১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অনিশ্চয়তা, মুখ স্ক্যান আর ক্ষুদ্র ভ্রমণ—দুই হাজার ছাব্বিশে বদলে যাচ্ছে ভ্রমণের ভাষা মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস, বাটু গুহায় লাখো ভক্তের সমাগম মাত্র ১১ বাজারে আটকে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ পোশাক রফতানি, বাড়ছে বড় ঝুঁকি ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও আদায়ে দুর্বলতা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নিয়ে গভর্নরের সতর্কতা এনসিটি ইজারা নিয়ে বিরোধ তীব্র, চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা নড়াইলে জমি বিরোধে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল এক যুবকের ফেব্রুয়ারিতে আবার বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৫০ টাকা বৃদ্ধি ঢাকা সেনানিবাসে চালু হলো সশস্ত্র বাহিনীর ওয়ার কোর্স উইং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের সাবেক বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ও স্ত্রীসহ চারজন কারাগারে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে কি বাদ পড়তে পারে পাকিস্তান?

ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর কী হতে পারে পাকিস্তানের পরিণতি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের সূচি অনুযায়ী প্রথমে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ ম্যাচ ছিল। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাদের।

কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তান সরকার দলটিকে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অনুমতি দেয়নি। এর ফলে নির্ধারিত ম্যাচটি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আইসিসির প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দ্রুত একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। আইসিসি আরও জানায়, তারা এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু জানেনি এবং বোর্ডকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিণতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইসিসি কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে

যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে আইসিসির হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা, আয়োজক স্বত্ব বাতিল কিংবা আইসিসি আয়োজিত প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও থাকতে পারে।

তবে সরাসরি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া হবে চূড়ান্ত ও শেষ বিকল্প। সাধারণত আইসিসি এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলে, কারণ এতে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মূল্য ও প্রতিযোগিতার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সমর্থকরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, প্রশাসকরা নয়। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ ভেন্যু, সূচি পরিবর্তন বা নেপথ্য আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান বের করা হয়েছে।

আইসিসির অতীত অভিজ্ঞতা

এর আগেও বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতির ঘটনা ঘটেছে। ২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত সুপার এইট পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয়নি। সেই ম্যাচটি বাতিল করা হয় এবং দুই দলকেই কোনো পয়েন্ট দেওয়া হয়নি। তখন আইসিসি কোনো দলকে নিষিদ্ধ না করে বিষয়টিকে কূটনৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করেছিল, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও আইসিসি সাধারণত বোর্ডগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে এবং স্পষ্টভাবে আইসিসি নিয়ম ভঙ্গ বা পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি না থাকলে নিষেধাজ্ঞার পথে যায় না।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে এবং এখন নজর আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনিশ্চয়তা, মুখ স্ক্যান আর ক্ষুদ্র ভ্রমণ—দুই হাজার ছাব্বিশে বদলে যাচ্ছে ভ্রমণের ভাষা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে কি বাদ পড়তে পারে পাকিস্তান?

০৮:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর কী হতে পারে পাকিস্তানের পরিণতি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের সূচি অনুযায়ী প্রথমে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৭ ফেব্রুয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ ম্যাচ ছিল। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাদের।

কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তান সরকার দলটিকে ভারতের বিপক্ষে খেলতে অনুমতি দেয়নি। এর ফলে নির্ধারিত ম্যাচটি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আইসিসির প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দ্রুত একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। আইসিসি আরও জানায়, তারা এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু জানেনি এবং বোর্ডকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিণতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইসিসি কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে

যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে আইসিসির হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা, আয়োজক স্বত্ব বাতিল কিংবা আইসিসি আয়োজিত প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও থাকতে পারে।

তবে সরাসরি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া হবে চূড়ান্ত ও শেষ বিকল্প। সাধারণত আইসিসি এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলে, কারণ এতে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মূল্য ও প্রতিযোগিতার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সমর্থকরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, প্রশাসকরা নয়। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ ভেন্যু, সূচি পরিবর্তন বা নেপথ্য আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান বের করা হয়েছে।

আইসিসির অতীত অভিজ্ঞতা

এর আগেও বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতির ঘটনা ঘটেছে। ২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত সুপার এইট পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে রাজি হয়নি। সেই ম্যাচটি বাতিল করা হয় এবং দুই দলকেই কোনো পয়েন্ট দেওয়া হয়নি। তখন আইসিসি কোনো দলকে নিষিদ্ধ না করে বিষয়টিকে কূটনৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করেছিল, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও আইসিসি সাধারণত বোর্ডগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে এবং স্পষ্টভাবে আইসিসি নিয়ম ভঙ্গ বা পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি না থাকলে নিষেধাজ্ঞার পথে যায় না।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে এবং এখন নজর আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।