১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
শিম্পাঞ্জিদের আচরণে চমক: বন্ধুত্ব ভেঙে রক্তাক্ত সংঘর্ষে ২৮ প্রাণহানি বর্তমান প্রেক্ষাপটে হিলারি ক্লিনটনের কলাম: মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে পরিবার নিয়ে ভাবতে হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন দৌড়: ভিডিও মডেলে এগিয়ে আলিবাবা, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তাপ এআই-চালিত আয়ে শক্ত বার্তা দিল অ্যামাজন, চিপ ব্যবসাও ২০ বিলিয়ন ডলারের পথে সিডনির আলো-ছায়ায় রোজি হান্টিংটন-হোয়াইটলি, নতুন প্রচ্ছদে নজরকাড়া উপস্থিতি চার বছরের বিরতির পর মঞ্চে বিটিএস, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু বিশাল বিশ্ব সফর এআই চাহিদায় তেজি টিএসএমসি, প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ ক্যাটসআই: পর্দার বাইরে গড়া এক উন্মাদনা, নতুন যুগের মেয়েদের দলে ভক্তির নতুন ভাষা হলিউডের ভাটা, বিশ্ব সিনেমার জোর—কান উৎসব ২০২৬-এ আর্টহাউস ঝলক এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক

ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে মালিকিকেই প্রধানমন্ত্রী করতে অনড় ইরাকের শিয়া জোট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রকাশ্য হুমকির পরও ইরাকের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান বজায় রাখল দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোট। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এই জোট সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি-কেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাদের স্পষ্ট ভাষ্য, সরকারপ্রধান নির্বাচন ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়াশিংটনের চাপের মুখে জোটের অবস্থান

ইরাকের প্রধান শিয়া জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে তারা অটল। জোটের মতে, আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য, তবে সেই সম্পর্ক গড়ে উঠতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়াকে ‘খারাপ সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়ে ইরাককে সব ধরনের সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। তাতেও অবস্থান বদলায়নি শিয়া জোটের।

Image

মালিকির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

নুরি আল মালিকি ইরাকের একমাত্র দুই মেয়াদি প্রধানমন্ত্রী। দুই হাজার ছয় থেকে দুই হাজার চৌদ্দ সাল পর্যন্ত তিনি সরকার পরিচালনা করেন। প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেলেও পরবর্তী সময়ে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর আবারও তাকে সামনে আনা হয়েছে ক্ষমতাসীন শিয়া জোটের মুখ হিসেবে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মাঝে ভারসাম্য

দীর্ঘ যুদ্ধ ও অস্থিরতার পর ইরাকে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও রাজনীতিতে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা। শিয়া জোটের এই ঘোষণার সময়ই সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কোরাম পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

Image

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও পরবর্তী ধাপ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে পনেরো দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাধারণত সংসদের সবচেয়ে বড় শিয়া জোটের মনোনীত প্রার্থীকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে হিসাবে মালিকির পথে আনুষ্ঠানিক বাধা কম হলেও আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিম্পাঞ্জিদের আচরণে চমক: বন্ধুত্ব ভেঙে রক্তাক্ত সংঘর্ষে ২৮ প্রাণহানি

ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে মালিকিকেই প্রধানমন্ত্রী করতে অনড় ইরাকের শিয়া জোট

০৮:২১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রকাশ্য হুমকির পরও ইরাকের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান বজায় রাখল দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোট। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এই জোট সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি-কেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাদের স্পষ্ট ভাষ্য, সরকারপ্রধান নির্বাচন ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়াশিংটনের চাপের মুখে জোটের অবস্থান

ইরাকের প্রধান শিয়া জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে তারা অটল। জোটের মতে, আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য, তবে সেই সম্পর্ক গড়ে উঠতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়াকে ‘খারাপ সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়ে ইরাককে সব ধরনের সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। তাতেও অবস্থান বদলায়নি শিয়া জোটের।

Image

মালিকির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

নুরি আল মালিকি ইরাকের একমাত্র দুই মেয়াদি প্রধানমন্ত্রী। দুই হাজার ছয় থেকে দুই হাজার চৌদ্দ সাল পর্যন্ত তিনি সরকার পরিচালনা করেন। প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেলেও পরবর্তী সময়ে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর আবারও তাকে সামনে আনা হয়েছে ক্ষমতাসীন শিয়া জোটের মুখ হিসেবে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মাঝে ভারসাম্য

দীর্ঘ যুদ্ধ ও অস্থিরতার পর ইরাকে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও রাজনীতিতে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা। শিয়া জোটের এই ঘোষণার সময়ই সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কোরাম পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

Image

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও পরবর্তী ধাপ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে পনেরো দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাধারণত সংসদের সবচেয়ে বড় শিয়া জোটের মনোনীত প্রার্থীকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে হিসাবে মালিকির পথে আনুষ্ঠানিক বাধা কম হলেও আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।