মেলবোর্ন পার্কে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন ইতালির ইয়ানিক সিনার। কোয়ার্টার ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বাছাই বেন শেল্টনকে সোজা সেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। এই জয়ের ফলে আসন্ন সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ দশবারের শিরোপাজয়ী নোভাক জকোভিচ, যা ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ হয়ে উঠেছে।
শেল্টনের বিপক্ষে সিনারের নিয়ন্ত্রণ
ম্যাচে শুরু থেকেই দৃঢ়তা দেখান দ্বিতীয় বাছাই সিনার। শক্তিশালী সার্ভ ও আক্রমণাত্মক খেলায় পরিচিত শেল্টনকে সামলে তিনি ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট তুলে নেন। এই জয়ের মাধ্যমে শেল্টনের বিপক্ষে টানা নবম ম্যাচেও জয় পেলেন সিনার, তাও কোনো সেট না হারিয়ে। গ্র্যান্ড স্লামের মঞ্চে এটি তার নবম সেমিফাইনাল এবং টানা ষষ্ঠবার শেষ চারে পৌঁছানোর কীর্তি।
চাপের মুহূর্তে স্থিরতা
ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে শেল্টনের বজ্রগতির সার্ভ সিনারকে পরীক্ষায় ফেলেছিল। একাধিকবার বল প্রায় শরীরে এসে লাগার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় রিটার্ন করতে সক্ষম হন তিনি। ম্যাচ শেষে সিনার বলেন, শেল্টনের সার্ভ ফেরানো সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ গুলোর একটি, বিশেষ করে বাঁহাতি খেলোয়াড় হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
শারীরিক অবস্থায় আত্মবিশ্বাস
আগের রাউন্ডে প্রচণ্ড গরমে খেলতে গিয়ে পেশিতে টান ধরলেও এই ম্যাচে নিজেকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে মনে হয়েছে বলে জানান সিনার। তার ভাষায়, শারীরিকভাবে তিনি আবার শক্ত অবস্থানে ফিরেছেন এবং কোর্টে চলাফেরা আগের চেয়ে ভালো লাগছে। এই আত্মবিশ্বাসই তাকে বড় লড়াইয়ের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছে।

জকোভিচের অপেক্ষায় বড় মঞ্চ
সেমিফাইনালে চব্বিশবারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী নোভাক জকোভিচের মুখোমুখি হওয়াকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সিনার। তিনি বলেন, এমন ম্যাচের জন্যই প্রতিদিন অনুশীলন করা হয় এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে খেলতে নামার আগ্রহ তৈরি হয়। জয়-পরাজয়ের বাইরেও এই ধরনের ম্যাচ একজন খেলোয়াড় ও মানুষ হিসেবে উন্নত করে বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















