০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

সিসিলির পাহাড় ধস: সাইক্লোনের আঘাতে নিসচেমিতে দেড় হাজারের বেশি মানুষের সরিয়ে নেওয়া

ইতালির সিসিলি অঞ্চলের পাহাড়ি শহর নিসচেমিতে বড় ধরনের ভূমিধসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে প্রায় আড়াই মাইল দীর্ঘ পাহাড়ের ঢাল ভেঙে পড়ায় অন্তত দেড় হাজারের বেশি মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রবল বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় হ্যারির প্রভাবেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পাহাড় ভাঙনের আতঙ্কে জনজীবন বিপর্যস্ত

২৫ হাজার মানুষের বাস এই শহরে। মাটি ও বেলেপাথরের খাড়া পাহাড়ের ওপর গড়ে ওঠা নিসচেমি অতীতে একাধিকবার ভূমিধসের মুখোমুখি হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারিও সেখানে আরেকটি ধসের ঘটনা ঘটে। তবে জানুয়ারির শেষ দিকের এই ধস ছিল অনেক বেশি বিস্তৃত ও বিপজ্জনক।

প্রবল বর্ষণে দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়ের অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ায় বহু পরিবার রাতারাতি ঘরছাড়া হয়ে পড়ে। প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। নিরাপত্তার স্বার্থে বহু বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়েছে।

Sicily landslide forces evacuation of 1,500

ঐতিহাসিক কেন্দ্র এখন ঝুঁকির মুখে

শহরের বড় অংশ এখনো অক্ষত থাকলেও সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিসচেমির ঐতিহাসিক কেন্দ্রকে ঘিরে। শতবর্ষী স্থাপনা ও পুরনো বাড়িঘর নিয়ে গড়ে ওঠা এই এলাকাটি এখন খাদের কিনারায় ঝুলছে। মাটি আরও সরে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই জানেন না, আদৌ তারা আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

প্রশাসনের নজরদারি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা মাটির স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করছেন। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

নিসচেমির এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে পাহাড়ি শহরগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাইক্লোনের প্রভাবে সৃষ্ট এই ভূমিধস এখন শুধু একটি শহরের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

সিসিলির পাহাড় ধস: সাইক্লোনের আঘাতে নিসচেমিতে দেড় হাজারের বেশি মানুষের সরিয়ে নেওয়া

০৬:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইতালির সিসিলি অঞ্চলের পাহাড়ি শহর নিসচেমিতে বড় ধরনের ভূমিধসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে প্রায় আড়াই মাইল দীর্ঘ পাহাড়ের ঢাল ভেঙে পড়ায় অন্তত দেড় হাজারের বেশি মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রবল বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় হ্যারির প্রভাবেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

পাহাড় ভাঙনের আতঙ্কে জনজীবন বিপর্যস্ত

২৫ হাজার মানুষের বাস এই শহরে। মাটি ও বেলেপাথরের খাড়া পাহাড়ের ওপর গড়ে ওঠা নিসচেমি অতীতে একাধিকবার ভূমিধসের মুখোমুখি হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারিও সেখানে আরেকটি ধসের ঘটনা ঘটে। তবে জানুয়ারির শেষ দিকের এই ধস ছিল অনেক বেশি বিস্তৃত ও বিপজ্জনক।

প্রবল বর্ষণে দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়ের অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ায় বহু পরিবার রাতারাতি ঘরছাড়া হয়ে পড়ে। প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। নিরাপত্তার স্বার্থে বহু বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়েছে।

Sicily landslide forces evacuation of 1,500

ঐতিহাসিক কেন্দ্র এখন ঝুঁকির মুখে

শহরের বড় অংশ এখনো অক্ষত থাকলেও সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিসচেমির ঐতিহাসিক কেন্দ্রকে ঘিরে। শতবর্ষী স্থাপনা ও পুরনো বাড়িঘর নিয়ে গড়ে ওঠা এই এলাকাটি এখন খাদের কিনারায় ঝুলছে। মাটি আরও সরে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই জানেন না, আদৌ তারা আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন কি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

প্রশাসনের নজরদারি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা মাটির স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করছেন। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

নিসচেমির এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে পাহাড়ি শহরগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাইক্লোনের প্রভাবে সৃষ্ট এই ভূমিধস এখন শুধু একটি শহরের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।