চীনা নেতৃত্ব ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির ফলে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার পরিকল্পনা শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিং চাইনিজ অর্থনীতি এবং শিল্প ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে এমন একটি বহুদলীয় বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তুলছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন চাপ থেকে মুক্ত থাকার পথ সুগম করবে।
চীনের নতুন বাণিজ্য কৌশল
গত তিন বছরে চীনের নীতি নির্ধারকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের কৌশল পুনর্বিন্যাস করেছেন। তারা এমন একটি বিশ্ববাণিজ্য কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে যেখানে চীন কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গালফ সহযোগিতা পরিষদ এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের মতো বড় অর্থনৈতিক ব্লকগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চীনের বাণিজ্য আলোচনায় কুয়েত, ক্যানাডা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুবিধা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করছে, যা ট্রাম্প আমলে শুরু হওয়া অনিশ্চয়তার সুযোগ কাজে লাগানোর অংশ।
অন্তর্দ্বন্দ্ব ও প্রতিকূলতা
বিশ্ববাণিজ্যে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব অনেক অংশীদারের জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি এবং অতিরিক্ত উৎপাদন অন্যান্য দেশের স্থানীয় শিল্পকে চাপ দিতে পারে। কিছু গবেষক বলছেন, এটি খালি কথার সমন্বয় নয়, বরং বহুদলীয় বাণিজ্য ব্যবস্থায় চীনের অবস্থান শক্ত করার বাস্তব কৌশল। তবে ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকান বাণিজ্য প্রতিনিধিরা চীনের প্রচেষ্টাকে অনেকক্ষেত্রে ‘প্রচারমূলক’ হিসেবে দেখছেন।
চীনের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ
চীন কেবল চুক্তি স্বাক্ষরে সীমাবদ্ধ থাকছে না, তারা ডিজিটাল বাণিজ্য এবং কাস্টমস ব্যবস্থায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। চীনের মূল লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আলাদা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, বিশেষ করে মার্কিন চাপের প্রেক্ষাপটে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















