সিলেট শহরে রমজানের আগেই দৈনন্দিন পণ্যের দামে অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। শহরের অম্বারখানা, বন্দার বাজার, মদিনা মার্কেট, সুবিদ বাজার ও কাজির বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাংস ও মাছের দোকানগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের শুরুতে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি যেখানে এক কেজি মুরগি বিক্রি হতো ১৬৫ টাকা, সেখানে বর্তমানে তা ১৮৫–১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই ধারা দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের মাছের কেজি দামে ২৫–৫০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে।
ইফতারে সাধারণত ব্যবহৃত কলার দামও বেড়েছে। আকার অনুযায়ী এক গুচ্ছ কলার দাম ৫–১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আপেল ও কমলার দামও গত সপ্তাহের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কিছুদিন আগে যেখানে লেবুর দাম ৩০–৪০ টাকা ছিল, সেখানে এখন তা আকার অনুযায়ী ৯০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার কেজি দামেও নাটকীয় বৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে গত সপ্তাহে ৩০–৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ৮০–১০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি দামের ঊর্ধ্বগতি খুচরা বিক্রয়েও প্রভাব ফেলছে।
তালতলা এলাকার আবদুল কাদের বলেন, “রমজানে সাধারণত দাম বাড়ে, কিন্তু এবার আগে থেকেই বেড়েছে। বাজারের দাম সরকারি তালিকার সঙ্গে মেলেনা, যা কম আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।” বন্দার বাজারের একজন মাংস ব্যবসায়ী জানান, সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম হলেও চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। “সেজন্য বাজারে দাম সামঞ্জস্য হচ্ছে। পাইকারি থেকে আমাদেরকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা রাফিন সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি নগর ভবনে এক সভায় ব্যবসায়ীদের রমজানে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন। সভায় নির্ধারিত হয়েছে গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা, ভেড়া মাংস কেজি ৬৫০ টাকা, ছাগল মাংস কেজি ১,১০০ টাকা, মাটন ও শ্যাপ মাংস কেজি ১,০০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা, সাধারণ মুরগি ১৭০ টাকায় বিক্রি করতে হবে। মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ভেজাল প্রতিরোধ ও নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
তবে বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা সরকারি তালিকা উপেক্ষা করে অনেক বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন। ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, গরুর মাংস কেজিতে ৮০০–৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং বিভিন্ন দোকানে দামে ব্যাপক বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাহিদা ও সরবরাহের সুষমা বজায় রাখা এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করলে রমজানের আগে বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানিয়েছেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যারা নির্ধারিত মূল্যের ঊর্ধ্বে মাংস বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















