ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে সম্পত্তি নিবন্ধনের জন্য “রাষ্ট্রভূমি” হিসেবে নতুন একটি প্রক্রিয়া অনুমোদন করেছে, যা আরব দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সমালোচকদের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ প্যালেস্টাইনিয় অঞ্চলের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ইসরায়েলের যুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নীতি “আইনি বিরোধ সমাধানের জন্য স্বচ্ছ ও বিস্তারিত অধিকার নির্ণয়” নিশ্চিত করবে। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, প্যালেস্টাইনিয় কর্তৃত্বাধীন অঞ্চলে পূর্বে অবৈধভাবে জমি নিবন্ধনের কারণে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে সৌদি আরব, মিশর, কাতার ও জর্ডান এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি “অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা আরোপের চেষ্টা” যা শান্তি প্রচেষ্টা ব্যাহত করবে।
জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয় এই পদক্ষেপকে শান্তি পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টা হুমকির মুখে ফেলার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েলকে এই পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
![]()
প্যালেস্টাইনিয় প্রতিক্রিয়া
রামাল্লাহে অবস্থিত প্যালেস্টাইনিয় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছে যাতে “অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার কার্যত সূচনা এবং প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের ভিত্তি ক্ষুন্ন হওয়া” রোধ করা যায়।
আইনি এবং মানবাধিকার দিক
ইসরায়েলের বিরোধী-নিবাসী সংস্থা ‘পিস নাউ’ এই নীতি “মেগা জমি দখল” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থার সহ-পরিচালক জোনাথন মিজরাচি বলেন, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নতুন সম্পদ বিতরণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া কেবল ‘এলাকা সি’-তে প্রয়োগ হবে, যা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ অঞ্চল এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে। মিজরাচি বলেন, অঞ্চল সি-এর জমির স্বত্ব নিয়ে যে অস্পষ্টতা ছিল তা এখন ইসরায়েল প্যালেস্টাইনিয়দের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে।
পশ্চিম তীরের ভবিষ্যৎ ও নীতি বাস্তবায়ন

প্যালেস্টাইনীয়রা পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে দেখেন। তবে ইসরায়েলের ধর্মীয় দল এবং চরমপন্থীদের মধ্যে এ জমি দখলের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও চরমপন্থী মন্ত্রীরা এমন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে যা প্যালেস্টাইন কর্তৃত্বাধীন এলাকা নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করবে। এতে ইসরায়েলি নাগরিকদের সরাসরি জমি ক্রয় এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থানের প্রশাসন অধিকার দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার হুমকি
সামাজিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে প্যালেস্টাইনীয়দের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকারীদের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভোলকার টার্ক উল্লেখ করেছেন, “অধিকৃত অঞ্চলের জনসংখ্যার স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা, মানুষের জমি ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের বিতাড়িত করা হচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরের অধিগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন এবং বলছেন, অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখে। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষোভ সত্ত্বেও তিনি নতুন ইসরায়েলি পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করেননি।
পশ্চিম তীরের বর্তমান অবস্থায় প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্টে বসবাস করছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ লাখ প্যালেস্টাইনীয় এই অঞ্চলেই বসবাস করছেন, যা ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















