১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অনিশ্চয়তা, মুখ স্ক্যান আর ক্ষুদ্র ভ্রমণ—দুই হাজার ছাব্বিশে বদলে যাচ্ছে ভ্রমণের ভাষা মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস, বাটু গুহায় লাখো ভক্তের সমাগম মাত্র ১১ বাজারে আটকে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ পোশাক রফতানি, বাড়ছে বড় ঝুঁকি ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও আদায়ে দুর্বলতা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নিয়ে গভর্নরের সতর্কতা এনসিটি ইজারা নিয়ে বিরোধ তীব্র, চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা নড়াইলে জমি বিরোধে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল এক যুবকের ফেব্রুয়ারিতে আবার বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৫০ টাকা বৃদ্ধি ঢাকা সেনানিবাসে চালু হলো সশস্ত্র বাহিনীর ওয়ার কোর্স উইং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের সাবেক বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ও স্ত্রীসহ চারজন কারাগারে

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলার পর কঠোর অভিযান, পাল্টা জবাবের অঙ্গীকার পাকিস্তানের

পাকিস্তানের অস্থির বেলুচিস্তান প্রদেশে সমন্বিত ও প্রাণঘাতী বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী জোরদার অভিযান শুরু করেছে। টানা দুই দিনে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে একশ নব্বই। সরকার বলছে, হামলাকারীদের কোনোভাবেই ছাড়া হবে না এবং শেষ আশ্রয়স্থল পর্যন্ত তাড়া চলবে।

কোয়েটায় নীরবতা, আতঙ্কে জনজীবন

রোববার কোয়েটার চিরচেনা ব্যস্ততা থমকে যায়। বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রধান সড়ক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফাঁকা হয়ে পড়ে। ভাঙা ধাতব খণ্ড আর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া যানবাহন ছড়িয়ে থাকে রাস্তায়। ভয়ে মানুষ ঘরছাড়া হতে চাইছে না। এক দোকানির কণ্ঠে ধরা পড়ে আতঙ্ক, বাড়ি থেকে বের হলে নিরাপদে ফেরা যাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তাই এখন সবার সঙ্গী।

সমন্বিত হামলা ও প্রাণহানি

প্রাদেশিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক, কারাগার, পুলিশ থানা ও সামরিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একত্রিশ বেসামরিক মানুষ ও সতেরো নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। অভিযানে একশ পঁয়তাল্লিশের বেশি হামলাকারীও নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়। এক উপ জেলা প্রশাসককে অপহরণের ঘটনা ও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগের দিন আলাদা অভিযানে আরও একচল্লিশ বিদ্রোহী নিহত হওয়ার দাবি করা হয়।

নিরাপত্তা অভিযান ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

হামলার পর এক ডজনের বেশি এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। প্রদেশজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকে এক দিনের বেশি সময়। সড়ক চলাচল ব্যাহত হয়, ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকে। প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত সব জেলা থেকে হামলাকারীদের হটানো হয়েছে এবং তাড়া অব্যাহত থাকবে।

দায় স্বীকার ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি

বেলুচিস্তানের সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা সামরিক স্থাপনা, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানায়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলায় ভারতের সমর্থনের অভিযোগ তোলে এবং কঠোর প্রতিশোধের কথা জানায়। জবাবে ভারত স্পষ্টভাবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করে।

প্রকাশ্য দিবালোকে নজিরবিহীন হামলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সমন্বিত হামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ইউনিট নিয়ে রাজধানী শহরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। মুক্তিপণ ছাড়াই অন্তত ত্রিশ বন্দিকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া, পুলিশ থানা তছনছ ও অস্ত্র লুটের ঘটনাও ঘটে।

দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট

খনিজসমৃদ্ধ হলেও শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা বেলুচিস্তানে দশকের পর দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদের সুফল তারা পায় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্য প্রদেশের কর্মী ও বিদেশি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলাও বেড়েছে। গত বছর যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা ও দুই দিনের অবরোধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনিশ্চয়তা, মুখ স্ক্যান আর ক্ষুদ্র ভ্রমণ—দুই হাজার ছাব্বিশে বদলে যাচ্ছে ভ্রমণের ভাষা

বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলার পর কঠোর অভিযান, পাল্টা জবাবের অঙ্গীকার পাকিস্তানের

০৮:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের অস্থির বেলুচিস্তান প্রদেশে সমন্বিত ও প্রাণঘাতী বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী জোরদার অভিযান শুরু করেছে। টানা দুই দিনে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে একশ নব্বই। সরকার বলছে, হামলাকারীদের কোনোভাবেই ছাড়া হবে না এবং শেষ আশ্রয়স্থল পর্যন্ত তাড়া চলবে।

কোয়েটায় নীরবতা, আতঙ্কে জনজীবন

রোববার কোয়েটার চিরচেনা ব্যস্ততা থমকে যায়। বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রধান সড়ক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফাঁকা হয়ে পড়ে। ভাঙা ধাতব খণ্ড আর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া যানবাহন ছড়িয়ে থাকে রাস্তায়। ভয়ে মানুষ ঘরছাড়া হতে চাইছে না। এক দোকানির কণ্ঠে ধরা পড়ে আতঙ্ক, বাড়ি থেকে বের হলে নিরাপদে ফেরা যাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তাই এখন সবার সঙ্গী।

সমন্বিত হামলা ও প্রাণহানি

প্রাদেশিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক, কারাগার, পুলিশ থানা ও সামরিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একত্রিশ বেসামরিক মানুষ ও সতেরো নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। অভিযানে একশ পঁয়তাল্লিশের বেশি হামলাকারীও নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়। এক উপ জেলা প্রশাসককে অপহরণের ঘটনা ও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগের দিন আলাদা অভিযানে আরও একচল্লিশ বিদ্রোহী নিহত হওয়ার দাবি করা হয়।

নিরাপত্তা অভিযান ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

হামলার পর এক ডজনের বেশি এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। প্রদেশজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকে এক দিনের বেশি সময়। সড়ক চলাচল ব্যাহত হয়, ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকে। প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত সব জেলা থেকে হামলাকারীদের হটানো হয়েছে এবং তাড়া অব্যাহত থাকবে।

দায় স্বীকার ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি

বেলুচিস্তানের সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা সামরিক স্থাপনা, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানায়। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলায় ভারতের সমর্থনের অভিযোগ তোলে এবং কঠোর প্রতিশোধের কথা জানায়। জবাবে ভারত স্পষ্টভাবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করে।

প্রকাশ্য দিবালোকে নজিরবিহীন হামলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সমন্বিত হামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ইউনিট নিয়ে রাজধানী শহরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। মুক্তিপণ ছাড়াই অন্তত ত্রিশ বন্দিকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া, পুলিশ থানা তছনছ ও অস্ত্র লুটের ঘটনাও ঘটে।

দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট

খনিজসমৃদ্ধ হলেও শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা বেলুচিস্তানে দশকের পর দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদের সুফল তারা পায় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্য প্রদেশের কর্মী ও বিদেশি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলাও বেড়েছে। গত বছর যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলা ও দুই দিনের অবরোধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।