এক সময়ের জনপ্রিয় গান শোনার যন্ত্র, পকেট ক্যামেরা বা নানা ধরনের তার আর চার্জারের ভিড়ে ভরা ড্রয়ার এখন অনেক ঘরেই অবহেলায় পড়ে থাকে। আধুনিক স্মার্টফোনের দাপটে এসব যন্ত্র বহু আগেই ব্যবহার থেকে ছিটকে গেছে। কিন্তু ফেলে দেওয়ার আগে একবার ভেবে দেখা দরকার, কারণ এসব যন্ত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে অমূল্য স্মৃতি, প্রিয় গান কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ছবি।
ড্রয়ারে আটকে থাকা স্মৃতি
অনেকের কাছেই পুরোনো গান শোনার যন্ত্রটি রেখে দেওয়ার একটাই কারণ, সেটির ভেতরে থাকা নিজের সংগ্রহ করা গান। পুরোনো কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই গান আর কোথাও নেই। একইভাবে পুরোনো ডিজিটাল ক্যামেরার মেমোরি কার্ডে পড়ে থাকতে পারে এমন সব ছবি, যা আর কোথাও সংরক্ষিত হয়নি। তাই আগে লক্ষ্য হওয়া উচিত এসব ফাইল উদ্ধার করা।
সংযোগের ঝামেলা কাটাবেন যেভাবে
পুরোনো যন্ত্রগুলো সাধারণত কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করতে আলাদা ধরনের তার প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে চার্জ দেওয়ার জন্যও আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ লাগে। এখনকার নতুন কম্পিউটারে ছোট আকৃতির সংযোগ মুখ থাকায় পুরোনো তার সরাসরি লাগানো যায় না। সেক্ষেত্রে উপযুক্ত সংযোগকারী ব্যবহার করলেই সমস্যা মেটে। তবে ভিন্ন প্রযুক্তির সংযোগ একসঙ্গে কাজ করে—এমন ভুয়া যন্ত্র এড়িয়ে চলাই ভালো।
পুরোনো গান শোনার যন্ত্রে আটকে থাকা ফাইল
এক সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান শোনার যন্ত্রটি এমনভাবে তৈরি ছিল, যাতে গান শুধু কম্পিউটার থেকে যন্ত্রে নেওয়া যায়, উল্টো পথে নয়। এতে করে চুরি রোধ করা হতো। কিন্তু এর ফলে নিজের তৈরি বা সিডি থেকে নেওয়া গান যদি ওই যন্ত্রেই থেকে যায়, সেগুলো ফেরত আনা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন কম্পিউটারে যুক্ত করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিঙ্ক চালু থাকলে পুরোনো গান মুছে যেতে পারে, তাই হাতে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বেছে নেওয়াই নিরাপদ।
ফাইল উদ্ধার সহজ করবেন যেসব উপায়ে
কম্পিউটার, যন্ত্র আর ব্যবহৃত সফটওয়্যারের ধরন অনুযায়ী ফাইল উদ্ধারের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। অনলাইন আলোচনা ফোরামগুলোতে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা পাওয়া যায়। যারা প্রযুক্তিগত ঝামেলায় যেতে চান না, তারা বিশেষ ধরনের ফাইল ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ব্যবহার করলে পর্দায় সরাসরি যন্ত্রের ভেতরের ফাইল দেখতে পান এবং পছন্দমতো কপি করতে পারেন। গান ছাড়াও তালিকা, ভিডিওসহ অন্য ফাইলও এভাবে উদ্ধার করা সম্ভব।

অন্যান্য গান শোনার যন্ত্র ও ক্যামেরা
অন্য কোম্পানির অনেক গান শোনার যন্ত্র আসলে বহনযোগ্য হার্ডডিস্কের মতো কাজ করে। সেগুলোতে ফাইল কপি করা তুলনামূলক সহজ। কিছু যন্ত্র আবার নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে চালানো হতো, সেক্ষেত্রে নির্দেশিকা দেখে কাজ করলেই সমাধান পাওয়া যায়। পুরোনো ক্যামেরার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তার না পেলে মেমোরি কার্ড সরাসরি কম্পিউটারে লাগিয়ে ছবিগুলো কপি করা যায়।
ফাইল উদ্ধার শেষে করণীয়
একবার ফাইল উদ্ধার হয়ে গেলে সেগুলো অবশ্যই অনলাইন সংরক্ষণ বা আলাদা হার্ডডিস্কে রেখে দেওয়া উচিত। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় পুরোনো যন্ত্রটির ভবিষ্যৎ কী হবে। ব্যবহার না হলে তথ্য মুছে পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রে দেওয়া যায়, কিংবা বিক্রিও করা সম্ভব। সামান্য ত্রুটি থাকলে মেরামতের কথাও ভাবা যেতে পারে। আবার নতুন প্রজন্মের কারও হাতে তুলে দিলে সেটি হয়ে উঠতে পারে সৃষ্টিশীলতার নতুন মাধ্যম এবং স্মার্টফোনের আগের জীবনের এক ঝলক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















