০১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

১৭ সংস্থার দখলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থা থেকে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পেলেও এর মধ্যে মাত্র ১৭টি সংস্থাই নিয়েছে ৩৫ হাজার ৪২৭ জনের নিয়োগ। অর্থাৎ মোট পর্যবেক্ষকের প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এই অস্বাভাবিক বৈষম্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর করেছে।

সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছে পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট নামের একটি এনজিও, যেখান থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জনকে। পাশাপাশি নামসর্বস্ব গরিব উন্নয়ন সংস্থা থেকেও এক হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, যার অফিস বাস্তবে একটি এককক্ষের ঘর এবং কর্মী মাত্র দুজন। এমন বাস্তবতায় বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগকে অনেকেই কাগুজে ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন নিয়ে ইসির গণবিজ্ঞপ্তি | জাতীয়  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

এদিকে কয়েকটি বড় পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো সুযোগ নেই। তবুও বাস্তব চিত্র বলছে, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বড় অংশ সীমিত কয়েকটি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক যেসব আসনে নিয়োগ পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কুড়িগ্রাম, যশোর, ভোলা, খুলনা ও বরগুনার একাধিক আসন। একই সঙ্গে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি ৩৯টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

সব মিলিয়ে, পর্যবেক্ষক নিয়োগের এই অসম বণ্টন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আঘাত হেনেছে, যা নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

১৭ সংস্থার দখলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা

১২:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থা থেকে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পেলেও এর মধ্যে মাত্র ১৭টি সংস্থাই নিয়েছে ৩৫ হাজার ৪২৭ জনের নিয়োগ। অর্থাৎ মোট পর্যবেক্ষকের প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এই অস্বাভাবিক বৈষম্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর করেছে।

সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছে পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট নামের একটি এনজিও, যেখান থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জনকে। পাশাপাশি নামসর্বস্ব গরিব উন্নয়ন সংস্থা থেকেও এক হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, যার অফিস বাস্তবে একটি এককক্ষের ঘর এবং কর্মী মাত্র দুজন। এমন বাস্তবতায় বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগকে অনেকেই কাগুজে ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন নিয়ে ইসির গণবিজ্ঞপ্তি | জাতীয়  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

এদিকে কয়েকটি বড় পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো সুযোগ নেই। তবুও বাস্তব চিত্র বলছে, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বড় অংশ সীমিত কয়েকটি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক যেসব আসনে নিয়োগ পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কুড়িগ্রাম, যশোর, ভোলা, খুলনা ও বরগুনার একাধিক আসন। একই সঙ্গে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি ৩৯টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

সব মিলিয়ে, পর্যবেক্ষক নিয়োগের এই অসম বণ্টন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আঘাত হেনেছে, যা নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র করতে পারে।