সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফটোগ্রাফির এক আলোচিত্র স্থাপিত হয়েছিল রমেশ শুক্লা নামে এক ভারতীয় ফটোগ্রাফারের হাতে, যিনি “রয়্যাল ফটোগ্রাফার” হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দেশের আধুনিক ইতিহাসকে তাঁর লেন্সে জীবন্ত করে রেখেছিলেন। ৮৭ বছর বয়সে রবিবার ডুবাইয়ের রশিদ হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতায় মৃত্যু হয় তাঁর। শুক্লার ক্যামেরা শুধুমাত্র পেশা ছিল না, বরং সেটা ছিল তাঁর জীবন এবং আবুধাবি ও আরব আমিরাতের রূপান্তরের সাক্ষী।
জীবনের শুরু এবং ক্যামেরার সাথে বন্ধুত্ব
রমেশ শুক্লা ১৯৬০ দশকে মাত্র ২২ বছর বয়সে ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগমন করেছিলেন এবং খুব দ্রুতই তাঁর কাজের জন্য দেশীয় শাসকসহ জমকালো সমাজের নজরে আসেন। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর আবুধাবির ইউনিয়ন হাউসে জাতির প্রতিষ্ঠা চুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তটি তিনি ক্যামেরাবন্দী করে সেই চিত্রটিকে পরের সহস্রাব্দের আবীরভূমিতে রেখে দিয়েছেন। তাঁর সেই ধারালো ফটো এখন দেশের ৫০ দিরহাম নোটে ব্যবহৃত হয়।

নেতৃত্ব ও কাজের প্রতি নিবেদন
বছরজুড়ে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক, সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রতিদিনের জীবনযাত্রার অগণিত মূহূর্ত ক্যামেরায় বন্দি করেছেন। শুধু সরকারি কর্মসূচির ছবি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনের সৌন্দর্যও তিনি নিজের গতিশীল লেন্স দিয়ে খুঁজে বার করেছেন। তাঁর কাজ সঙ্গতিভাবে জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম এবং এথিয়াদ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অটল সহানুভূতি
স্বাস্থ্যঝঞ্ঝার মাঝেও তিনি শেষ দিন পর্যন্ত ক্যামেরা ছাড়েননি। নিজের পুরোনো ছবিগুলো পুনরায় পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার সময়ই তাঁর জীবনের চূড়ান্ত মুহূর্ত এসেছিল, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর পুত্র নীল শুক্লা। মৃত্যুর আগের মুহূর্তেও তিনি কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, এবং তাঁর ক্যামেরা যেন জীবনের মতোই তাঁর সঙ্গে ছিল।
এভাবে রমেশ শুক্লার ক্যামেরা শুধু মুহূর্ত নয়, ইতিহাসও ধরে রেখেছে। আরব আমিরাতের দ্রুত পরিবর্তনশীল রূপ, শাসক ও সাধারণ মানুষের মিলন, আর একটি নতুন জাতির আবির্ভাবের গল্প, সবই তিনি চিরায়তভাবে লেন্সে বন্দি করেছেন। তাঁর কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশটির সংগ্রামী উন্নয়নের গল্প বলে যাবে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















