০৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই শহর শুধু ঘুমানোর জায়গা নয়: মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কেন্দ্র করেই নগর পরিকল্পনা হওয়া উচিত মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক হচ্ছে বয়স যাচাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, শপথ নিলেন ৩৫ নতুন মন্ত্রী কোরিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের আড়ালে বাড়ছে বৈষম্যের নতুন রেখা পাকিস্তানে কৌশলগত তেল মজুতের পরিকল্পনা, ইরান সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্যোগ পাকিস্তানের ব্যাংক জাতীয়করণের অন্যতম কারণ ছিল বাংলাদেশ সৃষ্টির ফলে সম্পদের উৎস হারানো কুয়েতে ইরানের হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের চট্টগ্রামের হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যু, কক্ষে মিলল দম্পতির মরদেহ

নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশ সদস্যদের জন্য ২২ নিষেধাজ্ঞা, কড়াকড়ি নির্দেশনায় জোর নিরপেক্ষতায়

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে ২২ ধরনের কাজকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র।

নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বে জোর

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা অটুট রাখাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ বা প্রার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, উপহার বা অন্য সুবিধা নেওয়া যাবে না।

৪৮ হাজার পুলিশ সদস্যের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স

ভোটকেন্দ্রে আচরণে কড়াকড়ি

নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। ভোটারদের কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে প্রভাবিত করা, তাদের ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করা বা অযথা হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ থেকেও বিরত থাকতে হবে।

প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলা, অপ্রয়োজনীয় আলাপ বা ঘনিষ্ঠ আচরণ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সংবেদনশীল কোনো তথ্য বা সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আগাম মন্তব্য করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও নজরদারি

দায়িত্ব পালনকালে বা তার বাইরে রাজনৈতিক মিছিল, দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিতি কিংবা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মত প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক পোস্ট দেওয়া, শেয়ার বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব চলাকালে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার এবং স্পর্শকাতর ঘটনার ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া পাঠানোও নিষিদ্ধ।

জনসমক্ষে আচরণেও নির্দেশনা

পেশাদার ভাবমূর্তি বজায় রাখতে জনসমাগমস্থলে যত্রতত্র খাবার খাওয়া, ফুটপাত বা টং দোকানে বসা, কিংবা প্রকাশ্যে মুখরোচক খাবার গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একত্রে জটলা করে ঘোরাঘুরি, অশালীন ভাষা ব্যবহার, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণ এবং অপেশাদার পোশাক পরিধানও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, এই বিস্তৃত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে এবং একটি প্রশ্নাতীত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই

নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশ সদস্যদের জন্য ২২ নিষেধাজ্ঞা, কড়াকড়ি নির্দেশনায় জোর নিরপেক্ষতায়

০৪:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে ২২ ধরনের কাজকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র।

নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বে জোর

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা অটুট রাখাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ বা প্রার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, উপহার বা অন্য সুবিধা নেওয়া যাবে না।

৪৮ হাজার পুলিশ সদস্যের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স

ভোটকেন্দ্রে আচরণে কড়াকড়ি

নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। ভোটারদের কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে প্রভাবিত করা, তাদের ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করা বা অযথা হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ থেকেও বিরত থাকতে হবে।

প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলা, অপ্রয়োজনীয় আলাপ বা ঘনিষ্ঠ আচরণ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সংবেদনশীল কোনো তথ্য বা সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আগাম মন্তব্য করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও নজরদারি

দায়িত্ব পালনকালে বা তার বাইরে রাজনৈতিক মিছিল, দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিতি কিংবা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মত প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক পোস্ট দেওয়া, শেয়ার বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব চলাকালে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার এবং স্পর্শকাতর ঘটনার ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া পাঠানোও নিষিদ্ধ।

জনসমক্ষে আচরণেও নির্দেশনা

পেশাদার ভাবমূর্তি বজায় রাখতে জনসমাগমস্থলে যত্রতত্র খাবার খাওয়া, ফুটপাত বা টং দোকানে বসা, কিংবা প্রকাশ্যে মুখরোচক খাবার গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একত্রে জটলা করে ঘোরাঘুরি, অশালীন ভাষা ব্যবহার, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণ এবং অপেশাদার পোশাক পরিধানও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, এই বিস্তৃত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে এবং একটি প্রশ্নাতীত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।