চীনের ঝকঝকে শহর আর দ্রুতগতির রেলপথ দেখে মুগ্ধ হন বহু বিদেশি। কিন্তু দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রশংসা এতদিন খুব বেশি শোনা যেত না। সম্প্রতি এক ব্রিটিশ নারীর অভিজ্ঞতা সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের পেটব্যথা নিয়ে নিজ দেশে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে না পেরে তিনি বেইজিংয়ের একটি সরকারি হাসপাতালে যান। সেখানে পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং পুরো খরচ পড়ে প্রায় দুই হাজার আটশ ইউয়ান, যা নিজ দেশের বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম। তার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আরও বিদেশি চীনে সাশ্রয়ী ও দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেন।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গন্তব্য হওয়ার পথে চীন
এক দশক আগে চীন সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক চিকিৎসা পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করা হবে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই এগোচ্ছে দেশটি। গত বছর চীনের হাসপাতালগুলোতে প্রায় তেরো লাখ বিদেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যা ২০২২ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, চিকিৎসা পর্যটন খাতের বাজারমূল্য ২০২৫ সালের প্রায় এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে তিন দশমিক চার বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
উন্নত সেবা ও কম খরচের আকর্ষণ
চীনের সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এখনও সমান মানের নয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় হাসপাতালগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ চিকিৎসকে সমৃদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে লেজার চোখের অস্ত্রোপচারের মতো কিছু নির্দিষ্ট চিকিৎসায় তারা বিশ্বমানের সেবা দিচ্ছে। খরচ পশ্চিমা দেশের তুলনায় কম হওয়ায় বিদেশিদের আগ্রহ বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে ইংরেজি জানা কর্মীও রয়েছে। পাশাপাশি ভিসামুক্ত প্রবেশব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে বিদেশিদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চীনে যাওয়া সহজ হয়েছে। দক্ষিণ চীনের হাসপাতালে ভিয়েতনামের রোগী বাড়ছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার নাগরিকরাও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রচার, প্রতিযোগিতা ও উদ্বেগ
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই প্রবণতাকে আন্তর্জাতিক রোগীদের কাছে চীনের আকর্ষণ বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, পশ্চিমা দেশের তুলনায় চীনে দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এমন বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে যে গুরুতর অসুস্থতা অনেক দেশে মানুষকে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।
তবে দেশের ভেতরে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিদেশি রোগীর চাপ বাড়লে সাধারণ মানুষের সেবায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। চিকিৎসকদের অতিরিক্ত কাজের চাপ ও দীর্ঘ সারির কথাও উঠে আসছে আলোচনায়। যদিও নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের আন্তর্জাতিক বিভাগ মোট সক্ষমতার সীমিত অংশ ব্যবহার করতে পারে, তবুও এই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চীনের সাফল্যের গল্প হলেও এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে জাতীয়তাবাদী মনোভাবের কিছু মানুষ স্বস্তি পাচ্ছেন না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















