০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
তারেক রহমানকে ‘কাগুজে বাঘ’ বললেন নাসিরউদ্দিন, ছাত্রদল–যুবদলকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা কৃষিভিত্তিক শিল্পই বদলাতে পারে কৃষকের জীবন: তারেক রহমান পতনের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে হারাল পাকিস্তান ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান বিএনপি প্রার্থীর যাত্রাশিল্পের পথিকৃৎ মিলন কান্তি দে আর নেই বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ, অনূর্ধ্ব উনিশ সাফে চ্যাম্পিয়ন ভারত বন্ধ ছয় চিনিকল চালুর দাবিতে ৩১ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবে গ্রহণযোগ্যতা: সিপিডি হজ ভিসা বিতরণ শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি, আগাম প্রস্তুতিতে সৌদি আরব মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনী আধিপত্যের সংঘর্ষ, গুলিতে আহত দুজন

রমেশ চন্দ্র সেন “নেই” ও নীরবতা

কিছুদিন আগে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ের হিন্দুদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “এবার তো আপনাদের রমেশ দা নেই, এবার আমাকে ভোট দেন।” তখনও ঠাকুরগাঁও বা বাংলাদেশের অনেক মানুষ ও বিশেষত রমেশ চন্দ্র সেনের পরিচিত ও ভালোবাসার মানুষরা মনে করেছিলেন—রমেশ সেন এখন জেলে আছেন, তাই তিনি “নেই”। কেউ কি বুঝেছিল, রমেশ সেন আসলে “নেই” হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে।

আজ ৭ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ বলেছে, তাকে জেলখানা থেকে হাসপাতালে আনার পথে তিনি মারা গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছেন, তাকে কারাগারের জেলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা ও সুশীল সমাজ কী বলবে তা কেউ জানে না।

সাধারণত মানবাধিকার গ্রুপগুলো কখন কী কথা বলে তা এখন গোটা পৃথিবীর সচেতন মানুষ জানে। তাই এখন ধরে নিতে হবে রমেশ চন্দ্র সেন “নেই”—এটাই স্বাভাবিক। আর যেভাবে তিনি মারা গেছেন এটাই এদেশে স্বাভাবিক।

Black Curtain Images – Browse 411,618 Stock Photos, Vectors, and Video | Adobe Stock

রমেশ চন্দ্র সেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের পাঁচ বারের সদস্য। তিনি পানি সম্পদমন্ত্রীও ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের। নিজে বিত্তবান মানুষ ছিলেন। মানুষকে দান করেছেন। ছাত্রদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

তার এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসত। ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে রমেশ চন্দ্র সেনকে ভালোবাসত।

নির্বাচন সামনে রেখে রমেশ চন্দ্র সেন পৃথিবী থেকে নেই হয়ে গেলেন। কারণ, আর যাই হোক তার আপনজনের কাছে এ মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।

তার আপনজনদেরকে এখন নীরব থাকতে হবে। তাকে যারা ভালোবাসত তাদেরও নীরব থাকতে হবে।

বাস্তবে পৃথিবীতে মাঝে মাঝে এমন নীরবতা নামে। পৃথিবীর আদি কাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে হিটলারের হাত ধরে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে স্ট্যালিনের হাত ধরে এমন বহু নীরবতা পৃথিবীতে নেমেছে।

রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুর সময় তার চারপাশে তেমনই নীরবতা ছিল।

রমেশ চন্দ্র সেনকে নিয়ে আজ কোনো শোকসভা হবে না। তারপরেও তিনি দেশের জন্য তার এলাকার জন্যে যা করেছেন নীরবে হলেও মানুষ তা মনে করবে।

আর নীরবতারও একটি শক্তি আছে। পৃথিবী বার বার নীরবতার শক্তিও দেখেছে।

রমেশ চন্দ্র সেনের ভালোবাসার মানুষরা এখন নীরবতা দিয়েই তাকে স্মরণ করবে। আর ভবিষ্যৎ বড়ই অগভীর ও অস্বচ্ছ—যতই বুদ্ধিমান মানুষ হোক না কেউ ভবিষ্যৎ দেখতে পায় না। ভবিষ্যৎ কালের গতিতেই আসে।

রমেশ চন্দ্র সেনের আত্মা শান্তি পাক। তার পালিয়ে বেড়ানো পরিবারের সদস্যদের ঈশ্বর শোক সহ্য করার ক্ষমতা দেন—এটাই সকলের কামনা।

—কালান্তর

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানকে ‘কাগুজে বাঘ’ বললেন নাসিরউদ্দিন, ছাত্রদল–যুবদলকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা

রমেশ চন্দ্র সেন “নেই” ও নীরবতা

০৭:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিছুদিন আগে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ের হিন্দুদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “এবার তো আপনাদের রমেশ দা নেই, এবার আমাকে ভোট দেন।” তখনও ঠাকুরগাঁও বা বাংলাদেশের অনেক মানুষ ও বিশেষত রমেশ চন্দ্র সেনের পরিচিত ও ভালোবাসার মানুষরা মনে করেছিলেন—রমেশ সেন এখন জেলে আছেন, তাই তিনি “নেই”। কেউ কি বুঝেছিল, রমেশ সেন আসলে “নেই” হয়ে যাবে পৃথিবী থেকে।

আজ ৭ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ বলেছে, তাকে জেলখানা থেকে হাসপাতালে আনার পথে তিনি মারা গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছেন, তাকে কারাগারের জেলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা ও সুশীল সমাজ কী বলবে তা কেউ জানে না।

সাধারণত মানবাধিকার গ্রুপগুলো কখন কী কথা বলে তা এখন গোটা পৃথিবীর সচেতন মানুষ জানে। তাই এখন ধরে নিতে হবে রমেশ চন্দ্র সেন “নেই”—এটাই স্বাভাবিক। আর যেভাবে তিনি মারা গেছেন এটাই এদেশে স্বাভাবিক।

Black Curtain Images – Browse 411,618 Stock Photos, Vectors, and Video | Adobe Stock

রমেশ চন্দ্র সেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের পাঁচ বারের সদস্য। তিনি পানি সম্পদমন্ত্রীও ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের। নিজে বিত্তবান মানুষ ছিলেন। মানুষকে দান করেছেন। ছাত্রদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

তার এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসত। ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে রমেশ চন্দ্র সেনকে ভালোবাসত।

নির্বাচন সামনে রেখে রমেশ চন্দ্র সেন পৃথিবী থেকে নেই হয়ে গেলেন। কারণ, আর যাই হোক তার আপনজনের কাছে এ মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।

তার আপনজনদেরকে এখন নীরব থাকতে হবে। তাকে যারা ভালোবাসত তাদেরও নীরব থাকতে হবে।

বাস্তবে পৃথিবীতে মাঝে মাঝে এমন নীরবতা নামে। পৃথিবীর আদি কাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে হিটলারের হাত ধরে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে স্ট্যালিনের হাত ধরে এমন বহু নীরবতা পৃথিবীতে নেমেছে।

রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুর সময় তার চারপাশে তেমনই নীরবতা ছিল।

রমেশ চন্দ্র সেনকে নিয়ে আজ কোনো শোকসভা হবে না। তারপরেও তিনি দেশের জন্য তার এলাকার জন্যে যা করেছেন নীরবে হলেও মানুষ তা মনে করবে।

আর নীরবতারও একটি শক্তি আছে। পৃথিবী বার বার নীরবতার শক্তিও দেখেছে।

রমেশ চন্দ্র সেনের ভালোবাসার মানুষরা এখন নীরবতা দিয়েই তাকে স্মরণ করবে। আর ভবিষ্যৎ বড়ই অগভীর ও অস্বচ্ছ—যতই বুদ্ধিমান মানুষ হোক না কেউ ভবিষ্যৎ দেখতে পায় না। ভবিষ্যৎ কালের গতিতেই আসে।

রমেশ চন্দ্র সেনের আত্মা শান্তি পাক। তার পালিয়ে বেড়ানো পরিবারের সদস্যদের ঈশ্বর শোক সহ্য করার ক্ষমতা দেন—এটাই সকলের কামনা।

—কালান্তর