০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে বিভ্রান্তি কাটান, সুস্থ অন্ত্রের গোপন রহস্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা লিবিয়া থেকে ১১০ বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী দেশে ফেরত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজলের মৃত্যু ভোট কারচুপিকারীরা ফ্যাসিস্টদের মতোই পরিণতি ভোগ করবে: নাহিদ খুলনায় গুলিতে যুবক নিহত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য বাংলাদেশি—এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়: সালাহউদ্দিন ভোলার মনপুরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৮ ৮ ফেব্রুয়ারির ঢাকা সমাবেশ বাতিল, বিভিন্ন স্থানে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে বিভ্রান্তি কাটান, সুস্থ অন্ত্রের গোপন রহস্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা

মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে প্রায় একশ ট্রিলিয়ন অণুজীব বসবাস করে, যাদের সম্মিলিতভাবে বলা হয় অন্ত্রের জীবাণু পরিবেশ। এই উপকারী জীবাণুগুলো ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে অন্ত্রকে সুস্থ রাখে। প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুটির সঠিক ভারসাম্যই সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোবায়োটিক কী এবং কেন দরকার
প্রোবায়োটিক হলো জীবন্ত অণুজীব, প্রধানত ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট, যা হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বাড়ায়। এগুলো অন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীরকে শক্তিশালী করে, পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর জায়গা দখল করে নেয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা, অ্যালার্জি, ডায়রিয়া, উচ্চ কোলেস্টেরল, ত্বকের সমস্যা এমনকি কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধেও প্রোবায়োটিক সহায়ক হতে পারে। দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ ও দুর্গন্ধ কমাতেও এর ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে ও প্রোবায়োটিক কার্যকর।

ফারমেন্টেড বা গাঁজন যুক্ত খাবার যেমন নির্দিষ্ট ধরনের দই, কিছু পনির, আচারজাত সবজি, আপেল সিডার ভিনেগার, গাঁজন করা চা ও সাওয়ার ক্রাউট প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত। প্রয়োজনে ট্যাবলেট বা গুঁড়া আকারেও এটি গ্রহণ করা যায়।

প্রিবায়োটিকের ভূমিকা
প্রিবায়োটিক মূলত প্রোবায়োটিকের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এগুলো গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্ত্রের উপকারী জীবাণু কে সক্রিয় রাখে এবং কোষের শক্তি উৎপাদন, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হরমোন নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো ও মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণসহ নানা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। পর্যাপ্ত প্রিবায়োটিক গ্রহণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, বৃহদান্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়াতে সহায়ক বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।

আঁশসমৃদ্ধ খাবার, রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ যুক্ত খাদ্য এবং ইনুলিন, অলিগোস্যাকারাইড ও পেকটিন সমৃদ্ধ ফল ও সবজি প্রোবায়োটিক এর প্রধান উৎস। বিশেষ করে কাঁচা কলা, অ্যাসপারাগাস, পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, বীজ, ওটস, বার্লি, আলু এবং বিভিন্ন ডাল জাতীয় খাদ্যে প্রিবায়োটিক প্রচুর থাকে।

খাদ্য তালিকায় যুক্ত করার সঠিক উপায়
রান্নার ধরনে খাদ্যের গুণাগুণ বদলে যেতে পারে, তাই প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে সঠিক পদ্ধতি জরুরি। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, আলু সেদ্ধ করে ঠান্ডা করলে উপকারী স্টার্চের পরিমাণ বাড়ে। ডালজাতীয় খাবার গরম অবস্থায় খেলে অন্ত্রের জন্য উপকারী স্টার্চ বেশি পাওয়া যায়। অধিকাংশ ফল ও সবজি টাটকা ও কাঁচা অবস্থায় খেলে প্রিবায়োটিকের উপকারিতা বেশি মেলে। তবে নতুন এসব খাবার ধীরে ধীরে খাদ্য তালিকায় যোগ করার পরামর্শ দেন গবেষকরা, কারণ হঠাৎ বেশি গ্রহণ করলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে বিভ্রান্তি কাটান, সুস্থ অন্ত্রের গোপন রহস্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা

প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে বিভ্রান্তি কাটান, সুস্থ অন্ত্রের গোপন রহস্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা

০৪:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে প্রায় একশ ট্রিলিয়ন অণুজীব বসবাস করে, যাদের সম্মিলিতভাবে বলা হয় অন্ত্রের জীবাণু পরিবেশ। এই উপকারী জীবাণুগুলো ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে অন্ত্রকে সুস্থ রাখে। প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুটির সঠিক ভারসাম্যই সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোবায়োটিক কী এবং কেন দরকার
প্রোবায়োটিক হলো জীবন্ত অণুজীব, প্রধানত ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট, যা হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বাড়ায়। এগুলো অন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীরকে শক্তিশালী করে, পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর জায়গা দখল করে নেয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা, অ্যালার্জি, ডায়রিয়া, উচ্চ কোলেস্টেরল, ত্বকের সমস্যা এমনকি কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধেও প্রোবায়োটিক সহায়ক হতে পারে। দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ ও দুর্গন্ধ কমাতেও এর ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে ও প্রোবায়োটিক কার্যকর।

ফারমেন্টেড বা গাঁজন যুক্ত খাবার যেমন নির্দিষ্ট ধরনের দই, কিছু পনির, আচারজাত সবজি, আপেল সিডার ভিনেগার, গাঁজন করা চা ও সাওয়ার ক্রাউট প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত। প্রয়োজনে ট্যাবলেট বা গুঁড়া আকারেও এটি গ্রহণ করা যায়।

প্রিবায়োটিকের ভূমিকা
প্রিবায়োটিক মূলত প্রোবায়োটিকের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এগুলো গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্ত্রের উপকারী জীবাণু কে সক্রিয় রাখে এবং কোষের শক্তি উৎপাদন, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হরমোন নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো ও মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণসহ নানা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। পর্যাপ্ত প্রিবায়োটিক গ্রহণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, বৃহদান্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়াতে সহায়ক বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।

আঁশসমৃদ্ধ খাবার, রেজিস্ট্যান্স স্টার্চ যুক্ত খাদ্য এবং ইনুলিন, অলিগোস্যাকারাইড ও পেকটিন সমৃদ্ধ ফল ও সবজি প্রোবায়োটিক এর প্রধান উৎস। বিশেষ করে কাঁচা কলা, অ্যাসপারাগাস, পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, বীজ, ওটস, বার্লি, আলু এবং বিভিন্ন ডাল জাতীয় খাদ্যে প্রিবায়োটিক প্রচুর থাকে।

খাদ্য তালিকায় যুক্ত করার সঠিক উপায়
রান্নার ধরনে খাদ্যের গুণাগুণ বদলে যেতে পারে, তাই প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে সঠিক পদ্ধতি জরুরি। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, আলু সেদ্ধ করে ঠান্ডা করলে উপকারী স্টার্চের পরিমাণ বাড়ে। ডালজাতীয় খাবার গরম অবস্থায় খেলে অন্ত্রের জন্য উপকারী স্টার্চ বেশি পাওয়া যায়। অধিকাংশ ফল ও সবজি টাটকা ও কাঁচা অবস্থায় খেলে প্রিবায়োটিকের উপকারিতা বেশি মেলে। তবে নতুন এসব খাবার ধীরে ধীরে খাদ্য তালিকায় যোগ করার পরামর্শ দেন গবেষকরা, কারণ হঠাৎ বেশি গ্রহণ করলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে।