০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছয় মাসে ১৭৩ জনকে পুশ-ইন, বিএসএফের হাতে নিহত ৯: এইচআরএসএস এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি হয় কীভাবে? ফোনে মেসেজ পাঠালেও কি মৃত্যুদণ্ড, নতুন মাদক আইন নিয়ে বিতর্ক কেন আর্জেন্টিনার পিছু ছাড়ছে না ‘বিতর্ক’, ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ডস ব্যানার দেখিয়ে শাস্তির শঙ্কায় মেসিরা এইচএসসি পরীক্ষা বিতর্ক: পরিকল্পনার ঘাটতি ও চাপের রাজনীতিতে সংকটে শিক্ষার্থীদের আস্থা শীতল যুদ্ধের গোপন বাঙ্কার বদলে যাচ্ছে বিলাসবহুল ‘শেষ আশ্রয়’ আবাসনে যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহের অবসান, সপ্তাহান্তে নামছে তাপমাত্রা ইরানে মার্কিন হামলা জোরালো, অবরোধ ঘিরে বাড়ছে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা সমুদ্র পেরিয়ে চীনা মানবাধিকারকর্মীর পলায়ন, ৪০ ঘণ্টার ভয়ংকর যাত্রার পর নতুন জীবনে ডং গুয়াংপিং তীব্র গরমে ইউরোপের অবকাঠামো রক্ষায় ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাদা রঙের নতুন লড়াই

ফোনে মেসেজ পাঠালেও কি মৃত্যুদণ্ড, নতুন মাদক আইন নিয়ে বিতর্ক কেন

বাংলাদেশে ইয়াবা ও আইসের মতো মাদক অনলাইন ট্র্যাক করে ধরা গেছে বলেও দাবি করে কর্তৃপক্ষ

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদক বেচাকেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ নিয়ে এক ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে মাদক উদ্ধার বাধ্যতামূলক না রেখে অনলাইন কিংবা ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে মাদক কেনা, বেচা, সরবরাহ ও বিজ্ঞাপন করার মতো কিছু বিষয়কে সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

“ধরুন, একজন আপনাকে জিজ্ঞেস করলো – ‘জিনিস আছে?’ আপনি লিখলেন — ‘দেখি, জানাই’। এই একটা চ্যাট। একটা স্ক্রিনশট। এইটুকুই যথেষ্ট হতে পারে। কোনো মাদক উদ্ধার লাগবে না। খালি ডিজিটাল প্রমাণ। আর সর্বোচ্চ শাস্তি – মৃত্যুদণ্ড,” সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফেরদৌস হোসেন লিখেছেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায়।

যদিও এর ভিন্নমতও আছে। আইনজীবীদের অনেকে আবার মনে করছেন, মাদকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি যৌক্তিক এবং সাইবার স্পেসে মাদক অপরাধ প্রতিরোধেও শক্ত ব্যবস্থা থাকাটা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলছেন, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যে আইন করা হয়েছে তা যৌক্তিক, কারণ সাইবার স্পেসে মাদক সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা লেনদেনের প্রমাণ পেলে তো ধরতেই হবে।

তবে আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার আদালতে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা মো. নাজমুল হাসান বলছেন, আইনটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার বড় কারণই হচ্ছে “এ আইনটি অপপ্রয়োগের সুযোগ আছে”।

“যেভাবে যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক লেনদেন বা এমন কিছু বিষয়কে রাখা হয়েছে তাতে অনেক নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে অসাধুরা,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে গত ১৩ই জুলাই পাস হলেও এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গেজেটে আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর কার্যকর হওয়ার কথা। তবে বুধবার পর্যন্ত এই গেজেট হয়নি।

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা ঠেকাতে আগে কোনো আইন ছিল না

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা ঠেকাতে আগে কোনো আইন ছিল না

আইনে নতুন কী এসেছে

মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ তে কিছু সংশোধনী এনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

বিলটি সংসদে উত্থাপনের সময় এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এখতিয়ারসম্পন্ন সাধারণ আদালতে বিচারের বিধান অক্ষুণ্ণ রেখে একই সাথে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাসমূহে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজন করা হচ্ছে।

“পাশাপাশি মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রোধে বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার ও ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে,” ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস- এ সম্পর্কিত রিপোর্টে বলেছে, “আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না”।

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

পাশ হওয়া বিলে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সাইবার স্পেসের বিভিন্ন রিসোর্স, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, দেশে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদকের বিস্তারের প্রবণতা বাড়ছে বলেই এ ধরনের আইন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

“ইয়াবা, ফেনসিডিল, আইস, এলএসডি, কোকেন- এগুলো অনলাইনে ট্র্যাক করে উদ্ধার করেছি। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে যে ধরনের ড্রাগই বেচাকেনা করা হোক সেটা ধরার জন্যই কাজ করবো। এতদিন আইনে তা ছিল না। অনলাইনে করোনার মহামারীর সময় অনলাইনে মাদক বেচাকেনা শুরু হয়েছে এবং সেটা বাড়ছে। সে কারণেই সাইবার নজরদারির মাধ্যমে মাদক ট্রেস করার চেষ্টা করছি। সাইবার নজরদারি সবসময় বজায় রাখবো যাতে মাদকের বিস্তার না ঘটে,” বলছিলেন তিনি।

বাংলাদেশে ২০২৩ সালে আইসের একটি বড় চালান ধরা পড়েছিল

বাংলাদেশে ২০২৩ সালে আইসের একটি বড় চালান ধরা পড়েছিল

সমালোচনা কেন

যারা নতুন আইনের সমালোচনা করছেন তারা বলছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক না রাখার কারণে সাইবার স্পেসে মাদক কেনা-বেচা কিংবা সরবরাহ বা যোগাযোগের অভিযোগ তুলে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির সুযোগ বাড়বে।

আইনজীবী ফেরদৌস হোসেন তার ভেরিফায়েড পাতায় লিখেছেন, “নতুন আইনে মাদক সরবরাহে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হইছে। হ্যাঁ, এই মৃত্যুদণ্ডের অপব্যবহার হবে। কিছু মানুষ হুদাই ঝুলে যাবে। পুলিশ ব্যবসা করবে”।

অবশ্য মাদক সংক্রান্ত আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালের আইনেও ইয়াবা প্রতিরোধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়েছিল। ওই আইনে ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন বহনের দায়ে দোষী ব্যক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।

আইনজীবী নাজমুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “মাদক মামলার বিচারে আমরা দেখছি যে মাদক সাথে পাওয়া গেলেও যথাযথ ল্যাব বা টেস্টিং সক্ষমতা না থাকা অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যায়। এখন আবার সাইবার স্পেসের বিষয়গুলোকে এমনভাবে রাখা হয়েছে যেখানে মাদক উদ্ধারের কোনো বিষয় নেই। ফলে আইনটি অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষকেও পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর সুযোগ বাড়বে”।

তবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একজন মনজিল মোরসেদ বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারই দিতে হবে এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন আইনকে যৌক্তিক বলেই মনে করেন।

“তবে উদ্বেগ তৈরির কারণ হলো এদেশে সব আইনই অপব্যবহার হয়। এখানেও সুযোগ আছে। ফলে আইনটি যারা প্রয়োগ করবেন, তাদের উচিত হবে সতর্ক থাকা যাতে করে কোনোভাবেই অপপ্রয়োগের অভিযোগ না ওঠে। অপপ্রয়োগ হলেই জনমনে প্রশ্ন উঠবে এবং তাতে মাদক বিরোধী অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তার মতে, অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলেই আইনটি প্রয়োগ হবে বলে তিনি মনে করেন।

স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো এই মাদকটি ‘মেথামফিটামিন’ ‘মেথ’ বা ‘ক্রিস্টাল মেথ' নামেও পরিচিত

স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো এই মাদকটি ‘মেথামফিটামিন’ ‘মেথ’ বা ‘ক্রিস্টাল মেথ’ নামেও পরিচিত

মাদক কী ও কোনগুলো

মাদকদ্রব্য হলো একটি রাসায়নিক দ্রব্য যা গ্রহণে মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়ে এবং যা আসক্তি সৃষ্টি করে। মাদক সেবন করলে মানুষের মনোদৈহিক- অর্থাৎ, শরীর ও মস্তিষ্কে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং এটি শারীরিক ও মানসিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে বলে চিকিৎসকরা বলে থাকেন।

বাংলাদেশে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ছাড়াও ইয়াবা কিংবা আইসের মতো মাদকের বিস্তার বাড়ছে এবং এগুলো বিস্তারে অনলাইন প্ল্যাটফর্মই বেশি ব্যবহার হচ্ছে বলে দাবি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

কিন্তু দেশি-বিদেীম মদপান করলেও এই আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির মহাপরিচালক মারুফ হাসান বলেছেন, যাদের পারমিট আছে তাদের নিয়ম মেনে গ্রহণ করতে পারে।

“কিন্তু গণহারে কেউ মদ বিক্রি করলে বা লাইসেন্সের বাইরে বেচাকেনা হলে সেটা অবশ্যই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে,” বলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক অমুসলিম নাগরিকরা ছাড়াও অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শের কারণে মদ্যপানের পারমিট পেয়ে থাকেন।

এর বাইরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, প্রচলিত অসংখ্য মাদকদ্রব্যগুলোকে আইনে তিন ভাগে রাখা হয়েছে। এতে ‘ক’ শ্রেণীতে পপি গাছ, পপি ফল, কোকো উদ্ভূত মাদক, আফিম, কোকেন, হেরোইন, ফেনটানাইল, মরফিনসহ মনোদৈহিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ধরনের আরও অনেক দ্রব্যাদি।

‘খ’ শ্রেণিতে পড়েছে গাঁজা, ভাং, সিদ্ধিসহ নেশা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে কিংবা আসক্তি সৃষ্টিতে সক্ষম যে কোনো উদ্ভিদ ছাড়াও অ্যালকোহল সহযোগে প্রস্তুত বিভিন্ন তরল বা ঔষধ যা আসক্তি সৃষ্টিতে সক্ষম বা নেশার উপকরণ হিসেবে পান করা হতে পারে। ওয়াইন, বিয়ার, চোলাইমদ, যে কোনো ধরনের মদ কিংবা নেশা সৃষ্টিকারী যাতে শূন্য দশমিক ২ শতাংশের বেশি অ্যালকোহলযুক্ত।

আর ‘গ’ শ্রেণিতে আছে মিথানল ও মিথানল মিশ্রিত যে কোনো তরল রাসায়নিক পদার্থ, স্পিরিট, মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত নয় এমন কোনো বাণিজ্যিক স্পিরিট, তাঁড়ি, পঁচুই ইত্যাদি।

এর বাইরেও আরও বহু মাদক এই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে যেগুলোর নাম খুব একটা পরিচিত নয়।

বিবিসি নিউজ বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ

ছয় মাসে ১৭৩ জনকে পুশ-ইন, বিএসএফের হাতে নিহত ৯: এইচআরএসএস

ফোনে মেসেজ পাঠালেও কি মৃত্যুদণ্ড, নতুন মাদক আইন নিয়ে বিতর্ক কেন

১২:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদক বেচাকেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ নিয়ে এক ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে মাদক উদ্ধার বাধ্যতামূলক না রেখে অনলাইন কিংবা ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে মাদক কেনা, বেচা, সরবরাহ ও বিজ্ঞাপন করার মতো কিছু বিষয়কে সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

“ধরুন, একজন আপনাকে জিজ্ঞেস করলো – ‘জিনিস আছে?’ আপনি লিখলেন — ‘দেখি, জানাই’। এই একটা চ্যাট। একটা স্ক্রিনশট। এইটুকুই যথেষ্ট হতে পারে। কোনো মাদক উদ্ধার লাগবে না। খালি ডিজিটাল প্রমাণ। আর সর্বোচ্চ শাস্তি – মৃত্যুদণ্ড,” সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফেরদৌস হোসেন লিখেছেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায়।

যদিও এর ভিন্নমতও আছে। আইনজীবীদের অনেকে আবার মনে করছেন, মাদকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি যৌক্তিক এবং সাইবার স্পেসে মাদক অপরাধ প্রতিরোধেও শক্ত ব্যবস্থা থাকাটা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলছেন, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যে আইন করা হয়েছে তা যৌক্তিক, কারণ সাইবার স্পেসে মাদক সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা লেনদেনের প্রমাণ পেলে তো ধরতেই হবে।

তবে আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার আদালতে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা মো. নাজমুল হাসান বলছেন, আইনটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার বড় কারণই হচ্ছে “এ আইনটি অপপ্রয়োগের সুযোগ আছে”।

“যেভাবে যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক লেনদেন বা এমন কিছু বিষয়কে রাখা হয়েছে তাতে অনেক নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে অসাধুরা,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে গত ১৩ই জুলাই পাস হলেও এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গেজেটে আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর কার্যকর হওয়ার কথা। তবে বুধবার পর্যন্ত এই গেজেট হয়নি।

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা ঠেকাতে আগে কোনো আইন ছিল না

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা ঠেকাতে আগে কোনো আইন ছিল না

আইনে নতুন কী এসেছে

মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ তে কিছু সংশোধনী এনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

বিলটি সংসদে উত্থাপনের সময় এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এখতিয়ারসম্পন্ন সাধারণ আদালতে বিচারের বিধান অক্ষুণ্ণ রেখে একই সাথে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাসমূহে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজন করা হচ্ছে।

“পাশাপাশি মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রোধে বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার ও ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে,” ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস- এ সম্পর্কিত রিপোর্টে বলেছে, “আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না”।

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

পাশ হওয়া বিলে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সাইবার স্পেসের বিভিন্ন রিসোর্স, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, দেশে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদকের বিস্তারের প্রবণতা বাড়ছে বলেই এ ধরনের আইন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

“ইয়াবা, ফেনসিডিল, আইস, এলএসডি, কোকেন- এগুলো অনলাইনে ট্র্যাক করে উদ্ধার করেছি। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে যে ধরনের ড্রাগই বেচাকেনা করা হোক সেটা ধরার জন্যই কাজ করবো। এতদিন আইনে তা ছিল না। অনলাইনে করোনার মহামারীর সময় অনলাইনে মাদক বেচাকেনা শুরু হয়েছে এবং সেটা বাড়ছে। সে কারণেই সাইবার নজরদারির মাধ্যমে মাদক ট্রেস করার চেষ্টা করছি। সাইবার নজরদারি সবসময় বজায় রাখবো যাতে মাদকের বিস্তার না ঘটে,” বলছিলেন তিনি।

বাংলাদেশে ২০২৩ সালে আইসের একটি বড় চালান ধরা পড়েছিল

বাংলাদেশে ২০২৩ সালে আইসের একটি বড় চালান ধরা পড়েছিল

সমালোচনা কেন

যারা নতুন আইনের সমালোচনা করছেন তারা বলছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক না রাখার কারণে সাইবার স্পেসে মাদক কেনা-বেচা কিংবা সরবরাহ বা যোগাযোগের অভিযোগ তুলে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির সুযোগ বাড়বে।

আইনজীবী ফেরদৌস হোসেন তার ভেরিফায়েড পাতায় লিখেছেন, “নতুন আইনে মাদক সরবরাহে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হইছে। হ্যাঁ, এই মৃত্যুদণ্ডের অপব্যবহার হবে। কিছু মানুষ হুদাই ঝুলে যাবে। পুলিশ ব্যবসা করবে”।

অবশ্য মাদক সংক্রান্ত আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালের আইনেও ইয়াবা প্রতিরোধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়েছিল। ওই আইনে ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন বহনের দায়ে দোষী ব্যক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।

আইনজীবী নাজমুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “মাদক মামলার বিচারে আমরা দেখছি যে মাদক সাথে পাওয়া গেলেও যথাযথ ল্যাব বা টেস্টিং সক্ষমতা না থাকা অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যায়। এখন আবার সাইবার স্পেসের বিষয়গুলোকে এমনভাবে রাখা হয়েছে যেখানে মাদক উদ্ধারের কোনো বিষয় নেই। ফলে আইনটি অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষকেও পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর সুযোগ বাড়বে”।

তবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একজন মনজিল মোরসেদ বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারই দিতে হবে এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন আইনকে যৌক্তিক বলেই মনে করেন।

“তবে উদ্বেগ তৈরির কারণ হলো এদেশে সব আইনই অপব্যবহার হয়। এখানেও সুযোগ আছে। ফলে আইনটি যারা প্রয়োগ করবেন, তাদের উচিত হবে সতর্ক থাকা যাতে করে কোনোভাবেই অপপ্রয়োগের অভিযোগ না ওঠে। অপপ্রয়োগ হলেই জনমনে প্রশ্ন উঠবে এবং তাতে মাদক বিরোধী অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তার মতে, অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলেই আইনটি প্রয়োগ হবে বলে তিনি মনে করেন।

স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো এই মাদকটি ‘মেথামফিটামিন’ ‘মেথ’ বা ‘ক্রিস্টাল মেথ' নামেও পরিচিত

স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো এই মাদকটি ‘মেথামফিটামিন’ ‘মেথ’ বা ‘ক্রিস্টাল মেথ’ নামেও পরিচিত

মাদক কী ও কোনগুলো

মাদকদ্রব্য হলো একটি রাসায়নিক দ্রব্য যা গ্রহণে মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়ে এবং যা আসক্তি সৃষ্টি করে। মাদক সেবন করলে মানুষের মনোদৈহিক- অর্থাৎ, শরীর ও মস্তিষ্কে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং এটি শারীরিক ও মানসিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে বলে চিকিৎসকরা বলে থাকেন।

বাংলাদেশে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ছাড়াও ইয়াবা কিংবা আইসের মতো মাদকের বিস্তার বাড়ছে এবং এগুলো বিস্তারে অনলাইন প্ল্যাটফর্মই বেশি ব্যবহার হচ্ছে বলে দাবি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

কিন্তু দেশি-বিদেীম মদপান করলেও এই আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির মহাপরিচালক মারুফ হাসান বলেছেন, যাদের পারমিট আছে তাদের নিয়ম মেনে গ্রহণ করতে পারে।

“কিন্তু গণহারে কেউ মদ বিক্রি করলে বা লাইসেন্সের বাইরে বেচাকেনা হলে সেটা অবশ্যই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে,” বলেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক অমুসলিম নাগরিকরা ছাড়াও অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শের কারণে মদ্যপানের পারমিট পেয়ে থাকেন।

এর বাইরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, প্রচলিত অসংখ্য মাদকদ্রব্যগুলোকে আইনে তিন ভাগে রাখা হয়েছে। এতে ‘ক’ শ্রেণীতে পপি গাছ, পপি ফল, কোকো উদ্ভূত মাদক, আফিম, কোকেন, হেরোইন, ফেনটানাইল, মরফিনসহ মনোদৈহিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ধরনের আরও অনেক দ্রব্যাদি।

‘খ’ শ্রেণিতে পড়েছে গাঁজা, ভাং, সিদ্ধিসহ নেশা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে কিংবা আসক্তি সৃষ্টিতে সক্ষম যে কোনো উদ্ভিদ ছাড়াও অ্যালকোহল সহযোগে প্রস্তুত বিভিন্ন তরল বা ঔষধ যা আসক্তি সৃষ্টিতে সক্ষম বা নেশার উপকরণ হিসেবে পান করা হতে পারে। ওয়াইন, বিয়ার, চোলাইমদ, যে কোনো ধরনের মদ কিংবা নেশা সৃষ্টিকারী যাতে শূন্য দশমিক ২ শতাংশের বেশি অ্যালকোহলযুক্ত।

আর ‘গ’ শ্রেণিতে আছে মিথানল ও মিথানল মিশ্রিত যে কোনো তরল রাসায়নিক পদার্থ, স্পিরিট, মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত নয় এমন কোনো বাণিজ্যিক স্পিরিট, তাঁড়ি, পঁচুই ইত্যাদি।

এর বাইরেও আরও বহু মাদক এই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে যেগুলোর নাম খুব একটা পরিচিত নয়।

বিবিসি নিউজ বাংলা