১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার বদল সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু ইউক্রেনের ‘ভ্যাম্পায়ার’ ড্রোন: কখন মৃত্যুর দূত, কখন সামনের সারিতে খাবার পৌঁছে দেয় জেসি জ্যাকসনের মৃত্যু: নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বজ্রকণ্ঠের অবসান রমজানে ৯০ হাজার কোরআন বিতরণ ঘোষণা, ধর্মচেতনা ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে উদ্যোগ রমজান উদযাপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশাল উদ্যোগ: ৬৬ নতুন মসজিদ, ২০ জন পণ্ডিত ও ১২,৫০০ গাছের চারা ইরানে নিহতদের ৪০ দিনের স্মরণে সরকারিভাবে দমনতন্ত্র, জনআন্দোলনে উত্তেজনা নেতানিয়াহুর নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কি ঝুঁকিতে

অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

ইউরোপজুড়ে জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের ঘাটতির মধ্যে অভিবাসন নীতিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন সরকার। কেন্দ্র-বামপন্থী প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, দেশটিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সরকার মনে করছে, অর্থনৈতিক লাভ ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে।

অর্থনীতির চাপে নীতি বদল

বিশ্বের বহু ধনী দেশ বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছে। একদিকে অভিবাসন বাড়ালে অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, কর রাজস্ব বাড়ে এবং কমতে থাকা শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণ হয়। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে অভিবাসন অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা ভোটার অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই স্পেন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। ইউরোপে দেশটির জন্মহার অন্যতম কম এবং স্থানীয় শ্রমশক্তি দ্রুত কমছে। তাই সরকার মনে করছে, অভিবাসীদের বৈধতা দিলে তারা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত হবে এবং কর দেবে, যা রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক।

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

তবে সিদ্ধান্তটি সর্বমহলে সমর্থন পায়নি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নতুন নীতি জনসেবার ওপর চাপ বাড়াবে এবং জাতীয় পরিচয়ের জন্য হুমকি হতে পারে। বিশেষ করে ডানপন্থী রাজনীতিতে এই ইস্যু বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

তবুও সরকার ব্যবসায়ী মহল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে, যা নীতিটি বাস্তবায়নে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর স্পেনে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৪০ শতাংশই পূরণ করেছেন অভিবাসীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে বৈধতা পাওয়া অভিবাসীরা অনানুষ্ঠানিক কম মজুরির কাজ ছেড়ে ভালো বেতনের চাকরিতে ঢুকেছেন এবং প্রতি বৈধকৃত অভিবাসী থেকে বছরে প্রায় চার হাজার ইউরো অতিরিক্ত কর রাজস্ব এসেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীরা স্থানীয়দের সঙ্গে নয়, বরং অন্য অভিবাসীদের সঙ্গেই বেশি প্রতিযোগিতায় জড়ান, ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়ে।

অভিবাসীর জীবনের বাস্তবতা

পেরু থেকে আসা মারিতা গনসালেস নামের এক অভিবাসী দুই সন্তান নিয়ে স্পেনে এসে বয়স্কদের দেখাশোনার কাজ করছেন। মাসে প্রায় ৭৫০ ইউরো আয় করলেও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্থিতিশীল জীবন পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, তারা সাহায্য নিতে নয়, কাজ করতে এসেছেন—কিন্তু কাজের জন্য প্রয়োজন বৈধতা।

সরকার বলছে, এ ধরনের মানুষকে বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনাই আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতির জন্য বেশি উপকারী।

সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, জনমত অনেকটাই নির্ভর করে মানুষ মনে করে কি না যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আছে। স্পেনের ক্ষেত্রে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার তুলনামূলক কম এবং অনেক অভিবাসী পর্যটক ভিসায় এসে পরে থেকে যান। ফলে সীমান্ত অগোছালো—এমন ধারণা কম তৈরি হয়।

অন্য দেশে কি সম্ভব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেনের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি অন্য দেশে প্রয়োগ করা কঠিন হতে পারে। লাতিন আমেরিকার সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবুও অভিবাসনকে অর্থনৈতিক প্রয়োজন হিসেবে তুলে ধরার কৌশল অনেক দেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি

অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

১০:০০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপজুড়ে জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের ঘাটতির মধ্যে অভিবাসন নীতিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন সরকার। কেন্দ্র-বামপন্থী প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, দেশটিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সরকার মনে করছে, অর্থনৈতিক লাভ ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে।

অর্থনীতির চাপে নীতি বদল

বিশ্বের বহু ধনী দেশ বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছে। একদিকে অভিবাসন বাড়ালে অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, কর রাজস্ব বাড়ে এবং কমতে থাকা শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণ হয়। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে অভিবাসন অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা ভোটার অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই স্পেন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। ইউরোপে দেশটির জন্মহার অন্যতম কম এবং স্থানীয় শ্রমশক্তি দ্রুত কমছে। তাই সরকার মনে করছে, অভিবাসীদের বৈধতা দিলে তারা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত হবে এবং কর দেবে, যা রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক।

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

তবে সিদ্ধান্তটি সর্বমহলে সমর্থন পায়নি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নতুন নীতি জনসেবার ওপর চাপ বাড়াবে এবং জাতীয় পরিচয়ের জন্য হুমকি হতে পারে। বিশেষ করে ডানপন্থী রাজনীতিতে এই ইস্যু বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

তবুও সরকার ব্যবসায়ী মহল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে, যা নীতিটি বাস্তবায়নে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর স্পেনে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৪০ শতাংশই পূরণ করেছেন অভিবাসীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে বৈধতা পাওয়া অভিবাসীরা অনানুষ্ঠানিক কম মজুরির কাজ ছেড়ে ভালো বেতনের চাকরিতে ঢুকেছেন এবং প্রতি বৈধকৃত অভিবাসী থেকে বছরে প্রায় চার হাজার ইউরো অতিরিক্ত কর রাজস্ব এসেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীরা স্থানীয়দের সঙ্গে নয়, বরং অন্য অভিবাসীদের সঙ্গেই বেশি প্রতিযোগিতায় জড়ান, ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়ে।

অভিবাসীর জীবনের বাস্তবতা

পেরু থেকে আসা মারিতা গনসালেস নামের এক অভিবাসী দুই সন্তান নিয়ে স্পেনে এসে বয়স্কদের দেখাশোনার কাজ করছেন। মাসে প্রায় ৭৫০ ইউরো আয় করলেও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্থিতিশীল জীবন পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, তারা সাহায্য নিতে নয়, কাজ করতে এসেছেন—কিন্তু কাজের জন্য প্রয়োজন বৈধতা।

সরকার বলছে, এ ধরনের মানুষকে বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনাই আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতির জন্য বেশি উপকারী।

সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, জনমত অনেকটাই নির্ভর করে মানুষ মনে করে কি না যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আছে। স্পেনের ক্ষেত্রে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার তুলনামূলক কম এবং অনেক অভিবাসী পর্যটক ভিসায় এসে পরে থেকে যান। ফলে সীমান্ত অগোছালো—এমন ধারণা কম তৈরি হয়।

অন্য দেশে কি সম্ভব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেনের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি অন্য দেশে প্রয়োগ করা কঠিন হতে পারে। লাতিন আমেরিকার সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবুও অভিবাসনকে অর্থনৈতিক প্রয়োজন হিসেবে তুলে ধরার কৌশল অনেক দেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।