যশোরে জনসভা থেকে সতর্কবার্তা
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং বিশেষ করে ভোট গণনার সময় কারসাজির চেষ্টা হতে পারে। সোমবার বিকেলে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমানের ভাষ্য, নির্বাচন বানচালের যে কোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় জনগণকে অত্যন্ত সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।
ভোট গণনা নিয়ে সন্দেহ ও অভিযোগ
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ভোট গণনায় অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ জানে ভোট গণনায় স্বাভাবিকভাবে কত সময় লাগে। যারা অযথা বিলম্ব ঘটাতে চাইবে, তাদের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। তার মতে, এই বিলম্বই কারসাজির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
দেশপ্রেমিক বনাম দেশবিরোধী শক্তির লড়াই
ফেব্রুয়ারি ১২-এর নির্বাচনকে তিনি দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধী শক্তির মধ্যে লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন। তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণ যে ভোটাধিকার অর্জন করেছে, তা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
নারীদের অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদ
জনসভায় তারেক রহমান নারীদের নিয়ে সাম্প্রতিক এক অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওই বক্তব্যের দায় এড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি সত্য নয়। তার ভাষায়, যারা প্রকাশ্যে মিথ্যা বলে, তারা কখনো দেশের কল্যাণ করতে পারে না। তিনি নারীদের আহ্বান জানান, ভোটের মাধ্যমেই এর জবাব দিতে।
তথ্য সংগ্রহ ও ভোট কারসাজির আশঙ্কা
তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও মোবাইল পেমেন্ট নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী কারসাজির ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ভোট গণনায় বিলম্বের নামে কেউ যদি ফল বদলের চেষ্টা করে, তাহলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও নারীর মর্যাদা প্রসঙ্গ
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—নারীর মর্যাদার প্রতি কোনো সম্মান দেখানো হয়নি, যার ফলে অসংখ্য মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি এসব ষড়যন্ত্র রুখতে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান।
যশোর অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা
জনসভায় যশোর অঞ্চলের ফুলচাষ শিল্পের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই খাতকে আধুনিক করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু করা, শার্শার উলশী খালসহ বিভিন্ন খাল পুনঃখনন এবং উন্নত সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক কল্যাণ
তারেক রহমান বলেন, নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি সবসময় নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করেছে। তিনি অতীতের বিএনপি সরকারের সময়ে মেয়েদের মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গৃহিণীদের জন্য পরিবার কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র কৃষিঋণের সুদ মওকুফ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আইটি পার্ক স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি, যা বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হবে বলে জানান।
সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে। তিনি স্লোগানের মাধ্যমে বক্তব্য শেষ করেন—কোরবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
সভাপতিত্ব ও উপস্থিতি
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা বক্তব্য দেন। জনসভা শেষে তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















