সিলেটে ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরের সুবহানীঘাটের মৌবনে একটি বাসায় সংঘর্ষের সরঞ্জাম রাখা থাকার খবর পাওয়ার পর পুলিশ সর্তক হয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভোটের দিন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সিলেট-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের কাছে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিয়ানীবাজারে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। সিলেট-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী সীমান্তবর্তী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার সহযোগিতা চেয়েছেন। সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চাকসু মামুন প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া গেলেও কেন্দ্র দখল বা প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

জামায়াতে ইসলামীরও অভিযোগ রয়েছে। নগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রের এজেন্টদের আগে থেকেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা ভোটের পরিবেশকে শঙ্কাপূর্ণ করছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ১০১৬টি ভোটকেন্দ্র মনিটরিং করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী কেন্দ্রগুলোতে বিজিবি মোতায়েন থাকবে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও কার্যক্রমে অংশ নেবে। র্যাব-৯’র অধিনায়ক লে. কর্নেল তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে র্যাব অ্যাকশনে থাকবে এবং সকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় থাকবে।
সিলেটে আসনভিত্তিক প্রধান লড়াইয়ে সিলেট-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান মুখোমুখি, সিলেট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদী লুনার সঙ্গে খেলাফত নেতা মুনতাসির আলীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী ও জামায়াত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন লড়াই করছেন, সিলেট-৫ আসনে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সিলেট-৬ আসনে এমরান চৌধুরী ও জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিন মুখোমুখি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















