সারাক্ষণ রিপোর্ট: সংযুক্ত আরব আমিরাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে বিশ্বমানের একটি বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদনের অনুযায়ী, দেশটির ৪২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এখন AI লিডার হিসেবে স্বীকৃত। “Unlocking Potential: How GCC Organizations Can Convert AI Momentum into Value at Scale” শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল বিশ্বমানের সমমর্যাদা অর্জন করছে না, বরং এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিস্তৃতভাবে প্রতিষ্ঠানব্যাপী সফল বাস্তবায়ন করছে।
‘স্কেলিং’ স্তরে পৌঁছানো প্রতিষ্ঠান
গবেষণায় দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৩৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ‘স্কেলিং’ AI মেচিউরিটি স্তরে পৌঁছেছে। এটি বোঝায় যে তারা পরীক্ষামূলক পাইলট পর্যায় থেকে সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানব্যাপী বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের গড় AI মেচিউরিটি স্কোর ৪৬ এবং শুধুমাত্র ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
কৌশলগত বিনিয়োগ ও জাতীয় উদ্যোগ
বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. লার্স লিটিগ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের AI বাজারে নেতৃত্বের অবস্থান দেশের AI ২০৩১ কৌশল এবং অব্যাহত বিনিয়োগের ফল। GCC অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোও বিশ্ববাজারের সঙ্গে AI গ্রহণের ব্যবধান কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাচ্ছে।
আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব
AI লিডার প্রতিষ্ঠানগুলো GCC অঞ্চলে শেয়ারহোল্ডার রিটার্নে ১.৭ গুণ এবং EBIT মার্জে ১.৫ গুণ বেশি লাভ দেখাচ্ছে AI ল্যাগারদের তুলনায়। ২০২৫ সালে AI লিডাররা তাদের IT বাজেটের ৬.২ শতাংশ AI তে ব্যয় করেছে, যা ল্যাগারদের ৪.২ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২৮ সালের মধ্যে AI থেকে অর্জিত মূল্য ৩ থেকে ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে।
এজেন্টিক AI এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি
GCC অঞ্চলের ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এজেন্টিক AI নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। বর্তমানে এ থেকে ১৭% মান তৈরি হচ্ছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ২৯% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। তবে, AI গ্রহণে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। AI ল্যাগাররা নেতৃত্বের অভাব, সীমিত তথ্য, অ্যালগরিদম বাস্তবায়ন সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অগ্রগতি নির্দেশ করছে, দেশটি কেবল আঞ্চলিক নয়, বিশ্বব্যাপী AI গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















