ঝিনাইদহ-৪ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল শিটে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার রাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রে ২৩টি স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট উদ্ধার হওয়ার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর কেন্দ্র, সালিমুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। অপসারিত কর্মকর্তা জাসমিন আরা, যিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবেও কর্মরত।
নতুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিয়োগ

ঝিনাইদহের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসুদ রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানান, কালীগঞ্জ শহীদ নূর আলী কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক শামসুজ্জামান খানকে নতুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনও ধরনের দায়িত্বহীনতা বরদাস্ত করা হবে না।
কীভাবে ধরা পড়ল অনিয়ম
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার দিকে কেন্দ্র থেকে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের স্বাক্ষর করা ২৩টি ফলাফল শিট উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজওয়ানা নাহিদ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান।

সেলিম রেজা জানান, স্বাক্ষরিত ফলাফল শিটগুলো জব্দ করে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনও প্রভাব পড়বে না। নতুন করে ফলাফল শিট প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
অপসারিত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জাসমিন আরা দাবি করেন, ভুল বুঝতে না পেরে তিনি ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে বিষয়টি অনুধাবন করে তিনি কাগজগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হলেও প্রশাসন বলছে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















