চীনের মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডং গুয়াংপিং সমুদ্রপথে দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শেষে নতুন জীবনে পা রেখেছেন। ৬৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি চীনের শানডং প্রদেশ থেকে ছোট একটি নৌকায় করে যাত্রা শুরু করেন এবং প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমায় পৌঁছান।
ডং জানিয়েছেন, স্বাধীনভাবে বাঁচার আকাঙ্ক্ষাই তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। উত্তাল সমুদ্রে দুই দিন ঘুমহীন অবস্থায়, প্রচণ্ড রোদে পুড়ে এবং সীমিত যোগাযোগ সুবিধা নিয়ে তাকে এগিয়ে যেতে হয়েছে।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর সমুদ্রপথে পালানোর সিদ্ধান্ত
ডং গুয়াংপিং বহু বছর ধরে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছেন। এ কারণে তাকে চীনে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।
তিনি এর আগে কয়েকবার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিবারই নানা বাধার মুখে পড়ে তাকে ফিরে যেতে হয়। তবে দেশ ছাড়ার ইচ্ছা কখনো হারাননি বলে জানান তিনি।

বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় জীবন-মৃত্যুর লড়াই
ডং মাত্র কয়েক ঘণ্টার নৌকা চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ছোট একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা শুরু করেন। তার পরিকল্পনা ছিল সমুদ্র পেরিয়ে অন্য দেশে পৌঁছানো। খারাপ আবহাওয়ার কারণে পথ পরিবর্তন করে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে এগিয়ে যান।
যাত্রার সময় তার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে আসছিল এবং দিকনির্দেশনার জন্য থাকা যন্ত্রের ওপরই তাকে নির্ভর করতে হয়। এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর জেগে উঠে তিনি দেখতে পান, একটি বড় জাহাজের খুব কাছ দিয়ে তার নৌকা চলে গেছে।
তিনি জানান, আরও কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

নতুন দেশে পরিবারের কাছে ফিরে পাওয়া স্বস্তি
দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলে পৌঁছানোর পর ডংকে উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি কানাডায় পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান।
ডং বলেন, বহু বছরের ভয়, কারাবাস ও ব্যর্থ চেষ্টার পর অবশেষে মুক্ত পরিবেশে পৌঁছাতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন। তবে দেশ ছাড়ার আগে মায়ের সঙ্গে নিজের পরিকল্পনা ভাগ করতে না পারার বিষয়টি তার জীবনের বড় আক্ষেপ হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















