০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
জব্দ ট্যাংকার ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন সমীকরণ ভোটের পোস্টার নিষিদ্ধ: ছাপাখানাকে কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের ভারতের টেস্ট ইতিহাসের বিস্মৃত নায়কদের খোঁজে দুবাইয়ের দুই বন্ধু সান্তনার জয়ে কিউইদের প্রত্যাবর্তন, সাইফার্ট–স্যান্টনারে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধান অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সিনারের দাপট, সেমিফাইনালে জকোভিচ এর সঙ্গে মহারণ সংস্কৃতি আর স্মৃতির স্বাদে নতুন যাত্রা, মধ্যপ্রাচ্যে অনন্য খাবারের অভিজ্ঞতা আনলেন আশা ভোঁসলে দুবাইয়ের আকাশছোঁয়া উচ্চতায় জেসন মোমোয়া: সিনেমা, জীবন আর শান্ত থাকার দর্শন দুবাই ব্র্যান্ডেড আবাসনের বিশ্বরাজধানী, বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নতুন উচ্চতা মার্কিন সামরিক হুমকির মধ্যেই আলোচনায় অনড় ইরান, আরব দেশগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা এশিয়াজুড়ে বিমানবন্দরে কড়াকড়ি নজরদারি, ভারতে নিপা শনাক্ত হতেই সতর্কতা

শাসন ঘোষণায় নয়, জীবনে—পাঞ্জাবের মুখ বদলাতে মরিয়ম নওয়াজের নীরব প্রশাসনিক বিপ্লব

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ পাঞ্জাব। এখানে যা সফল হয়, তা গোটা দেশের মানদণ্ড হয়ে ওঠে। আর যা ব্যর্থ হয়, তার বোঝা বইতে হয় জাতিকে। অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অস্থিরতা ও দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ক্লান্তির মধ্যে পাঞ্জাবের নেতৃত্ব নেওয়া সহজ কাজ নয়। এই বাস্তবতায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মরিয়ম নওয়াজ শরিফ নিজের নেতৃত্ব কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন একটিমাত্র দর্শনে—শাসন ঘোষণা দিয়ে নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উপস্থিত থাকতে হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই তাঁর কাজের ধারা বক্তব্যনির্ভর রাজনীতির বদলে সরাসরি সেবা ও বাস্তব প্রভাবের দিকে ঝুঁকেছে। পরিচ্ছন্নতা, পরিবহন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও কৃষি—সব ক্ষেত্রেই একই বার্তা স্পষ্ট। ব্যবস্থা গড়তে হবে, দৃশ্যমান ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, আর সেবার ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে।

Maryam Nawaz ends student handcuffing, approves teen licenses - Daily Times

দৈনন্দিন শাসনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

দক্ষিণ এশিয়ার শাসনব্যবস্থার বড় সমস্যা হলো রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার দূরত্ব। সাধারণ মানুষের কাছে সরকার প্রায়ই দূরের, কাগুজে কিংবা সংকটকালে প্রতিক্রিয়াশীল এক সত্তা। মরিয়ম নওয়াজের শুরুর সময়ের পদক্ষেপগুলো এই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পরিষ্কার রাস্তা, চলমান স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন কিংবা আবাসন প্রকল্প—সবই এমন সেবা, যা প্রতিদিন মানুষ চোখে দেখে ও ব্যবহার করে। এতে রাষ্ট্র কেবল ঘোষণায় নয়, বাস্তবে উপস্থিত হয়।

এই শাসনধারা হঠাৎ কোনো উদ্যোগ নয়। এটি ধারাবাহিক সেবা প্রদানের একটি সচেতন পছন্দ, যেখানে মতাদর্শের চেয়ে বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Maryam Nawaz, the soft-hearted and reform-minded Iron Lady of Punjab | Khaleej Times - newspaper - Read this story on Magzter.com

প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার পরীক্ষা

পরিচ্ছন্নতা এমন একটি সেবা, যেখানে কোনো শর্টকাট নেই। রাস্তা পরিষ্কার না থাকলে ব্যর্থতা চোখে পড়ে। ‘সুথরা পাঞ্জাব’ উদ্যোগকে তাই শুধু পরিবেশগত কর্মসূচি হিসেবে নয়, একটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পরীক্ষাও বলা যায়। স্থানীয় সরকার, ঠিকাদার ও প্রাদেশিক তদারকি—সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারছে কি না, সেটিই এখানে মুখ্য।

পরিচ্ছন্নতাকে প্রচারমূলক অভিযান নয়, বরং একটি নিয়মিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখার ফলে প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে।

পরিবহন মানেই অর্থনীতি

যানজট, অনিরাপদ যাতায়াত ও দূষিত বাতাস—এই তিনটি সমস্যা নীরবে মানুষের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। আধুনিক গণপরিবহন, বিশেষ করে বিদ্যুৎচালিত বাস ও উন্নত অবকাঠামো চালুর মাধ্যমে পাঞ্জাব সরকার দেখাতে চাইছে যে চলাচল কেবল পরিবহন নয়, এটি সরাসরি অর্থনৈতিক নীতি।

পরিবহন পরিকল্পনার সঙ্গে বায়ুদূষণ ও ধোঁয়াশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় স্পষ্ট হচ্ছে, সংকটকে মৌসুমি সমস্যা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নগর সহনশীলতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Heartwarming scenes! Punjab CM Maryam Nawaz Sharif sits down with children  at a relief camp to eat and show her support.

 

চাকার উপর চিকিৎসা কেন্দ্র

গ্রাম ও অবহেলিত শহর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব পাঞ্জাবের পুরোনো সমস্যা। দূরত্ব, ভিড় ও সেবার অনিয়ম বহু মানুষকে চিকিৎসার বাইরে রাখে। ‘চাকার ওপর ক্লিনিক’ কর্মসূচি এই বাস্তবতাকে উল্টো পথে সমাধান করতে চায়। মানুষকে হাসপাতালে যেতে না বলে হাসপাতালে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের কাছে।

এর পাশাপাশি উন্নত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করে জনবল, সেবার মান ও ডিজিটাল নথিপত্র ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শক্তিশালী প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাই হাসপাতালের চাপ কমায় এবং নাগরিক ও রাষ্ট্রের প্রথম সংযোগস্থলে আস্থা তৈরি করে।

প্রযুক্তিনির্ভর শাসনের পথে

মরিয়ম নওয়াজ স্পষ্ট করেছেন, পাঞ্জাব ডিজিটাল রূপান্তরের পথে হাঁটছে। মন্ত্রিসভাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে সরকারি স্কুলে এই শিক্ষা চালু—সবই তথ্যভিত্তিক ও আধুনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তুতি। নতুন ধারণা গ্রহণে অনীহা নয়, বরং ভবিষ্যৎমুখী মানসিকতাই এখানে স্পষ্ট।

Punjab CM Maryam Nawaz Launches Free 3-Marla Plots Scheme

তরুণ ও শিক্ষানীতি

পাঞ্জাবের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। এই শক্তি সম্পদ ও হতে পারে, বোঝাও হতে পারে। পার্থক্য গড়ে দেয় শিক্ষা ও দক্ষতা। ‘হুনার স্কলারশিপ’ ও মুখ্যমন্ত্রীর ল্যাপটপ কর্মসূচি সরাসরি শিক্ষার্থীদের বিনিয়োগের নীতি প্রকাশ করে। এতে উচ্চশিক্ষার খরচ কমে, ডিজিটাল শেখা ও বৈশ্বিক জ্ঞানপ্রবাহে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়ে।

এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে মেধা ধরে রাখা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ভিত্তি তৈরি করছে।

Standing by weak reflects human solidarity: Maryam

আবাসন মানেই মর্যাদা

বাসস্থান ছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা কাজ—কোনোটাই টেকসই হয় না। ‘আপনি ছাত, আপনি ঘর’ কর্মসূচি কম আয়ের মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। মালিকানা ভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত সরবরাহের মাধ্যমে অস্থায়ী সমাধানের বদলে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্বচ্ছতা, যাচাই ও অর্থায়নের শৃঙ্খলা বজায় থাকলে এই উদ্যোগ নগরায়ণ ও আবাসন সমস্যায় নতুন দৃষ্টান্ত গড়তে পারে।

কৃষকের পাশে কাঠামোগত সহায়তা

পাঞ্জাবের অর্থনীতির প্রাণ কৃষি, কিন্তু কৃষকরা প্রায়ই ঋণ সংকট ও দামের অস্থিরতায় ভোগেন। মুখ্যমন্ত্রীর কৃষক কার্ড এই সমস্যার কাঠামোগত সমাধান দিতে চায়। অনানুষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো, সময়মতো উপকরণ পাওয়া ও আয় স্থিতিশীল করাই এর মূল লক্ষ্য।

CM Punjab Maryam Nawaz Sharif's Message on 'Besakhi' - DNA News Agency

এর সুফল শুধু কৃষক নয়, খাদ্য সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতিতে ও প্রভাব ফেলে।

নজরদারি ও ফলাফল

বড় কর্মসূচির ব্যর্থতার মূল কারণ বাস্তবায়ন তদারকির অভাব। পাঞ্জাবের বর্তমান শাসন মডেলে নজরদারি ইউনিট, তথ্যভিত্তিক ড্যাশবোর্ড ও কর্মদক্ষতা পরিমাপের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—ঘোষণার পর কাজ থেমে না যাওয়া।

এই মডেল টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ব্যর্থতা সংশোধনের সদিচ্ছার ওপর। তবে ইঙ্গিত স্পষ্ট—শাসন এখন ফলাফলের ভাষায় কথা বলতে চায়।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নওয়াজকন্যা মরিয়ম

দৃশ্যমান প্রশাসনের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা

মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্ব এখনো শুরুর পর্যায়ে। তবে ধারা স্পষ্ট—বিমূর্ত সংস্কার নয়, বাস্তব ফলাফল। ঘোষণা নয়, ব্যবস্থা। দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনা কর্মসূচিই এখানে মুখ্য।

এই পথ কঠিন। সেবা ব্যর্থ হলে তা সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থা ফেরানোর এটিই একমাত্র উপায়। পাঞ্জাব যদি এই উদ্যোগগুলোকে টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে পারে, তবে তা গোটা পাকিস্তানের প্রাদেশিক শাসনের মানদণ্ড বদলে দিতে পারে।

উচ্চকণ্ঠ রাজনীতি নয়, উন্নত প্রশাসন—এই বাজিতেই নেমেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

জব্দ ট্যাংকার ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন সমীকরণ

শাসন ঘোষণায় নয়, জীবনে—পাঞ্জাবের মুখ বদলাতে মরিয়ম নওয়াজের নীরব প্রশাসনিক বিপ্লব

০৩:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ পাঞ্জাব। এখানে যা সফল হয়, তা গোটা দেশের মানদণ্ড হয়ে ওঠে। আর যা ব্যর্থ হয়, তার বোঝা বইতে হয় জাতিকে। অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অস্থিরতা ও দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ক্লান্তির মধ্যে পাঞ্জাবের নেতৃত্ব নেওয়া সহজ কাজ নয়। এই বাস্তবতায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মরিয়ম নওয়াজ শরিফ নিজের নেতৃত্ব কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন একটিমাত্র দর্শনে—শাসন ঘোষণা দিয়ে নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উপস্থিত থাকতে হবে।

দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই তাঁর কাজের ধারা বক্তব্যনির্ভর রাজনীতির বদলে সরাসরি সেবা ও বাস্তব প্রভাবের দিকে ঝুঁকেছে। পরিচ্ছন্নতা, পরিবহন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও কৃষি—সব ক্ষেত্রেই একই বার্তা স্পষ্ট। ব্যবস্থা গড়তে হবে, দৃশ্যমান ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, আর সেবার ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে।

Maryam Nawaz ends student handcuffing, approves teen licenses - Daily Times

দৈনন্দিন শাসনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

দক্ষিণ এশিয়ার শাসনব্যবস্থার বড় সমস্যা হলো রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার দূরত্ব। সাধারণ মানুষের কাছে সরকার প্রায়ই দূরের, কাগুজে কিংবা সংকটকালে প্রতিক্রিয়াশীল এক সত্তা। মরিয়ম নওয়াজের শুরুর সময়ের পদক্ষেপগুলো এই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পরিষ্কার রাস্তা, চলমান স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন কিংবা আবাসন প্রকল্প—সবই এমন সেবা, যা প্রতিদিন মানুষ চোখে দেখে ও ব্যবহার করে। এতে রাষ্ট্র কেবল ঘোষণায় নয়, বাস্তবে উপস্থিত হয়।

এই শাসনধারা হঠাৎ কোনো উদ্যোগ নয়। এটি ধারাবাহিক সেবা প্রদানের একটি সচেতন পছন্দ, যেখানে মতাদর্শের চেয়ে বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Maryam Nawaz, the soft-hearted and reform-minded Iron Lady of Punjab | Khaleej Times - newspaper - Read this story on Magzter.com

প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার পরীক্ষা

পরিচ্ছন্নতা এমন একটি সেবা, যেখানে কোনো শর্টকাট নেই। রাস্তা পরিষ্কার না থাকলে ব্যর্থতা চোখে পড়ে। ‘সুথরা পাঞ্জাব’ উদ্যোগকে তাই শুধু পরিবেশগত কর্মসূচি হিসেবে নয়, একটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পরীক্ষাও বলা যায়। স্থানীয় সরকার, ঠিকাদার ও প্রাদেশিক তদারকি—সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারছে কি না, সেটিই এখানে মুখ্য।

পরিচ্ছন্নতাকে প্রচারমূলক অভিযান নয়, বরং একটি নিয়মিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখার ফলে প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে।

পরিবহন মানেই অর্থনীতি

যানজট, অনিরাপদ যাতায়াত ও দূষিত বাতাস—এই তিনটি সমস্যা নীরবে মানুষের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। আধুনিক গণপরিবহন, বিশেষ করে বিদ্যুৎচালিত বাস ও উন্নত অবকাঠামো চালুর মাধ্যমে পাঞ্জাব সরকার দেখাতে চাইছে যে চলাচল কেবল পরিবহন নয়, এটি সরাসরি অর্থনৈতিক নীতি।

পরিবহন পরিকল্পনার সঙ্গে বায়ুদূষণ ও ধোঁয়াশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় স্পষ্ট হচ্ছে, সংকটকে মৌসুমি সমস্যা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নগর সহনশীলতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Heartwarming scenes! Punjab CM Maryam Nawaz Sharif sits down with children  at a relief camp to eat and show her support.

 

চাকার উপর চিকিৎসা কেন্দ্র

গ্রাম ও অবহেলিত শহর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব পাঞ্জাবের পুরোনো সমস্যা। দূরত্ব, ভিড় ও সেবার অনিয়ম বহু মানুষকে চিকিৎসার বাইরে রাখে। ‘চাকার ওপর ক্লিনিক’ কর্মসূচি এই বাস্তবতাকে উল্টো পথে সমাধান করতে চায়। মানুষকে হাসপাতালে যেতে না বলে হাসপাতালে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের কাছে।

এর পাশাপাশি উন্নত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করে জনবল, সেবার মান ও ডিজিটাল নথিপত্র ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শক্তিশালী প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাই হাসপাতালের চাপ কমায় এবং নাগরিক ও রাষ্ট্রের প্রথম সংযোগস্থলে আস্থা তৈরি করে।

প্রযুক্তিনির্ভর শাসনের পথে

মরিয়ম নওয়াজ স্পষ্ট করেছেন, পাঞ্জাব ডিজিটাল রূপান্তরের পথে হাঁটছে। মন্ত্রিসভাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে সরকারি স্কুলে এই শিক্ষা চালু—সবই তথ্যভিত্তিক ও আধুনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তুতি। নতুন ধারণা গ্রহণে অনীহা নয়, বরং ভবিষ্যৎমুখী মানসিকতাই এখানে স্পষ্ট।

Punjab CM Maryam Nawaz Launches Free 3-Marla Plots Scheme

তরুণ ও শিক্ষানীতি

পাঞ্জাবের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। এই শক্তি সম্পদ ও হতে পারে, বোঝাও হতে পারে। পার্থক্য গড়ে দেয় শিক্ষা ও দক্ষতা। ‘হুনার স্কলারশিপ’ ও মুখ্যমন্ত্রীর ল্যাপটপ কর্মসূচি সরাসরি শিক্ষার্থীদের বিনিয়োগের নীতি প্রকাশ করে। এতে উচ্চশিক্ষার খরচ কমে, ডিজিটাল শেখা ও বৈশ্বিক জ্ঞানপ্রবাহে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়ে।

এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে মেধা ধরে রাখা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ভিত্তি তৈরি করছে।

Standing by weak reflects human solidarity: Maryam

আবাসন মানেই মর্যাদা

বাসস্থান ছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা কাজ—কোনোটাই টেকসই হয় না। ‘আপনি ছাত, আপনি ঘর’ কর্মসূচি কম আয়ের মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। মালিকানা ভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত সরবরাহের মাধ্যমে অস্থায়ী সমাধানের বদলে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্বচ্ছতা, যাচাই ও অর্থায়নের শৃঙ্খলা বজায় থাকলে এই উদ্যোগ নগরায়ণ ও আবাসন সমস্যায় নতুন দৃষ্টান্ত গড়তে পারে।

কৃষকের পাশে কাঠামোগত সহায়তা

পাঞ্জাবের অর্থনীতির প্রাণ কৃষি, কিন্তু কৃষকরা প্রায়ই ঋণ সংকট ও দামের অস্থিরতায় ভোগেন। মুখ্যমন্ত্রীর কৃষক কার্ড এই সমস্যার কাঠামোগত সমাধান দিতে চায়। অনানুষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো, সময়মতো উপকরণ পাওয়া ও আয় স্থিতিশীল করাই এর মূল লক্ষ্য।

CM Punjab Maryam Nawaz Sharif's Message on 'Besakhi' - DNA News Agency

এর সুফল শুধু কৃষক নয়, খাদ্য সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতিতে ও প্রভাব ফেলে।

নজরদারি ও ফলাফল

বড় কর্মসূচির ব্যর্থতার মূল কারণ বাস্তবায়ন তদারকির অভাব। পাঞ্জাবের বর্তমান শাসন মডেলে নজরদারি ইউনিট, তথ্যভিত্তিক ড্যাশবোর্ড ও কর্মদক্ষতা পরিমাপের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—ঘোষণার পর কাজ থেমে না যাওয়া।

এই মডেল টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ব্যর্থতা সংশোধনের সদিচ্ছার ওপর। তবে ইঙ্গিত স্পষ্ট—শাসন এখন ফলাফলের ভাষায় কথা বলতে চায়।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নওয়াজকন্যা মরিয়ম

দৃশ্যমান প্রশাসনের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা

মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্ব এখনো শুরুর পর্যায়ে। তবে ধারা স্পষ্ট—বিমূর্ত সংস্কার নয়, বাস্তব ফলাফল। ঘোষণা নয়, ব্যবস্থা। দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনা কর্মসূচিই এখানে মুখ্য।

এই পথ কঠিন। সেবা ব্যর্থ হলে তা সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থা ফেরানোর এটিই একমাত্র উপায়। পাঞ্জাব যদি এই উদ্যোগগুলোকে টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে পারে, তবে তা গোটা পাকিস্তানের প্রাদেশিক শাসনের মানদণ্ড বদলে দিতে পারে।

উচ্চকণ্ঠ রাজনীতি নয়, উন্নত প্রশাসন—এই বাজিতেই নেমেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।