ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা লাখো আফগানের জন্য নিজ দেশে নতুন জীবন শুরু করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন শরণার্থী হিসেবে থাকা মানুষেরা এখন এমন এক আফগানিস্তানে ফিরছেন, যেখানে দারিদ্র্য, পরিবেশগত সংকট ও অবকাঠামোগত ঘাটতি একসঙ্গে চেপে বসেছে।
সীমান্ত পেরিয়ে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার তেইশ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরান ও পাকিস্তান থেকে পাঁচ মিলিয়নের বেশি আফগান দেশে ফিরেছেন। এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশ। সংস্থাটির আফগানিস্তান শাখার উপপ্রধান মুতিয়া ইজোরা মাসকুন জানান, শুধু গত বছরেই তিন মিলিয়ন মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, যাদের অনেকে কয়েক দশক বিদেশে কাটিয়েছেন।
বাসস্থানের তীব্র সংকট
দেশে ফেরার কয়েক মাস পরও অধিকাংশ মানুষের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ জোটেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় আশি শতাংশ প্রত্যাবর্তনকারীর স্থায়ী ঘর নেই। অনেকেই কাদা বা পাথরের অস্থায়ী ঘরে থাকছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, ভাড়াটিয়াদের বড় অংশ ভাড়া দিতে পারছেন না এবং বহু পরিবারকে একই কক্ষে চারজন পর্যন্ত গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
কাজের খোঁজে হতাশা
কর্মসংস্থানের ছবিটিও হতাশাজনক। জরিপ অনুযায়ী, ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র অল্প অংশ পূর্ণকালীন কাজে যুক্ত হতে পেরেছেন। গত বছরের শুরুতে ফেরত আসা মানুষের মাসিক গড় আয় ছিল অত্যন্ত সীমিত, যা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
পানি ও বিদ্যুতের ঘাটতি
প্রত্যাবর্তনকারী পরিবারের অর্ধেকের বেশি নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, নারীপ্রধান পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছে।
জমি বণ্টনে গতি আনার উদ্যোগ
আফগান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারা দেশে প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য তিন হাজারের বেশি জমির প্লট বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের উপপ্রবক্তা হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বিশেষ বৈঠকের পর এই প্রক্রিয়া দ্রুত করা হয়েছে। দেশে ফেরার সময় প্রত্যাবর্তনকারীরা যাতায়াত সহায়তা, সিম কার্ড ও সামান্য আর্থিক সহায়তাও পাচ্ছেন।
Sarakhon Report 


















