ঢাকা। আসন্ন নির্বাচন আদৌ হবে কি না, সে প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। সামরিক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক রেজাউল করিম বলেছেন, বারো তারিখের সকালের আগ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনি জটিলতা মিলিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।
জয়-পরাজয়ের হিসাবেই অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত
রেজাউল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে জয়ের সম্ভাবনার ওপর। যে পক্ষ মনে করবে ফল তাদের অনুকূলে যাবে, তারা নির্বাচনে আগ্রহ দেখাবে। কিন্তু পরিস্থিতি যদি অনুকূল না মনে হয়, তখন নির্বাচন ভেস্তে দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই বাস্তবতাই এখন রাজনৈতিক মাঠকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
আদালতের মামলায় প্রার্থিতা বাতিলের ঝুঁকি
তিনি জানান, আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়। বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার রায় এলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কৌশল
রেজাউল করিমের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, বর্তমান শাসনামলে বিচারব্যবস্থা নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিতর্কিত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের হাতে থাকা সব কৌশল একসঙ্গে ব্যবহার করবে না। ধাপে ধাপে কৌশল প্রয়োগ করেই তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে চাইবে। এ কারণে বিএনপির ভেতরেও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট ধারণার ঘাটতি রয়েছে।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে। আদালতের রায়, দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান এবং মাঠের বাস্তবতা—সবকিছু মিলিয়ে বারো তারিখের সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে দেশবাসীকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















