বগুড়ার গাবতলীতে পরপর তিনদিনে তিনটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ঘটনায় শনিবার রাত সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়ায় পরিবহণ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৪০) কে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। তার মরদেহ বাড়ির পাশে একটি ঘাসের জমিতে পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থল ও পুলিশ তদন্ত
রোববার দুপুরে গাবতলী থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত সাইফুল ইসলাম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়ার জামাল উদ্দিন জামুর ছেলে। তিনি আগে ট্রাক চালাতেন এবং বর্তমানে সাতটি ট্রাকের মালিক ছিলেন। প্রতিদিন গভীর রাতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পরও শনিবার রাতে তিনি বাড়ি পৌঁছাননি। পরিবারের খোঁজাখুঁজির পর রোববার সকালে বাড়ির পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহতের মেয়ে সাদিয়া আকতার জানিয়েছেন, তার বাবা প্রতিদিন রাতে দেরিতে বাড়ি ফিরতেন। শনিবার রাতে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং মোবাইলও বন্ধ ছিল। রোববার সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবার ভীষণ শোকাহত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও সম্ভাব্য কারণ
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন (ক্রাইম) মোহাম্মদ রায়হান জানান, মৃত সাইফুল ইসলামের গলা, মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।

পূর্বের দুটি হত্যাকাণ্ড
এর আগে শুক্রবার সকালে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা ট্যাঙ্ক সাঁকো এলাকায় কিশোর মেকানিক আলিফ শাহ (১৬) কে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। আলিফের শরীরে ১১টি ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন ছিল। একই সময়ে, শনিবার সকাল ৯টায় সদর উপজেলা পরিষদের সামনে মাটিডালি বিমান মোড়ে বখাটেদের ছুরিকাঘাতে ঢালাই শ্রমিক ফাহিম হোসেন (১৯) নিহত হন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসী তনয় (১৯) ও অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
মোট মিলিয়ে তিন দিনে তিনটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড বগুড়ার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। পুলিশ আশা করছে, দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার সম্ভব হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















