সোমবার মুম্বাই থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় রুপির মান সামান্য হ্রাস পেয়েছে, তবে প্রতিসাম্যপূর্ণ প্রবাহ এবং বাজারে নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম এটিকে বড় ধরনের ওঠাপড়া থেকে রক্ষা করেছে। সকাল ১০:৩৬ মিনিটে রুপির মূল্য ডলারের বিপরীতে ৯০.৬৯২৫ স্থায়ী হয়, যা গত শুক্রবারের তুলনায় ০.১ শতাংশেরও কম পতন নির্দেশ করে। প্রথম দেড় ঘণ্টার মধ্যে রুপির বাণিজ্য একটি সীমিত ৮-পাইসের রেঞ্জে সীমাবদ্ধ ছিল।

বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি বিক্রির প্রভাব
মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তির প্রাথমিক উচ্ছ্বাস ঘনিয়ে আসার পর রুপির ওঠাপড়া মূলত স্বল্পমেয়াদি বাজার প্রবাহ এবং আংশিকভাবে বৈদেশিক সংকেতের ওপর নির্ভর করছে। চুক্তির পরপরই বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ও রপ্তানিকারীদের ক্রয় রুপিকে শক্তি জুগিয়েছিল, তবে এই সমর্থন এখন ধীরে ধীরে কমছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই মাসে এখনও ভারতের শেয়ারবাজারে নেট ক্রেতা হিসেবে রয়েছেন, যা জানুয়ারিতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের আউটফ্লোর পরে ইতিবাচক অবস্থান, তবে গত শুক্রবার তারা প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার উত্তোলন করেছে, যা বাজারের অস্থিরতা দেখাচ্ছে।
রপ্তানিকারীদের হেজিং আচরণ
চুক্তির পর রুপির মান ৯২ এর কাছাকাছি থেকে ফিরে আসার পর রপ্তানিকারীরা হেজিং কার্যক্রম বাড়িয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে। মুম্বাই ভিত্তিক একটি ফরেক্স ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, “বাণিজ্য-চুক্তির পরের গতি প্রায় শেষ হয়েছে, এখন রুপির জন্য নতুন প্ররোচনা প্রয়োজন। আমরা মূলত শেয়ারবাজারের প্রবাহ এবং রপ্তানিকারীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছি।”

মার্কিন বন্ড ও চীনা ইয়ুয়ানের প্রভাব
সোমবার মার্কিন আয় বৃদ্ধির হার কমার পর রুপির পাশে সমর্থন পাওয়া গেছে, পাশাপাশি অফশোর চীনা ইয়ুয়ান ডলারের বিপরীতে ৬.৮৮৫৮ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পোর্টফোলিও প্রবাহ, হেজিং কার্যক্রম এবং অবস্থান নেওয়ার মতো দেশীয় উপাদানগুলো এশিয়ার বৃহৎ সংকেতকে ছাপিয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপও রুপির মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















