সাবেক মন্ত্রী ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে এবার পরাজিত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো সংসদে পৌঁছেছেন বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন। তিনি ৪২ হাজার ৮৩৩ ভোটের ব্যবধানে লতিফ সিদ্দিকীকে হারিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন।
এ আসনে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন জাতীয় পার্টির ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা।

লুৎফর রহমান মতিন ও লতিফ সিদ্দিকী দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মতিন প্রথমবার লতিফ সিদ্দিকীর কাছে হেরে যান। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী ৬২ হাজার ৫০৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন, যেখানে মতিন পেয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৪২ ভোট। নির্বাচনে জামায়াত ৫০ হাজার ১৯২ ভোট পেয়েছে। ভোটের সময় কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কালিহাতী উপজেলার ইতিহাসেও এই আসন গুরুত্ব বহন করে। স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা প্রয়াত শাজাহান সিরাজ ১৯৭৯ ও ১৯৮৮ সালে জাসদ থেকে এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালে নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন এবং ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।

শিক্ষানুরাগী লুৎফর রহমান মতিন এলেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত মহিলা কলেজের মাধ্যমে নারী শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, “আমি শ্রদ্ধেয় খালেদা জিয়ার নির্দেশে রাজনীতিতে এসেছি। দীর্ঘদিন ধরে কালিহাতীর মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। দেশের মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।”
কালিহাতী উপজেলায় মোট ভোটার তিন লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন। ভোট পড়েছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৭৭৮ ভোটার। উপজেলা জুড়ে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৪টি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















