সুইস বিশ্বখ্যাত ঘড়ি নির্মাতা সোয়াটচ গ্রুপ আর পিছিয়ে থাকতে পারে না, বছরের পর বছর লাভ কমছে, বাজার মূল্য ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এখন কৌশলগত বড় পরিবর্তন প্রয়োজন বলছেন বিশ্লেষকরা।
কৌশল পুনর্বিবেচনার চাপ
সোয়াটচ গ্রুপের শেয়ার মূল্য গত পনেরো বছরে বড় Rivals‑দের তুলনায় পিছিয়ে আছে, এবং কোম্পানি এখন উদ্ভাবনী শক্তি পুনরুদ্ধার, ব্র্যান্ড পোর্টফোলিও সংকুচিত করা এবং পরিচালনা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। পরামর্শদাতা ও বিনিয়োগকারীরা বলছেন, শুধুই ঘড়ি বানিয়েই কোম্পানি বাজারে প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারছে না এবং বড়ো পরিবর্তন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি সম্ভব হবে না।
পরিবার নিয়ন্ত্রণ ও বোর্ড সংস্কার
সোয়াটচের শেয়ারহোল্ডিং গঠন বিশ্লেষকদের মতে কোম্পানির মূল বোর্ডে হায়েক পরিবারের নিয়ন্ত্রণ এতটাই দৃঢ় যে ভোটাধিকারের বড় অংশ তাদের হাতে থাকলেও শেয়ারহোল্ডারের বৃহত্তর অংশের প্রতিনিধিত্ব মেলেনি। এই নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই তারা বোর্ডে একজন নতুন সদস্য আনতে প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন আরও স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সদস্য নিয়োগ প্রয়োজন যাতে পরিচালনা বোর্ড আরও কার্যকরভাবে কোম্পানি চালাতে পারে |
ব্র্যান্ড পোর্টফোলিও ও বাজার অবস্থা
সোয়াটচের প্রায় ১৬টি ব্র্যান্ডের মধ্যে মাঝারি বাজারের টিসো ও লংজিনেসের মতো নামগুলো বর্তমানে বাজার বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। আবার ব্লাঙ্কপেইন ও ব্রেগুয়ের মতো লোকসজ্জিত ঘড়ির চাহিদা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকতে পারে। তাই কিছু কমজোরি ব্র্যান্ড বিক্রি করে লাভজনক সেগমেন্টে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উৎপাদন ও মজুত সংকট
বিশ্লেষকদের মতে সোয়াটচ চাহিদা কম থাকলেও উৎপাদন কমিয়ে দেয়নি, যার ফলে মজুত বাড়ছে এবং মার্জিনে চাপ পড়ছে। গত বছর মুখ্য আয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে এবং মজুতের মূল্য পাঁচ বছরে প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কোম্পানির নীচের লাইনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ভবিষ্যৎ দৃশ্য
কিছু বিনিয়োগকারী মনে করেন সোয়াটচের সম্পদ এখন বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি এবং সময়ের সাথে যদি কৌশলগত সংস্কার হয়, তাহলে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে সত্যিকার ফলাফল দেখতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















