০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
জব্দ ট্যাংকার ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন সমীকরণ ভোটের পোস্টার নিষিদ্ধ: ছাপাখানাকে কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের ভারতের টেস্ট ইতিহাসের বিস্মৃত নায়কদের খোঁজে দুবাইয়ের দুই বন্ধু সান্তনার জয়ে কিউইদের প্রত্যাবর্তন, সাইফার্ট–স্যান্টনারে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধান অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সিনারের দাপট, সেমিফাইনালে জকোভিচ এর সঙ্গে মহারণ সংস্কৃতি আর স্মৃতির স্বাদে নতুন যাত্রা, মধ্যপ্রাচ্যে অনন্য খাবারের অভিজ্ঞতা আনলেন আশা ভোঁসলে দুবাইয়ের আকাশছোঁয়া উচ্চতায় জেসন মোমোয়া: সিনেমা, জীবন আর শান্ত থাকার দর্শন দুবাই ব্র্যান্ডেড আবাসনের বিশ্বরাজধানী, বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নতুন উচ্চতা মার্কিন সামরিক হুমকির মধ্যেই আলোচনায় অনড় ইরান, আরব দেশগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা এশিয়াজুড়ে বিমানবন্দরে কড়াকড়ি নজরদারি, ভারতে নিপা শনাক্ত হতেই সতর্কতা

পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ব্যবহার, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে ঘিরে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন

প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হলেও এখনো সরকারি বাসা ছাড়েননি উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

পদত্যাগের সময় ও প্রেক্ষাপট
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। সে সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে। ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর পর ২৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরীর পদত্যাগের বিষয়টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়।

এই হিসাবে পদত্যাগের পর প্রায় ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম সরকারি বাসায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ-মাহফুজ

আসিফ মাহমুদের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্য
এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় এক মাস আগে সরকারি বাসা ছেড়ে পরিবাগের বাসায় বসবাস শুরু করেছেন।

তবে বুধবার রাতে হেয়ার রোডের ‘নিলয়-৬’ নামের সরকারি বাসায় গিয়ে দায়িত্বরত কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদ এখনো বাসাটি ব্যবহার করছেন এবং নিয়মিত সেখানে আসা-যাওয়া করেন। আশপাশের উপদেষ্টাদের বাসায় দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্যও জানিয়েছেন, তিনি এখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং লোকজন নিয়ে বৈঠক করেন।

যদিও বয়স ২৭ বছর এই সাবেক উপদেষ্টা অধিকাংশ সময় পরিবাগের বাসায় থাকেন বলেও কর্মচারীরা উল্লেখ করেছেন।

পদত্যাগের পরেও সরকারি বাসায় থাকার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

মাহফুজ আলমের বাসা ছাড়ার সময়সীমা
অন্যদিকে মাহফুজ আলম হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ণ-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে অবস্থান করছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই তিনি সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নীতিমালায় উপদেষ্টাদের বাসা ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকলেও নৈতিকতার জায়গা থেকে তিনি নির্বাচন পূর্বেই বাসা বুঝিয়ে দেবেন।

সরকারি আবাসন নীতিমালার সীমাবদ্ধতা
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাবেক এই দুই উপদেষ্টা কবে নাগাদ বাসা ছাড়বেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, আবাসন বরাদ্দ নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অবসরের পর দুই মাস পর্যন্ত বাসায় থাকার সুযোগ রয়েছে, সন্তানরা পড়াশোনা করলে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ছয় মাস করা যায়। তবে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নীতিমালায় উল্লেখ নেই।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সচিবকে অবহিত করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটভূমি ও দায়িত্বকাল
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই দিন থেকেই সরকারে ছিলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

মাহফুজ আলম ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। পরে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে তাকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২ মাস আগে পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ ও মাহফুজ

নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন ও সমালোচনা
পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ব্যবহার করায় নীতি ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, অতীতে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে কাজী জাফর আহমেদের পদত্যাগের দৃষ্টান্ত রয়েছে। তিনি পদত্যাগের আগে সরকারি বাসা ছেড়েছিলেন এবং পদত্যাগের পর আর সরকারি গাড়িও ব্যবহার করেননি।

তার মতে, রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে এমন নৈতিক আচরণই প্রত্যাশিত। তিনি বলেন, পদত্যাগের পরও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ারই উদাহরণ, যা সমাজের জন্য শুভ নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জব্দ ট্যাংকার ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন সমীকরণ

পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ব্যবহার, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে ঘিরে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন

০২:৪১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হলেও এখনো সরকারি বাসা ছাড়েননি উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

পদত্যাগের সময় ও প্রেক্ষাপট
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। সে সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে। ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর পর ২৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরীর পদত্যাগের বিষয়টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়।

এই হিসাবে পদত্যাগের পর প্রায় ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম সরকারি বাসায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ-মাহফুজ

আসিফ মাহমুদের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্য
এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় এক মাস আগে সরকারি বাসা ছেড়ে পরিবাগের বাসায় বসবাস শুরু করেছেন।

তবে বুধবার রাতে হেয়ার রোডের ‘নিলয়-৬’ নামের সরকারি বাসায় গিয়ে দায়িত্বরত কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদ এখনো বাসাটি ব্যবহার করছেন এবং নিয়মিত সেখানে আসা-যাওয়া করেন। আশপাশের উপদেষ্টাদের বাসায় দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্যও জানিয়েছেন, তিনি এখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং লোকজন নিয়ে বৈঠক করেন।

যদিও বয়স ২৭ বছর এই সাবেক উপদেষ্টা অধিকাংশ সময় পরিবাগের বাসায় থাকেন বলেও কর্মচারীরা উল্লেখ করেছেন।

পদত্যাগের পরেও সরকারি বাসায় থাকার কারণ জানালেন আসিফ মাহমুদ

মাহফুজ আলমের বাসা ছাড়ার সময়সীমা
অন্যদিকে মাহফুজ আলম হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ণ-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে অবস্থান করছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই তিনি সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নীতিমালায় উপদেষ্টাদের বাসা ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকলেও নৈতিকতার জায়গা থেকে তিনি নির্বাচন পূর্বেই বাসা বুঝিয়ে দেবেন।

সরকারি আবাসন নীতিমালার সীমাবদ্ধতা
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাবেক এই দুই উপদেষ্টা কবে নাগাদ বাসা ছাড়বেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, আবাসন বরাদ্দ নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অবসরের পর দুই মাস পর্যন্ত বাসায় থাকার সুযোগ রয়েছে, সন্তানরা পড়াশোনা করলে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ছয় মাস করা যায়। তবে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নীতিমালায় উল্লেখ নেই।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সচিবকে অবহিত করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটভূমি ও দায়িত্বকাল
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই দিন থেকেই সরকারে ছিলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

মাহফুজ আলম ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। পরে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে তাকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২ মাস আগে পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ ও মাহফুজ

নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন ও সমালোচনা
পদত্যাগের পরও সরকারি বাসা ব্যবহার করায় নীতি ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, অতীতে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে কাজী জাফর আহমেদের পদত্যাগের দৃষ্টান্ত রয়েছে। তিনি পদত্যাগের আগে সরকারি বাসা ছেড়েছিলেন এবং পদত্যাগের পর আর সরকারি গাড়িও ব্যবহার করেননি।

তার মতে, রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে এমন নৈতিক আচরণই প্রত্যাশিত। তিনি বলেন, পদত্যাগের পরও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ারই উদাহরণ, যা সমাজের জন্য শুভ নয়।