জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ভোটারদের অধিকার সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধীনে ৩৮টি প্লাটুন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
বিজিবি সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, এই প্লাটুনগুলো ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ বিজিবি)-এর আওতায় মোট ১৪টি সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি আসনে থাকবে ১১টি প্লাটুন। সাভার ও ধামরাই উপজেলার দুটি আসনে মোতায়েন করা হবে ছয়টি প্লাটুন। ফরিদপুর জেলার চারটি আসনে দায়িত্ব নেবে ১৩টি প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি আসনে থাকবে আটটি প্লাটুন।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি
নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দল বা ক্যানাইন ইউনিটও মোতায়েন করা হবে, যা বিভিন্ন তল্লাশি কার্যক্রমে অংশ নেবে। ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইমুর হাসান খান জানান, মোট ১২টি বেইস ক্যাম্প থেকে এসব প্লাটুন পরিচালিত হবে।
তিনি রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, ভোটার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বিজিবির সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজিবি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভোটার অংশগ্রহণ ও অধিকার সুরক্ষায় অঙ্গীকার
বিজিবির প্রধান লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, ভোট কারচুপি রোধ করা যায় এবং সামগ্রিক নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়েও বিজিবি একটি নিরপেক্ষ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
নির্বাচনকালীন সময়ে বিজিবি এককভাবে অথবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাপিড অ্যাকশন টিম, হেলিকপ্টার এবং কুইক রেসপন্স ফোর্স প্রস্তুত থাকবে।

আধুনিক সরঞ্জাম ও সার্বক্ষণিক নজরদারি
নিরাপত্তা কার্যক্রমে বিজিবি সদস্যরা বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, সাঁজোয়া যান এবং আধুনিক সংকেত সরঞ্জাম ব্যবহার করবে। ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিকভাবে নির্বাচনসংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
ভোটগ্রহণের দিন মোবাইল ও স্ট্যাটিক টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির তল্লাশি চালানো হবে, যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়।
বিজিবি আশা প্রকাশ করেছে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তাই থাকবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















