ইরানে মার্কিন হামলা আরও বিস্তৃত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দেশটির উত্তরাঞ্চলে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি জাহাজকে লক্ষ্য করেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পাল্টা জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হামলায় হতাহতের দাবি
ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। এতে জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক বাজারে এর প্রভাব পড়ে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আবার কার্যকর করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে চাপ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তির শর্ত মানা না হলে দেশটি আরও বড় সামরিক মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুমকি দিয়েছে, অবরোধ চলতে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান এখনো একটি সমঝোতায় যেতে আগ্রহী। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান হামলা ও পাল্টা হুমকির কারণে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















