০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
গোপালগঞ্জে জেলা জজের বাসভবনে ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ জড়ো; ঘরে ঘরে ক্ষোভে চাপে অভিবাসন নীতি স্বর্ণে ইতিহাস, প্রথমবার ছাড়াল পাঁচ হাজার তিনশ ডলার ওসাকার খাদ্যনগরীতে নীরব বিস্ময়, এক্সপো পেরিয়েও আলোচনায় আমিরাতি রেস্তোরাঁ জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সংযুক্ত আরব আমিরাত-পাকিস্তান কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের ইরানে হামলার বিকল্প ভাবছেন ট্রাম্প, আন্দোলন জাগানোর কৌশল নিয়ে জল্পনা রয়টার্সের প্রতিবেদন: কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াল আদানি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

১৭ সংস্থার দখলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থা থেকে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পেলেও এর মধ্যে মাত্র ১৭টি সংস্থাই নিয়েছে ৩৫ হাজার ৪২৭ জনের নিয়োগ। অর্থাৎ মোট পর্যবেক্ষকের প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এই অস্বাভাবিক বৈষম্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর করেছে।

সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছে পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট নামের একটি এনজিও, যেখান থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জনকে। পাশাপাশি নামসর্বস্ব গরিব উন্নয়ন সংস্থা থেকেও এক হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, যার অফিস বাস্তবে একটি এককক্ষের ঘর এবং কর্মী মাত্র দুজন। এমন বাস্তবতায় বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগকে অনেকেই কাগুজে ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন নিয়ে ইসির গণবিজ্ঞপ্তি | জাতীয়  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

এদিকে কয়েকটি বড় পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো সুযোগ নেই। তবুও বাস্তব চিত্র বলছে, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বড় অংশ সীমিত কয়েকটি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক যেসব আসনে নিয়োগ পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কুড়িগ্রাম, যশোর, ভোলা, খুলনা ও বরগুনার একাধিক আসন। একই সঙ্গে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি ৩৯টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

সব মিলিয়ে, পর্যবেক্ষক নিয়োগের এই অসম বণ্টন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আঘাত হেনেছে, যা নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে জেলা জজের বাসভবনে ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় আতঙ্ক

১৭ সংস্থার দখলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা

১২:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থা থেকে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পেলেও এর মধ্যে মাত্র ১৭টি সংস্থাই নিয়েছে ৩৫ হাজার ৪২৭ জনের নিয়োগ। অর্থাৎ মোট পর্যবেক্ষকের প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এই অস্বাভাবিক বৈষম্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর করেছে।

সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছে পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট নামের একটি এনজিও, যেখান থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জনকে। পাশাপাশি নামসর্বস্ব গরিব উন্নয়ন সংস্থা থেকেও এক হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, যার অফিস বাস্তবে একটি এককক্ষের ঘর এবং কর্মী মাত্র দুজন। এমন বাস্তবতায় বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগকে অনেকেই কাগুজে ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন নিয়ে ইসির গণবিজ্ঞপ্তি | জাতীয়  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

এদিকে কয়েকটি বড় পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো সুযোগ নেই। তবুও বাস্তব চিত্র বলছে, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বড় অংশ সীমিত কয়েকটি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক যেসব আসনে নিয়োগ পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কুড়িগ্রাম, যশোর, ভোলা, খুলনা ও বরগুনার একাধিক আসন। একই সঙ্গে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি ৩৯টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

সব মিলিয়ে, পর্যবেক্ষক নিয়োগের এই অসম বণ্টন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আঘাত হেনেছে, যা নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র করতে পারে।