১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদে প্রথম অবতরণ বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল। নতুন করে ফিরে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা কি সেই একই উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে পারবে? জেপিমরগান প্রধানের সতর্কবার্তা: ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আনতে পারে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা, প্রাণহানির খবর নেই তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা, কূটনৈতিক বার্তা ও উত্তেজনার টানাপোড়েন হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চরমে, হামলার হুমকিতে পাল্টা জবাবের সতর্কতা ইরানের বেক্সিমকো ফার্মা নির্মিত শিশু হাসপাতালের নতুন বহির্বিভাগ চালু মার্চে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ১৯.৭৮ শতাংশ কমেছে ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে মার্কিন নীতি: বিশ্বকে সতর্কবার্তা তেল আবিবে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, লেবাননে নিহত শিশুদের ছবি নিয়ে প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে

ইরানের ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা: প্রতিবাদের মধ্যেও রয়ে গেছে আশা

ইরানে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ও সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে আজ সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় উত্তেজনা আর আকাঙ্ক্ষা কোনো একসময়ের থেকে বেশি জ্বলজ্বল করছে। ইরানের প্রবাসী একজন লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্বপ্নের মাধ্যমে উঠে এসেছে কিভাবে একটি বন্ধুর সঙ্গে গভীর কথোপকথনে তারা দেশের সম্ভাবনা ও সাংস্কৃতিক শক্তিকে উদযাপন করেছেন। তিনি তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ, স্কুল, শিল্প, সংস্কৃতি এবং মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ভাবা অসম্ভব নয়।

লেখক তাঁর স্বপ্নের বর্ণনায় বলেন, তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন তেহরানে ভোট চাইতে গিয়ে, বৃদ্ধা নারীকে অনুরোধ করছেন তাঁর পছন্দের রাজনৈতিক দলের প্রতি সহানুভূতি জানাতে। স্বপ্নের এই সাধারণ দৃশ্যটি লেখা হয় ইরানের রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভোট ও রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমকে সীমিত করে রেখেছে।

লেখক বলেছেন, তেলের মতো সাধারণ ইচ্ছাগুলোই কখনো কখনো সবচেয়ে বড় স্বপ্নের মতো মনে হয়। তিনি দাবি করেন এখনকার রাজনৈতিক পরিবেশে কোনো স্বতন্ত্র সামাজিকতান্ত্রিক দল বা ইসলামি কাঠামোর বাইরে কোনো দল নিয়ন্ত্রিতভাবে কার্যকর হতে পারে না। সেই কারণেই বহু বছর ধরে তিনি ইরানে থাকতে পারেননি এবং তার রাজনৈতিক মতাদর্শই তাকে “অগ্রহণযোগ্য” করেছে।

স্বপ্নের আরেক দৃশ্যে তিনি ও তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ২০২২ সালের বিরোধী আন্দোলনের সময় দীর্ঘক্ষণ চোখ ভরা কথা বলেছেন। একে অপরের শোক ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য তারা নানা আশা ও আকাঙ্ক্ষার কথা শেয়ার করেছেন। তারা কল্পনা করেছেন ইরানীয় পর্যটন বোর্ডে কাজ করে দেশকে সুদূর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে পরিচয় করানোর, যেখানে শুধু ইসলামিক দর্শনীয় স্থান নয়, ইরানের সমৃদ্ধ শিল্প, কবিতা ও সংস্কৃতিও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

তাদের স্বপ্নে ছিল ইরানের নগরীতে সেরা শিল্পকলা এবং সংস্কৃতির প্রদর্শনী, এমনকি তেহরানের প্রখ্যাত এন্খেলাব স্ট্রিটের বইয়ের দোকানগুলোতে রাজনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রকাশ। এই কল্পনায় দেশের ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে বসবাস করছে, যেখানে কেউ বিরুদ্ধ মতাদর্শের হলেও সকলেই দেশকে নিয়ে ভাবছে।

লেখক মনে করেন, যেসব নীতি ও প্রতিষ্ঠান আজ দেশকে বাঁধা দেয়, সেগুলো যদি সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগে, তাহলে ইরান তার নরম শক্তি দিয়ে বিশ্বে একটি আলাদা পরিচিতি পেতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি কোনো কল্পিত “স্বর্ণপুরুষ পৃথিবী” চায় না; তিনি চায় সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্য দিয়ে একটি কার্যকর সাংসদ ও সরকার গঠিত হোক।

স্বপ্নের শেষ পর্বে তিনি মনে করেন, ইরান শুধু তার নিজের নয়; এই দেশের লোক আর ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে পারে যদি সবাই মিলে দেশকে ভালোবাসতে শিখে। আজ প্রতিদিনের প্রতিবাদের শুরুর দিক থেকে লেখা এই প্রতিবেদনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কঠিন বাস্তবতার মাঝেও মানুষের মনে আশা ও স্বপ্নের আগুন ম্লান হয় না।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদে প্রথম অবতরণ বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল। নতুন করে ফিরে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা কি সেই একই উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে পারবে?

ইরানের ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা: প্রতিবাদের মধ্যেও রয়ে গেছে আশা

০৭:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ও সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে আজ সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় উত্তেজনা আর আকাঙ্ক্ষা কোনো একসময়ের থেকে বেশি জ্বলজ্বল করছে। ইরানের প্রবাসী একজন লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্বপ্নের মাধ্যমে উঠে এসেছে কিভাবে একটি বন্ধুর সঙ্গে গভীর কথোপকথনে তারা দেশের সম্ভাবনা ও সাংস্কৃতিক শক্তিকে উদযাপন করেছেন। তিনি তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ, স্কুল, শিল্প, সংস্কৃতি এবং মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ভাবা অসম্ভব নয়।

লেখক তাঁর স্বপ্নের বর্ণনায় বলেন, তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন তেহরানে ভোট চাইতে গিয়ে, বৃদ্ধা নারীকে অনুরোধ করছেন তাঁর পছন্দের রাজনৈতিক দলের প্রতি সহানুভূতি জানাতে। স্বপ্নের এই সাধারণ দৃশ্যটি লেখা হয় ইরানের রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভোট ও রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমকে সীমিত করে রেখেছে।

লেখক বলেছেন, তেলের মতো সাধারণ ইচ্ছাগুলোই কখনো কখনো সবচেয়ে বড় স্বপ্নের মতো মনে হয়। তিনি দাবি করেন এখনকার রাজনৈতিক পরিবেশে কোনো স্বতন্ত্র সামাজিকতান্ত্রিক দল বা ইসলামি কাঠামোর বাইরে কোনো দল নিয়ন্ত্রিতভাবে কার্যকর হতে পারে না। সেই কারণেই বহু বছর ধরে তিনি ইরানে থাকতে পারেননি এবং তার রাজনৈতিক মতাদর্শই তাকে “অগ্রহণযোগ্য” করেছে।

স্বপ্নের আরেক দৃশ্যে তিনি ও তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ২০২২ সালের বিরোধী আন্দোলনের সময় দীর্ঘক্ষণ চোখ ভরা কথা বলেছেন। একে অপরের শোক ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য তারা নানা আশা ও আকাঙ্ক্ষার কথা শেয়ার করেছেন। তারা কল্পনা করেছেন ইরানীয় পর্যটন বোর্ডে কাজ করে দেশকে সুদূর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে পরিচয় করানোর, যেখানে শুধু ইসলামিক দর্শনীয় স্থান নয়, ইরানের সমৃদ্ধ শিল্প, কবিতা ও সংস্কৃতিও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

তাদের স্বপ্নে ছিল ইরানের নগরীতে সেরা শিল্পকলা এবং সংস্কৃতির প্রদর্শনী, এমনকি তেহরানের প্রখ্যাত এন্খেলাব স্ট্রিটের বইয়ের দোকানগুলোতে রাজনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রকাশ। এই কল্পনায় দেশের ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে বসবাস করছে, যেখানে কেউ বিরুদ্ধ মতাদর্শের হলেও সকলেই দেশকে নিয়ে ভাবছে।

লেখক মনে করেন, যেসব নীতি ও প্রতিষ্ঠান আজ দেশকে বাঁধা দেয়, সেগুলো যদি সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগে, তাহলে ইরান তার নরম শক্তি দিয়ে বিশ্বে একটি আলাদা পরিচিতি পেতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি কোনো কল্পিত “স্বর্ণপুরুষ পৃথিবী” চায় না; তিনি চায় সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্য দিয়ে একটি কার্যকর সাংসদ ও সরকার গঠিত হোক।

স্বপ্নের শেষ পর্বে তিনি মনে করেন, ইরান শুধু তার নিজের নয়; এই দেশের লোক আর ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে পারে যদি সবাই মিলে দেশকে ভালোবাসতে শিখে। আজ প্রতিদিনের প্রতিবাদের শুরুর দিক থেকে লেখা এই প্রতিবেদনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কঠিন বাস্তবতার মাঝেও মানুষের মনে আশা ও স্বপ্নের আগুন ম্লান হয় না।