ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাদ-সৌর শক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্য অগ্রগতি পাচ্ছে না, যা ভারতের সবুজ শক্তি অর্জনের প্রচেষ্টায় বড় বাধা হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। সরকারি অনুদান থাকলেও ব্যাংক ঋণ অনুমোদনের দেরি এবং রাজ্য-নিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ সংস্থার সীমিত সমর্থনের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ধীর হচ্ছে।
ঋণের বাধা এবং রাজ্যদের হিমশীতল মনোভাব
নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে PM Surya Ghar স্কিমের মাধ্যমে ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর জন্য সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি অনুদান ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ৪ মিলিয়নের লক্ষ্য পূরণের পরিবর্তে মাত্র ২.৩৬ মিলিয়ন বাড়িতে ছাদ-সৌর স্থাপনা হয়েছে। ব্যাংক ও রাজ্য সংস্থাগুলি সঠিক নথি না থাকায় ঋণ অনুমোদনে দেরি করছে এবং অনেক আবেদন বাতিল হচ্ছে।
শ্রেয়া জাই, ক্লাইমেট ট্রেন্ডসের শীর্ষ শক্তি বিশ্লেষক, বলেন, “ব্যাংক ঋণ দেওয়ার অনীহা এবং রাজ্যগুলোর প্রচারণার অভাব ভারতের কয়লাভিত্তিক শক্তি থেকে দূরত্ব নেওয়ার প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে।”

ব্যাংক দেরি ও ঋণ প্রত্যাখ্যানের কারণ
অনেক ব্যাংক আবেদন প্রত্যাখ্যান করছে বা দেরি করছে, যার পেছনে আছে নথি সংক্রান্ত সমস্যা। সরকারি ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “আমরা সরকারি সঙ্গে কাজ করছি একটি মানক নথি প্রণয়নের জন্য, যাতে খারাপ ঋণ এড়ানো যায়। নথি ঠিক না থাকলে ব্যাংক প্যানেলগুলো নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সেগুলো কী হবে?”
ওড়িশার এক সৌর বিক্রেতা চম্রুলাল মিশ্রার মতে, অনেক আবেদন বাতিল হচ্ছে কারণ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি বা জমির কাগজ এখনও মৃত স্বজনের নামে আছে। তবে স্থানীয়রা দাবি করেন, এ সমস্যাগুলো প্রশাসনিক ভুলের কারণে হয়েছে।
রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থার অনীহা
রাজ্য-নিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোও ছাদ-সৌর প্রচারণায় এগোচ্ছে না, কারণ গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি কমে রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা আছে। রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষক নিতীশ শনবোগ বলেন, “ধনী পরিবারগুলো গ্রিড থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বেশি বিল দেয়। তারা ছাদ-সৌরে চলে গেলে রাজস্বের বড় চাপ পড়ে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, PM Surya Ghar স্কিমের মাধ্যমে ৩ মিলিয়নের বেশি পরিবারের সুবিধা হয়েছে, তবে ছাদ-সৌর প্রকল্প এখনও অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বিত।
ভারতের ছাদ-সৌর শক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পে ঋণ এবং রাজ্য সমর্থনের সমস্যা মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের ২০৩০ সালের ৫০০ গিগাওয়াট সবুজ শক্তি লক্ষ্য অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















