড়িয়ে শান্ত ও সম্মানজনক প্রচার চালানোর অনুরোধ জানান।

দায়িত্বশীল রাজনীতির আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক একটি মিছিল ও বিএনপিকে ঘিরে প্রচারণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন ও ছোট ঘটনাকে বড় করে তুলে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি দোষারোপের রাজনীতি নয়, ইতিবাচক রাজনীতি চায়।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিএনপি স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছে, যেন দেশের কোথাও এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। মানুষ প্রত্যাশা করে সব রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ করবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় থাকলে সবাই মিলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।