জয়পুরহাটে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে বিএনপি ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে শহরের সরকারি কলেজের পেছনের পশ্চিম গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জয়পুরহাট-১ আসনে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা তার সমর্থকদের নিয়ে সরকারি কলেজ এলাকার একটি বুথ পরিদর্শনে যান। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উভয় পক্ষের অভিযোগ
সাবেকুন নাহার অভিযোগ করেন, কলেজ গেটে পৌঁছালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা তাকে আটকে হয়রানি করেন। তার সঙ্গে থাকা আত্মীয়স্বজন ও কর্মীরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার ভগ্নিপতিসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর ছোট ভাই ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মামুনুর রশীদ প্রধান দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিরাগত লোকজন নিয়ে এলাকায় আসেন এবং ভোট কেনাবেচার চেষ্টা করেন। স্থানীয় মানুষ ও বিএনপি কর্মীরা বাধা দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরাই প্রথমে হামলা চালান বলে তার অভিযোগ।

আহতদের অবস্থা
আহতদের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দার আল হামজা, তানজিদ, সোহাগ, রোহান, আবদুল্লাহ; পাঁচবিবির দানেজপুরের তৌফিক হোসেন; জয়পুরহাট সুগার মিল সংলগ্ন তাজুর মোড়ের রোমান হোসেন; শান্তিনগর মহল্লার রাজিব হোসেন ও আল আমিন রয়েছেন। সবাই জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা আশঙ্কামুক্ত।

পুলিশের বক্তব্য
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















