০২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
রপ্তানি কম, আমদানি বেশি: বাংলাদেশের বহিঃখাতে চাপ বাড়ছে কেন ট্রাম্পের অস্থির কৌশল নিয়ে বেইজিংয়ের চিন্তা, শি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক হিসাব চীনের ইউয়ান লেনদেনে রেকর্ড, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন গতি দিল হরমুজ প্রণালিতে টোল নিয়ে নতুন ভাবনা, ফি বা চীনা টোকেনে নিষ্পত্তির প্রস্তাব এক কিশোরের বেঁচে ওঠার গল্প অভিজাত স্কুলের একাকিত্ব থেকে ইমোর ভিড়ে— সার উৎপাদনে গতি ফিরিয়ে আনতে বড় পদক্ষেপ, কৃষি ও শিল্প খাতে বাড়ানো হলো বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কেরালার ভোটে লম্বা লাইন, নীরব বার্তা আর তৃতীয় মেয়াদের কঠিন পরীক্ষা গ্লোবাল ভিলেজ কবে খুলবে, এখনো নেই নিশ্চিত তারিখ ফুয়েল পাসে ঢাকার দুই পাম্পে জ্বালানি বিক্রি শুরু পরীক্ষামূলকভাবে শ্রম আইন সংশোধনী পাস, ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারে বড় পরিবর্তন

বিজ্ঞান বাজেটে কংগ্রেসের প্রতিরোধ, ট্রাম্পের কাটছাঁট পরিকল্পনায় ধাক্কা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালজুড়ে বিজ্ঞানী সমাজ ছিল গভীর অনিশ্চয়তায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হাজার হাজার গবেষণা অনুদান বাতিল করে এবং গবেষকদের জন্য বরাদ্দ থাকা বিপুল অর্থ আটকে দেয়। অর্থের সংকটে বহু গবেষণাগার বন্ধ হয়ে যায়, বিদেশি গবেষকদের আগ্রহ কমে আসে এবং ক্রমেই বেশি সংখ্যক মার্কিন বিজ্ঞানী বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজতে শুরু করেন। এর মধ্যেই ২০২৬ সালের বাজেট প্রস্তাবে প্রধান বিজ্ঞান সহায়তা সংস্থাগুলোর অর্থ অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

কংগ্রেসের বিরল প্রতিরোধ
এই পরিস্থিতি কংগ্রেসে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সাধারণত নীরব থাকা রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত কাটছাঁট প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে ব্যয় বিলের ভাষা আরও কঠোর করে প্রশাসন কীভাবে বিজ্ঞান খাতে অর্থ ব্যয় করবে তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়। এতে কংগ্রেস তাদের আর্থিক ক্ষমতার ব্যবহার পুনরুদ্ধার করেছে বলেই বিশ্লেষকদের মত।

গবেষণা খাতে বড় কাটছাঁটের প্রস্তাব
ট্রাম্পের বাজেট পরিকল্পনায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের অর্থায়ন প্রায় ৪০ শতাংশ কমানোর কথা ছিল। এই সংস্থাটি বিপ্লবী গবেষণার বড় অংশ পরিচালনা করে এবং নিজস্ব গবেষণাও চালায়। পাশাপাশি তাদের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৭ থেকে কমিয়ে ৮-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু কংগ্রেস সংস্থাটির কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি বাজেট সামান্য বৃদ্ধি করে। একইভাবে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, নাসা এবং জ্বালানি দপ্তরের বিজ্ঞান কার্যালয়ের অর্থায়ন আগের বছরের কাছাকাছি রাখা হয়।

আইনগত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার
শুধু বাজেট রক্ষা নয়, অর্থ ব্যয়ের সময় ও পদ্ধতি নিয়েও কংগ্রেস আইনি নির্দেশনা যুক্ত করেছে। আগে এসব নির্দেশনা ব্যাখ্যামূলক নথিতে থাকলেও এবার তা সরাসরি আইনে যুক্ত হওয়ায় প্রশাসনের ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয়ের সুযোগ কমে গেছে। ফলে বিজ্ঞান খাতে বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখা বা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও কমেছে।

বিজ্ঞান ও অর্থনীতির সুরক্ষা
আইনপ্রণেতারা বুঝতে পেরেছেন, বিজ্ঞান খাতে বড় আঘাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দুর্বল করবে, কর্মসংস্থান কমাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বাজেট লড়াইয়ে অবস্থান নেওয়ার পর এখন প্রশাসনের বৈজ্ঞানিক পরামর্শবিরোধী অবস্থান ঠেকাতেও কংগ্রেসকে তদারকি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি কম, আমদানি বেশি: বাংলাদেশের বহিঃখাতে চাপ বাড়ছে কেন

বিজ্ঞান বাজেটে কংগ্রেসের প্রতিরোধ, ট্রাম্পের কাটছাঁট পরিকল্পনায় ধাক্কা

১১:০০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালজুড়ে বিজ্ঞানী সমাজ ছিল গভীর অনিশ্চয়তায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হাজার হাজার গবেষণা অনুদান বাতিল করে এবং গবেষকদের জন্য বরাদ্দ থাকা বিপুল অর্থ আটকে দেয়। অর্থের সংকটে বহু গবেষণাগার বন্ধ হয়ে যায়, বিদেশি গবেষকদের আগ্রহ কমে আসে এবং ক্রমেই বেশি সংখ্যক মার্কিন বিজ্ঞানী বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজতে শুরু করেন। এর মধ্যেই ২০২৬ সালের বাজেট প্রস্তাবে প্রধান বিজ্ঞান সহায়তা সংস্থাগুলোর অর্থ অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।

কংগ্রেসের বিরল প্রতিরোধ
এই পরিস্থিতি কংগ্রেসে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সাধারণত নীরব থাকা রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত কাটছাঁট প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে ব্যয় বিলের ভাষা আরও কঠোর করে প্রশাসন কীভাবে বিজ্ঞান খাতে অর্থ ব্যয় করবে তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়। এতে কংগ্রেস তাদের আর্থিক ক্ষমতার ব্যবহার পুনরুদ্ধার করেছে বলেই বিশ্লেষকদের মত।

গবেষণা খাতে বড় কাটছাঁটের প্রস্তাব
ট্রাম্পের বাজেট পরিকল্পনায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের অর্থায়ন প্রায় ৪০ শতাংশ কমানোর কথা ছিল। এই সংস্থাটি বিপ্লবী গবেষণার বড় অংশ পরিচালনা করে এবং নিজস্ব গবেষণাও চালায়। পাশাপাশি তাদের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৭ থেকে কমিয়ে ৮-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু কংগ্রেস সংস্থাটির কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি বাজেট সামান্য বৃদ্ধি করে। একইভাবে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, নাসা এবং জ্বালানি দপ্তরের বিজ্ঞান কার্যালয়ের অর্থায়ন আগের বছরের কাছাকাছি রাখা হয়।

আইনগত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার
শুধু বাজেট রক্ষা নয়, অর্থ ব্যয়ের সময় ও পদ্ধতি নিয়েও কংগ্রেস আইনি নির্দেশনা যুক্ত করেছে। আগে এসব নির্দেশনা ব্যাখ্যামূলক নথিতে থাকলেও এবার তা সরাসরি আইনে যুক্ত হওয়ায় প্রশাসনের ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয়ের সুযোগ কমে গেছে। ফলে বিজ্ঞান খাতে বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখা বা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও কমেছে।

বিজ্ঞান ও অর্থনীতির সুরক্ষা
আইনপ্রণেতারা বুঝতে পেরেছেন, বিজ্ঞান খাতে বড় আঘাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দুর্বল করবে, কর্মসংস্থান কমাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বাজেট লড়াইয়ে অবস্থান নেওয়ার পর এখন প্রশাসনের বৈজ্ঞানিক পরামর্শবিরোধী অবস্থান ঠেকাতেও কংগ্রেসকে তদারকি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।